https://www.prothomalony.com/
12369
north-america
নিউইয়র্কে বর্তমানে চলছে ফেব্রুয়ারির তীব্র শীত। ঠান্ডার সাথে সাথে আরও এক ধরনের শীতলতা ভর করেছে শহরটিতে। গত কিছুদিন ধরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তার কঠোর দমননীতির মাধ্যমে আমেরিকাকে 'মহান' করার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকা যেমন, জ্যাকসন হাইটস, এস্টোরিয়া, ব্রুকলিন, ব্রংকসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ইমিগ্রেশন বিভাগ হানা দিয়েছে, যা শহরের স্বদেশি জনগণের মধ্যে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
নিউইয়র্কের বিভিন্ন অভিবাসী এলাকা এখন একেবারে নিঃশব্দ। স্বদেশি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাদের ব্যবসা যেমন চলছিল না, তেমনি এখন ইমিগ্রেশন আতঙ্ক আরও পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে। শীতের এই কঠিন সময়ে এখন যেটুকু ব্যস্ততা ছিল, তা অনেকটাই কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা অস্বীকার করেন না যে, ইমিগ্রেশন বিভাগের দমননীতি তাদের ব্যবসায় কার্যকরভাবে ক্ষতি করছে। বৈধ কিংবা অবৈধ, সকলেই এখন জনসমাগম এড়িয়ে চলছেন, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ এবং যোগাযোগের মাধ্যমগুলি সীমিত হয়ে পড়েছে। সাধারণত এই অঞ্চলের প্রতিটি রাস্তায় কোলাহল এবং আনন্দের পরিবেশ থাকলেও এখন সেখানে নীরবতা বিরাজ করছে।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশিদের সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা ওজন পার্ক থেকে তোলা এক ছবি বিষয়টিকে আরও চমকপ্রদভাবে তুলে ধরেছে। যেখানে আগের দিনগুলোতে সবসময় জমজমাট ‘বৈঠক খানা’ রেস্টুরেন্ট ছিল, সেখানে আজ একেবারে নিস্তব্ধতা। রেস্টুরেন্টে টেবিলগুলো খালি পড়ে আছে, আর সেখানে খাবারের জন্য কোনো ভিড় নেই। আগে এই রেস্টুরেন্টটি সবসময় স্বদেশিদের ভিড়ে ভরা থাকতো, এখানে বসে স্বদেশিরা একে অপরের সাথে আড্ডা দিতো, খাবারের সাথে কথা বলতো, কিন্তু এখন সেই পরিবেশ একেবারে বদলে গেছে। স্বদেশিরা যেন ইমিগ্রেশন আতঙ্কের মধ্যে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছেন। কেউ বাইরে যেতে চান না, কেউ একে অপরকে না দেখার চেষ্টা করছেন।
এই পরিস্থিতি কেবল নিউইয়র্কের স্বদেশি জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এমন নয়, বরং শহরের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন ছোট দোকান, রেস্টুরেন্ট, সেলুন, বাজারগুলোতে ক্রেতাদের সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যে হতাশা এবং অস্থিরতা স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। যেখানে একসময় শহরের প্রতিটি এলাকা গড়তে থাকতো স্বদেশি সমাজের প্রাণচাঞ্চল্যে, আজ সেখানে যেন শূন্যতা বিরাজ করছে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিউইয়র্কের স্বদেশি জনগণের জন্য সামনের দিনগুলো কতটা কঠিন হতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, যদি এই আতঙ্কের পরিবেশ চলতে থাকে, তবে স্বদেশি জনগণের মধ্যে অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়তে পারে এবং শহরের সমৃদ্ধি তথা বৈচিত্র্য হারানোর ঝুঁকি থাকতে পারে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন