https://www.prothomalony.com/
12366
north-america
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ০২:৪৩
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ বন্ধের পর এবার রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে মনোযোগী হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আনার পর, এবার তিনি তার নজর দিয়েছেন বাণিজ্য ক্ষেত্রে। তবে, তার নতুন শুল্ক নীতি ও বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্প সম্প্রতি মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে কঠোর অবস্থান নেন। তবে শেষ মুহূর্তে আলোচনার মাধ্যমে তিনি এই দুই দেশের ওপর শুল্ক আরোপ ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। এই সমঝোতার শর্ত হিসেবে মেক্সিকো ও কানাডাকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে এবং ফেন্টানিল চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তি তার নীতির বিজয়। তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমও নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলের সফলতা হিসেবে বিষয়টিকে তুলে ধরছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি স্বল্পমেয়াদে উত্তেজনা প্রশমিত করলেও, দীর্ঘমেয়াদে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কারণ ৩০ দিনের পর ট্রাম্প যদি আবার শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে উত্তর আমেরিকার বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
কানাডার অর্থনীতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির কারণে কানাডার বাজারে চাপ তৈরি হয়। তবে ৩০ দিনের জন্য শুল্ক স্থগিত করায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন ট্রুডো।
কানাডা ইতোমধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে এবং ফেন্টানিল চোরাচালান প্রতিরোধে নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করেছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার মাধ্যমে সংকট কিছুটা সময়ের জন্য ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি সীমান্তে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন এবং চোরাচালান প্রতিরোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি মেক্সিকো আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করতে পারে, তাহলে ট্রাম্প হয়তো শুল্ক আরোপ স্থায়ীভাবে বাতিল করতে পারেন।
ট্রাম্প ইতোমধ্যে চীনা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যা মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীরা ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছেন। যদি তিনি কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর শুল্ক পুনরায় আরোপ করেন, তাহলে উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্ক চাপে পড়বে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে এখন ট্রাম্পের প্রধান ফোকাস অর্থনৈতিক লড়াই। বাণিজ্য যুদ্ধ আপাতত স্থগিত থাকলেও, পরবর্তী ৩০ দিনে কী হবে, সেটাই এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন