https://www.prothomalony.com/
12362
north-america
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ০২:১৬
মিয়ানমারের তরুণদের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও রসনা সম্ভার তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত হলো ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল। যেখানে মিয়ানমারের তরুণদের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং রসনা সম্ভার তুলে ধরা হয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই উৎসবে দুই দেশের তরুণদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মো. মনোয়ার হোসেন। তিনি তরুণদের কর্মচাঞ্চল্য, আবেগ ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, তরুণরা নতুন পৃথিবী গড়তে এবং বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরে বলেন, পোশাক, খাদ্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের ঐতিহ্য তুলে ধরতে উৎসবে জামদানি শাড়ি ও পাঞ্জাবির জন্য ছিল ট্রাই-অন বুথ, যেখানে মিয়ানমারের তরুণরা বাংলাদেশি পোশাক পরিধান করে। এছাড়া মেহেদি কর্নারে মিয়ানমারের তরুণীরা বাংলাদেশি মেহেদির রঙে হাত রাঙানোর সুযোগ পান। প্রদর্শনীতে ঐতিহ্যবাহী পাট ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, মৃৎশিল্প, রপ্তানিযোগ্য পোশাক এবং বাংলাদেশের পর্যটনকেন্দ্রের স্টল স্থান পায়। রিকশার আদলে তৈরি ফটো ফ্রেম ও আলপনার ডিজাইনে সাজানো স্ট্যান্ড দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশি ও বার্মিজ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশিত হয়। দূতাবাস পরিবারের শিশুরা ঐতিহ্যবাহী বাংলা গানের সঙ্গে নৃত্য উপস্থাপন করে। উৎসবে আগত অতিথিদের জন্য বিরিয়ানি, সিঙ্গারা, পিয়াজু, পিঠা, মিষ্টি ও বার্মিজ মিষ্টান্নসহ নানা খাবারের আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত ড. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, তরুণদের সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক সংযোগই ভবিষ্যতের পথ তৈরি করবে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের তরুণদের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মিয়ানমারের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, বাংলাদেশ কমিউনিটি ও দূতাবাস পরিবারের সদস্যসহ প্রায় দুই শতাধিক তরুণ-তরুণী এই উৎসবে অংশ নেয়। দিনব্যাপী এই আয়োজন মিয়ানমারের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন