https://www.prothomalony.com/
12709
north-america
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৫ ০০:৫৪
মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত আরাকান আর্মি (এএ) বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের ৮০ শতাংশেরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এই পরিবর্তন ভারতের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে তাদের `অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির আওতায় মিয়ানমারের সঙ্গে অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে।

সূত্র মতে, আরাকান আর্মি রাখাইনের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো দখল করলেও এখনো রাজধানী সিত্তে, চীনা-সমর্থিত কিয়াউকফিউ বন্দর এবং মানাউং দ্বীপ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দখলে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। যা ভারতের জন্য নতুন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে।
ভারতের উদ্বেগ ও করণীয়
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগ উন্নত করতে কলাদান মাল্টি-মডেল প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। যা রাখাইন রাজ্যের পালেতওয়ার মাধ্যমে ভারতের মিজোরামের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। কিন্তু বর্তমানে পালেতওয়া আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় ভারতের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত হয়তো এএ’র সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করবে। যাতে রাখাইনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায় এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব প্রতিহত করা যায়।
স্টিমসন সেন্টারের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ভারতের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলগুলো দক্ষিণ এশিয়ার বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। এর ফলে, আরাকান আর্মির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা ভারতের জন্য এক ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এটি বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকট: ভারতের জন্য বড় বাধা
বিশ্লেষকরা বলছেন, আরাকান আর্মির সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে গেলে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হবে রোহিঙ্গা সংকট। এএ এখনও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বা প্রত্যাবাসন নিয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান নেয়নি। এর ফলে, ভারত যদি এএ’র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। তবে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতকে সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে। এএ’র সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক তৈরি করতে হলে তাদেরকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। অন্যথায়, ভারতের এই কৌশল ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
মূল লেখক: টিন শাইন অং। পরামর্শদাতা পরিচালক, ইয়াঙ্গুনের শ্বেতাংথাগাথু রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ সেন্টারের (এসআরআইসি); তিনি বর্তমানে পর্তুগালের লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাসটেইনেবিলিটি সায়েন্সে পিএইচডি করছেন।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন