https://www.prothomalony.com/
13313
new-york
নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের সবকটি বিমানবন্দরে আগামী ৭ মে থেকে রিয়েল আইডি বাধ্যতামূলকের বিধান কার্যকর হচ্ছে। যার ফলে বিমানে পাসপোর্ট ছাড়া যাত্রা করার জন্য যাত্রীদেরকে একটি রিয়েল আইডি নিয়ে চলতে হবে। তবে যারা গ্রিনকার্ডধারী বা সিটিজেন নয় তারা রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড আইডি পাবেন না।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির পোর্ট কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এখন থেকে কেউ যদি পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের চেকপয়েন্টে রিয়েল আইডি অনুযায়ী পরিচয়পত্র বা তাদের অনুমোদিত অন্য কোনো বিকল্প পরিচয়পত্র দেখাতে না পারেন তাহলে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে। এ ছাড়া দীর্ঘ অপেক্ষা এবং বিমানে ওঠার অনুমতি না পাওয়ার মতো সমস্যায়ও পড়তে হতে পারে।
জানা গেছে, রিয়েল আইডি হচ্ছে একটি ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি উন্নতমানের পরিচয়পত্র। যা বিমানবন্দর এবং সরকারি ভবনে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হবে। এটি সাধারণত রাজ্য সরকারের দেওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পরিচয়পত্রের উন্নত সংস্করণ। যেখানে একটি বিশেষ তারা চিহ্ন থাকে।
২০১৯ সালে করোনার সময় রিয়েল আইডি করার নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় পেছানোর পর ৭ মে থেকে এটি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। রিয়েল আইডি ছাড়াও যারা পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট কার্ড ছাড়াই বিমানে অভ্যন্তরীণ রুটে ভ্রমণ করতে চান তাদের জন্যও এই আইডি অপরিহার্য।
নিউইয়র্কের নাগরিকরা তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিয়ে রিয়েল আইডি তৈরি করতে পারবেন। নিউইয়র্ক সিটির ডিএমভির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৭ মে থেকে ফেডারেল আইন অনুসারে রিয়েল আইডি বাধ্যতামূলক হবে। শুধুমাত্র সিটিজেন ও গ্রিনকার্ডধারীরা এটি পেতে পারবেন।
পোর্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যারা পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রি-প্রশিক্ষিত সুবিধা ব্যবহার করেন তারাও এই নিয়মের বাইরে নন। এমনকি অভিভাবকরা যদি কোনো শিশু যাত্রীকে বিমানবন্দরের গেট পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চান তাদেরও রিয়েল আইডি বা অনুমোদিত অন্য কোনো পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। যদিও পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনে ১৮ বছরের নিচে শিশুদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র চায় না। কিন্তু অনেক বিমান সংস্থার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী শিশুর পরিচয় যাচাই করার নিয়ম থাকে।
নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে বাড়তি সমস্যা এড়াতে যাত্রীদের ভ্রমণের পূর্বে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে গিয়ে পরিচয়পত্রের গ্রহণযোগ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রার দিন বিমানের নির্ধারিত টার্মিনালে নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের অপেক্ষার সময়ও অনলাইনে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম কয়েক দিনে যাত্রীদের বাড়তি ভিড় ও বিলম্বের আশঙ্কা থাকায় পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে বলা হয়েছে।
বর্তমানে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন যেসব পরিচয়পত্র গ্রহণ করছে
পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন এখন থেকে বেশ কিছু নতুন পরিচয়পত্র গ্রহণ করবে। যেগুলো ফেডারেল নিরাপত্তা নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানভ্রমণের সময় বিভিন্ন ধরনের পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে।
এখন থেকে রিয়েল আইডি সম্মত ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পরিচয়পত্র, মার্কিন পাসপোর্ট বা গ্রিন কার্ড, এবং বিশ্বস্ত যাত্রী কার্ড (যেমন গ্লোবাল এন্ট্রি, নেক্সাস, সেনট্রি বা ফাস্ট কার্ড) গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, মার্কিন সরকারের প্রতিরক্ষা দপ্তরের পরিচয়পত্র, বৈধ বিদেশি পাসপোর্ট, সীমান্ত পারাপারের কার্ড এবং স্বীকৃত উপজাতি বা গোত্র কর্তৃক প্রদত্ত ছবিসহ পরিচয়পত্রও প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া, পরিবহনকর্মীদের পরিচয়পত্র, মার্কিন অভিবাসন দপ্তরের কর্মসংস্থান অনুমতি কার্ড (আই-৭৬৬), মার্কিন মেরিনার পরিচয়পত্র, এবং সাবেক সেনা সদস্যদের স্বাস্থ্য পরিচয়পত্রও নতুন নিয়মের আওতায় থাকবে।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন