https://www.prothomalony.com/

12583

opinion

অভিমত

বাংলাদেশে ইউএসএইডের ২৯ মিলিয়ন ডলারের বিতরণ: কোথায় গেল এই তহবিল?

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৪:০১

সম্প্রতি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের এক অজানা প্রকল্পকে দুই কোটি ৯০ লাখ ডলার দেওয়া নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির গভর্নরদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শক্তিশালী করতে দুই কোটি ৯০ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছে। এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান পেয়েছে, যার নাম আগে কেউ শোনেনি।

এর আগে, ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডিওজিই) ঘোষণা করেছিল যে, তারা ‘ভারতে ভোটার টার্নআউট বৃদ্ধির জন্য’ ২১ মিলিয়ন ডলারের ইউএসএইড তহবিল বাতিল করেছে, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। এ নিয়ে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএইড এর অনুমোদিত ২১ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সম্ভবত বাংলাদেশের জন্য ছিল, ভারতের জন্য নয়।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, মাস্ক নেতৃত্বাধীন ডিওজিই দ্বারা উল্লেখিত ২১ মিলিয়ন ডলারের পরিমাণটি ইউএসএইড-এর একটি চলমান গ্রান্টের সাথে মেলে, যা সিইপিপিএস-কে প্রদান করা হয়েছে। ইউএসএইড থেকে মোট ৪৮৬ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে, মোল্দোভায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া উন্নয়নের জন্য ২২ মিলিয়ন ডলার এবং ভারতের ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য ২১ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছিল। এই তহবিল সিইপিপিএসকে সেপ্টেম্বর ২০১৬ এ দেওয়া হয়েছিল। এটি ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত চলার কথা ছিল, এবং এখন পর্যন্ত ১৩.২ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করা হয়েছে।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ডেটা সূত্র অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে ভারতে ইউএসএইড-অর্থায়িত সিইপিপিএস (কনসোরটিয়াম ফর ইএন্ড পলিটিকাল প্রোসেস স্ট্রেন্থেনিং) প্রকল্পের কোন কার্যক্রম নেই। তবে, ২১ মিলিয়ন ডলারের তহবিল এবং ভোটিংয়ের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত একমাত্র চলমান ইউএসএইড গ্রান্টটি (যার ফেডারেল অ্যাওয়ার্ড আইডেন্টিফিকেশন নম্বর 72038822LA00001) জুলাই ২০২২ এ বাংলাদেশের জন্য ‘মাই ভোট ইজ মাইন’ নামক এক প্রকল্পের জন্য অনুমোদিত হয়েছিল। এটি ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত তিন বছর চলার পরিকল্পনা ছিল, যার মধ্যে ১৩.৪ মিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে ব্যয় হয়েছে।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ অনুযায়ী, নভেম্বর ২০২২ সালে, এই গ্রান্টের উদ্দেশ্য পরিবর্তন করে ইউএসএইড-এর নাগরিক প্রোগ্রাম করা হয় যা বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এখনো পর্যন্ত ‘মাই ভোট ইজ মাইন’ প্রকল্পটির বিস্তারিত কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। এখনো স্পষ্ট নয়, ‘মাই ভোট ইজ মাইন’ নামক প্রকল্পের অর্থ কোথায় গেছে বা এটি কে নিয়েছে। প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ব্যয় করা কিছু টাকা তুলে ধরলেও, পুরো তহবিলের ব্যবহারের বিষয়ে যথাযথ তথ্য এখনও অনুপস্থিত, যা এই প্রকল্পের ব্যাপারে সন্দেহ আরও গভীর করে তুলেছে।

প্রকাশিত রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ নির্বাচনের আগে ‘রাজনৈতিক এবং নাগরিক অংশগ্রহণ’ এর জন্য ১৩.৪ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছিল, যার একটি অংশ ইতোমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে।

২০২২ সালে বরাদ্দ করা এই তহবিল, যা ২০২৫ জুলাই পর্যন্ত চলার পরিকল্পনা ছিল এবং ইতোমধ্যে ১৩.৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, এটি ২০২৪ সালের বাংলাদেশের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে, যা শেখ হাসিনা সরকারের দেশত্যাগের সাত মাস আগে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে এই তহবিলের ব্যবহারের ব্যাপারেও এখনো পর্যন্ত কোনো স্পষ্টতা নেই, যা বেশ কিছু সন্দেহের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে, যদি এই অর্থের কোনো অংশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা বিশেষ দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে তা সরকারের অবাধ এবং ন্যায্য নির্বাচন পরিচালনার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।

তবে এখন পর্যন্ত এর ব্যবহারের সঠিক রিপোর্ট পাওয়া যায়নি, এবং প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সম্পর্কেও পরিষ্কার তথ্য অনুপস্থিত। ফলে, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটা বড় প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করা উচিত।

অভিমত থেকে আরো পড়ুন