https://www.prothomalony.com/
12799
north-america
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে গত কয়েকদিনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একটি বিচারককে অভিশংসন করার দাবি জানালেও, প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সেটি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে সেই বিচারককে নিয়ে, যিনি ট্রাম্পের অভিবাসী বিতাড়ন পরিকল্পনা বাতিল করেছিলেন।
সোমবার (১৭ মার্চ) ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশাল'-এ একটি উত্তপ্ত পোস্টে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ জেমস ই. বোয়াসবার্গকে "অশান্তিকারী ও উত্তেজনাকারী" আখ্যা দিয়ে তার অপসারণ দাবি করেন। বোয়াসবার্গ ১৮শ শতকের "অ্যালিয়েন এনিমি অ্যাক্ট" ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলার অভিবাসীদের দ্রুত ডিপোর্ট করার ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন।
ট্রাম্পের এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় প্রধান বিচারপতি রবার্টস এক বিরল বিবৃতিতে বলেন, বিচারিক রায়ের বিরোধিতা করে অভিশংসনের পথ কখনোই সংবিধানসম্মত নয়। দুইশ বছর ধরে আপিল প্রক্রিয়াই এ ধরনের বিরোধের সমাধান করে এসেছে। এই মন্তব্যকে ট্রাম্পের সরাসরি সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, এই বিচারক কিছুই জিতেনি! আমি একটি বিশাল জনসমর্থন নিয়ে জয়ী হয়েছি, আর অবৈধ অভিবাসন মোকাবেলা ছিল আমার বিজয়ের মূল কারণ। এমন 'বিচারক'দের অভিশংসন করা উচিত!" তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার অভিবাসীদের বিতাড়ন করা তার ভোটারদের ইচ্ছা পূরণের অংশ।
বিচারকদের কাজে হস্তক্ষেপ করে অভিশংসন করার দাবি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন ১৮শর দশকের "অ্যালিয়েন এনিমি অ্যাক্ট" ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের বিতাড়ন করতে চাইলেও এটি একটি বিতর্কিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা শতাধিক অভিবাসীকে টেক্সাস ও ফ্লোরিডা থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া শুরু হয়েছিল, কিন্তু বোয়াসবার্গের আদেশে এই ফ্লাইটগুলো এখন স্থগিত করা হয়েছে। আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনটির অপব্যবহার করছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।
ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে "বিচার বিভাগের উপর হস্তক্ষেপ" বলে নিন্দা করেছেন। তবে, রিপাবলিকানদের একাংশ ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, সীমান্ত সংকট সমাধানে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।
এদিকে, বোয়াসবার্গের রায়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল আপিল কোর্টে আপিল করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, প্রধান বিচারপতি রবার্টসের হস্তক্ষেপ ইতিমধ্যেই প্রশাসন ও আদালতের মধ্যে উত্তপ্ত সম্পর্ক তৈরি করেছে।
কনস্টিটিউশনাল ল’ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর লরা হোয়াইট বলেন, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি পৃথকীকরণ নীতির মূল ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে। বিচারকদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রক্ষা করা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন