https://www.prothomalony.com/

12932

north-america

উত্তর আমেরিকা

গণহত্যা দিবসে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ‍্য শাখার সমাবেশ

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৫ ১০:৩৫

‘একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র, নিরপরাধ ও ঘুমন্ত সাধারণ বাঙালির ওপর যেভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তা পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যা।নির্মূল কমিটির আন্দোলনের ফলে ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ২৫ মার্চ সরকারিভাবে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। একটি জনগোষ্ঠীর স্বাধিকারের দাবিকে চিরতরে মুছে দিতে পরিকল্পিত এই হত্যাযজ্ঞের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’।’

পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনারে মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) যুক্তরাজ‍্য একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আয়োজনে জাতীয় গণহত্যা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ও রণাঙ্গনে যে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জুয়েল রাজের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলাম।

সৈয়দ এনামুল ২৫ মার্চ কাল রাত্রিতে অপারেশন সার্চ লাইট নাম দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত বাঙালির উপর কিভাবে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা তুলে ধরেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ঘাতকদের বিচারের জন্য মহিয়সী নারী শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা রুমির মাতা জাহানারা ইমাম একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যে গঠন করেছেন, তার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দোসর কিছু যুদ্ধাপরাধীর বিচার হলেও অধিকাংশ যুদ্ধাপরাধী এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে, সে সঙ্গে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর যারা হত্যাযজ্ঞ সাধন করেছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন, ফয়জুর বহমান খান, সংগঠনের উপদেষ্টা আবু মুসা হাসান ও গৌস সুলতান।

মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, ‘২৫ মার্চ সারা দেশে ও সব বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ঢুকে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মচারীদের হত্যা করেছে হানাদাররা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ... প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো, শুনে তাঁরা উদ্ধুদ্ধ হয়েছিলেন এবং ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।’

বক্তারা আরো বলেন, ‘২৫ মার্চ যেমন বিভীষিকাময় কাল রাত্রি, তেমনি প্রতিরোধের রাতও বলা যায়। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং আমরা নিজেরাও বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেট তৈরি করে পাকিস্তানী সৈন্যদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি সেদিন।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি সৈয়দ আনাস পাশা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনসার আহমেদ উল্লাহ, সহ-সভাপতি নিলুফা ইয়াসমীন হাসান ও জামাল আহমেদ খান, সহ সাধারণ সম্পাদক শাহ বেলাল, সহ-সভাপতি মুনিরা পারভীন ও স্মৃতি আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা নাজনীন শিখা, সংগঠনের উপদেষ্টা হামিদ মোহাম্মদ, সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, টিভি উপস্থাপক ঊর্মি মাযহার, নাজমা রহমান, উদিচীর সভাপতি নুরুল ইসলাম, সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার বিন আলী, জাসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মজিবুল হক মণি, সাংস্কৃতিক কর্মী শাহাবুদ্দিন বাচ্চু, অসীমা দে, সৈয়দ হামিদুল হক, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ চৌধুরী, সাবেক ডিপুটি মেয়র শহীদ আলী, শতরূপা চৌধুরী, এমএইচ মিঠু, রানা মাহের, লিপি ফেরদৌসী।

কাল রাত্রির স্মরণ অনুষ্ঠানে গণহত্যা নিয়ে স্বরচিত কবিতা ‘আমি বীরাঙ্গনা’ পাঠ করেন কবি ও অভিনয় শিল্পী মাহফুজা তালুকদার।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন