https://www.prothomalony.com/

12367

north-america

উত্তর আমেরিকা

যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন বয়ে ফিরছে গাজা, বাস্তুচ্যুতদের কঠিন লড়াই

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ০২:৪৮

যুদ্ধবিরতির পর ধীরে ধীরে নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরছেন গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা। তবে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক বিভীষিকাময় বাস্তবতা—ধ্বংসস্তূপ, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

১৫ মাসের ভয়াবহ সংঘাতের পর দক্ষিণ গাজার শরণার্থী শিবির থেকে ফিরে এসেছেন ইসমাইল মোহাম্মদ ও তার পরিবার। কিন্তু জাবালিয়ায় নিজ বাড়ির জায়গায় দাঁড়িয়ে তিনি দেখলেন কেবল ধ্বংসস্তূপ। ছাদ ধসে পড়েছে, দেয়াল ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। তবুও দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজের মাটিতে ফিরে আসার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিলেন না ইসমাইল।

"আমি তিন রাত ঘুমাতে পারিনি। অপেক্ষা করছিলাম, কবে ফিরতে পারব আমার শহরে, আমার ভিটেতে," বলেন তিনি।

যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্দেশে গাজাবাসীকে দক্ষিণে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইসমাইল পরিবারও তখন ঘর ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু যখন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলো, তখনই তারা ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

ফিরে আসার পথ সহজ ছিল না। ১১ মাইল দীর্ঘ পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হয়েছে তাদের, কারণ যানবাহনের সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে গাড়িতে চড়ার সুযোগ ছিল না। ইসমাইলের ডায়াবেটিসের কারণে একটি হাত নেই, আর এক হামলায় তার পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। লাঠির ভরসায় ধীরে ধীরে এগিয়েছেন, কাঁধে ছিল প্রয়োজনীয় কিছু খাবার ও পানি।

তবে গাজায় ফিরে নতুন লড়াই শুরু হয়েছে। "বাড়ি নেই, পানি নেই, খাবার নেই। জানি না আজ রাতে কোথায় ঘুমাবো," বলেন ইসমাইল।

তারপরও বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন ইসমাইলের মতো হাজারো মানুষ। কেউ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুঁজছেন, কেউ অস্থায়ী আশ্রয় তৈরি করছেন। ইসমাইল নিজেও জীবিকার জন্য রাস্তার পাশে ঐতিহ্যবাহী নোনতা সিদ্ধ শিম বিক্রির পরিকল্পনা করছেন।

কিন্তু বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে তো? গাজার মানুষ কি আবার তাদের হারানো জীবনে ফিরতে পারবে? বাস্তবতা কঠিন হলেও, এই যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূমিতে এখনো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন তারা।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন