https://www.prothomalony.com/

12248

north-america

উত্তর আমেরিকা

দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম দিনেই ট্রাম্প ঝড়

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারী ২০২৫ ০৩:১৮

যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, সারা বিশ্বের মানুষ ২০ জানুয়ারি  সোমবার নজর রেখেছেন ওয়াশিংটন ডিসিতে। এদিন ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। এরপরই তিনি দুই শতাধিক নির্বাহী আদেশে সই করবেন। আগেই এসব বিষয়ে ট্রাম্প ও তার দল এমন সব সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ভূরাজনীতির খেলা বদলে দিতে পারে।


২০ জানুয়ারি সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির ওয়ান এরেনায় বিজয় সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশের ঝড় তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, শপথ নেওয়ার পরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ‘ঐতিহাসিক গতি এবং শক্তি’ নিয়ে কাজ করবেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সোমবার দুই শতাধিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশগুলোর মধ্যে থাকবে আইনত বাধ্যতামূলক আদেশ এবং প্রেসিডেন্টের অন্যান্য নির্দেশাবলি। আবার অনেক আদেশেই বাতিল হবে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের গৃহীত নীতি।


নির্বাহী আদেশ হচ্ছে ফেডারেল সরকারকে দেওয়া প্রেসিডেন্টের লিখিত আদেশ, যে আদেশ বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না। অর্থাৎ, এই আদেশবলে একজন প্রেসিডেন্ট পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতাদের ভোটাভুটি ছাড়াই নীতি পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। তবে এই আদেশ আইনের আওতার মধ্যে থেকেই বাস্তবায়িত হতে হয় এবং কখনো কখনো এ আদেশগুলোর কিছু আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে পারে। বিশেষ করে অভিবাসনের মতো নীতিগুলোর ক্ষেত্রে এমনটি হতে পারে।


রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির ক্ষমতাবলে গণহারে অভিবাসী বিতাড়ন, পরিবেশ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কমানো এবং আরও বহু বিষয়ে একতরফাভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেগুলো পূরণ করতেই এসব নির্বাহী আদেশ সইয়ের এই পদক্ষেপ নেবেন তিনি।

এসব নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দেশের সংকট সমাধান এবং আমেরিকাকে সঠিক পথে পরিচালিত করা হবে বলে ট্রাম্প মন্তব্য করেন। আর শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাইডেনের প্রশাসনের প্রতিটি উগ্র এবং অবিচক্ষণ নির্বাহী আদেশ বাতিল করা হবে বলেও জানান ট্রাম্প।


ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নত করা, সরকারের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একটি বিভাগ গঠন করা (ডোজ), জন এফ কেনেডির হত্যা সম্পর্কিত রেকর্ড প্রকাশ করা, সামরিক বাহিনীকে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া এবং সেনাবাহিনী থেকে বৈচিত্র্য, সমতা এবং অন্তর্ভুক্তি নীতি বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


এ ছাড়া ট্রান্সজেন্ডার নারীদের, ‘নারী’ ক্রীড়া বিভাগে প্রতিযোগিতা বন্ধ করা এবং আমেরিকার রাজ্যগুলোর হাতে শিক্ষার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।


প্রেসিডেন্টরা সাধারণত দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্বাহী আদেশ জারি করেন, তবে ট্রাম্পের প্রথম দিনের আদেশের সংখ্যা তার পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে এবং এর অনেকগুলো আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে আসন্ন পদক্ষেপগুলোর পূর্বাভাস দিয়ে আসছেন। তবে এই উদ্যোগগুলো প্রথম দিনের নির্বাহী আদেশের জন্য ঐতিহাসিকভাবে উচ্চাকাঙ্ক্ষী। প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার প্রথম সপ্তাহে মোট ২২টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা তখনকার সময়ে একটি আধুনিক রেকর্ড।


ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সোমবার তার নির্বাহী পদক্ষেপগুলো অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলাকেন্দ্রিক হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি বিশাল লজিস্টিক বাধার সম্মুখীন হবে এবং সম্ভবত কয়েক বিলিয়ন ডলারের খরচও হতে পারে।


এদিন ট্রাম্প ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে দাঙ্গার ঘটনায় দোষী সাব্যস্তদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওই হামলার নেতৃত্বে তার সমর্থকরাই ছিলেন।


প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প সই করেছিলেন ২২টি নির্বাহী আদেশ। এর মধ্যে কয়েকটি আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল।


আর বাইডেন যখন প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, তখন তিনি সই করেছিলেন মো ১৬০টি নির্বাহী আদেশ। আর এর আগে বারাক ওবামা এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে সই করেছিলেন যথাক্রমে ২৭৭ এবং ২৯১টি নির্বাহী আদেশ।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন