https://www.prothomalony.com/

12800

north-america

উত্তর আমেরিকা

গাজায় বেঁচে থাকার জন্য নিজের সাথে মিথ্যা বলতে হবে!

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৫ ০৩:০৩

গাজার আকাশে প্রতিদিনই ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান উড়ে যায়, আর নিচে পৃথিবীটা যেন ধ্বংসস্তূপ। প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি শ্বাস যেন মৃত্যুর কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। গাজার মানুষের জন্য বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়—নিজের সাথে মিথ্যা বলা। গাজার একজন পদার্থবিদ এবং লেখক কাসেম ওয়ালিদ নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লিখেছেন, যত বেশি নিজেকে মিথ্যা বলেছি, ততই বেঁচে থাকতে পেরেছি। গাজার এই অবর্ণনীয় জীবনযুদ্ধে, মিথ্যা বলাটাই যেন একমাত্র উপায়। যার সাহায্যে ভঙ্গুর এই অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখা যায়।

২০০৮-২০০৯ সালের যুদ্ধের সময় কাসেম নিজেকে বলেছিলেন, এটা আর কখনও ঘটবে না। কিন্তু সেই মিথ্যা ছিল স্বপ্নের মতো, যা মুহূর্তেই ভেঙে যায়। ২০১২, ২০১৪, ২০২১, এবং ২০২৩ সালের যুদ্ধের সময়, যখন আকাশে বোমার শব্দ আর মাটি কাঁপে, কাসেম নিজেকে বলেছিলেন, এটাই শেষ, আর কোনো যন্ত্রণা হবে না। কিন্তু বাস্তবতা ছিল আরও বিভীষিকাময়। কাসেম যখন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তার মাকে আঁকড়ে ধরে কাঁদছিল, তখন তিনি এক অজানা ভবিষ্যতের শঙ্কায় কাতর ছিলেন। "এটাই আমাদের জীবনের শেষ পর্ব," তিনি মনে মনে বলেছিলেন। কিন্তু এমন মৃত্যুকে মেনে নিয়ে বেঁচে থাকা কি সম্ভব?

প্রতিটি হামলার পর, প্রতিটি বোমাবর্ষণের পর কাসেম নিজেকে আরও একবার মিথ্যা বলেছিলেন,বিশ্ব আমাদের জন্য দাঁড়াবে, আমাদের জন্য কিছু করবে। কিন্তু সেই মিথ্যা আবারো ভেঙে পড়েছিল। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে হামলা চালিয়ে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। তখন কাসেম নিজেকে বলেছিল, বিশ্ব আমাদের পক্ষে দাঁড়াবে, গাজার শপথ নেবে। কিন্তু কিছুই ঘটেনি।

গাজার মানুষের জীবন যেন এক অসম্ভব যুদ্ধ, যেখানে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন মিথ্যা বলতেই হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে, যখন কাসেম আবারও বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। তখনও তিনি নিজেকে বলেছিলেন, এবার আর কোনো বিপদ হবে না। কিন্তু সেই আশাও ফুরিয়ে গেল। তিনি যখন পরিবারের সঙ্গে আল-মাওয়াসি শিবিরে খাবার না পেয়ে অসহায় ছিলেন। তখনও মনে মনে বলেছিলেন, বিশ্ব আমাদের সাহায্য করবে, গাজার মানুষ কোনো দিন নিঃশেষ হবে না। কিন্তু পৃথিবী আবার নীরব।

কাসেমের এই করুণ অভিজ্ঞতা গাজার লাখো মানুষের শোক, যন্ত্রণা, এবং অনাহার কেবল এক চরিত্র। গাজার মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম যেন পৃথিবী থেকে অদৃশ্য। এই দীর্ঘ ১৫ মাসে, ইসরায়েলি হামলা, অনাহার, আতঙ্কের মাঝেও, কাসেম নিজের প্রতি একদম সৎ হতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, আমি বাঁচতে চাই, মিথ্যা বলতে চাই না।

এখন প্রশ্ন উঠছে, কবে থামবে এই হত্যাযজ্ঞ? কিভাবে শেষ হবে এই অসীম যন্ত্রণা? গাজার প্রতিটি সন্তান, প্রতিটি মা, প্রতিটি মানুষ জানে, তাদের জীবন ছিন্নভিন্ন হয়েছে। তাদের কষ্ট অনন্ত, আর পৃথিবীবাসী বসে বসে শুধু দেখছেই।


লেখক: কাসেম ওয়ালিদ
গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনি পদার্থবিদ এবং লেখক।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন