https://www.prothomalony.com/

12225

north-america

উত্তর আমেরিকা

স্বাগতম যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারী ২০২৫ ০৩:৩৯

 

আমেরিকার সুবর্ণ যুগ শুরু হলো—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়ে অভিষেক ভাষণে এ কথাই বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে বললেন যুক্তরাষ্ট্রকে আবার মহান করে তোলার কথাও। ২০ জানুয়ারি সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁকে শপথ পাঠ করান যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। ধর্মীয় গ্রন্থ বাইবেলের ওপর হাত রেখে শপথ পাঠ করেন ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্প। তিনিই হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে ক্ষমতায় বসা প্রেসিডেন্ট।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্লোগান "আমেরিকা আবার মহান হোক" (Make America Great Again) আবারো নতুন মাত্রায় জীবিত হয়েছে। তার প্রথম মেয়াদের মতো এবারও তিনি আমেরিকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে পুনরায় সংহত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন শুধু আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নয়, বৈশ্বিক অঙ্গনেও গভীর প্রভাব ফেলবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং নেতারা নতুন আমেরিকান প্রশাসনের অধীনে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করতে প্রস্তুত হচ্ছে।
একটি যুদ্ধহীন এবং মানবিক বিশ্ব গড়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে বৈশ্বিক নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে হবে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এটা স্পষ্ট যে, ট্রাম্পের প্রশাসন তারুণ্য, ব্যবসায়িক নীতি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ওপর জোর দিয়ে নতুন কৌশল গ্রহণ করবে। তবে, এবার বিশ্ব যে প্রত্যাশা করছে তা হলো শান্তি এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি এক নতুন অঙ্গীকার।
বিশ্ব বর্তমানে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং এশিয়ার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক পরিসরে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন যদি বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্গঠন করে, তবে তা মানবতার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী মেয়াদে আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতিতে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেখা গিয়েছিল। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা, ইরান পরমাণু চুক্তি বাতিল এবং ন্যাটোতে সমন্বয়হীনতা এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু দ্বিতীয়বারের এই দায়িত্ব পালনের সময় ট্রাম্পের সামনে সুযোগ রয়েছে নতুন কৌশল গ্রহণ করে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করার। জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার এবং দারিদ্র্য দূরীকরণের মতো ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রথম মেয়াদে আমেরিকার অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছিল। কর হ্রাস, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং আমেরিকান ব্যবসাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিগুলি উল্লেখযোগ্য ফলাফল দিয়েছিল। কিন্তু, এই অর্থনৈতিক উন্নতির সময় মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষিত হয়েছিল বলে সমালোচনা হয়। এবার বিশ্ব প্রত্যাশা করছে, ট্রাম্প প্রশাসন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করবে যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধও সমান গুরুত্ব পাবে।
ট্রাম্পের নেতৃত্ব আমেরিকার ভেতরে এক গভীর মেরুকরণ সৃষ্টি করেছিল। বর্ণবাদ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং রাজনৈতিক বিভক্তি নিয়ে তার প্রশাসনের সময় বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যু সামনে এসেছে। তার দ্বিতীয় মেয়াদে আমেরিকার সামাজিক ঐক্য এবং বহুজাতিক সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে তিনি যদি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন, তবে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ সংকট এই অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন মেয়াদে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন এবং শক্তিশালী করা অপরিহার্য। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করে আমেরিকা আবারও বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ববাসী আশা করছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ হবে আগের চেয়ে আরও বেশি কৌশলগত, মানবিক এবং সহযোগিতাপূর্ণ। যুদ্ধহীন এক বিশ্ব গড়ার এই প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র যদি নেতৃত্ব দেয়, তবে তা শুধু আমেরিকার জন্য নয়, পুরো মানবজাতির জন্য একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে। শান্তি, মানবিকতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সমন্বয়ে গড়া এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ এবং উন্নত পৃথিবী নিশ্চিত করতে পারে।

অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি না করেন—এই প্রত্যাশা আজ অনেকের। ইমিগ্রেশন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তিনি যেন বিভেদ বা সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে একটি গঠনমূলক এবং সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখেন। ইমিগ্রেশন নীতিমালার ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ন্যায্যতার মানদণ্ড নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেন আমেরিকার মূল্যবোধ এবং বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা অক্ষুণ্ন থাকে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধিতার ক্ষেত্রে প্রতিহিংসা ও কটূক্তি এড়িয়ে তিনি যেন এমন একটি উদাহরণ স্থাপন করেন, যা একতার বার্তা দেয় এবং জাতির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করে।

দেশের জনগণ আশা করে, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ট্রাম্প এমন একটি পথ অবলম্বন করবেন যেখানে সবার কথা শোনা হবে এবং সংবিধানের মূলনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো যেন শুধুমাত্র একটি গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং পুরো জাতির কল্যাণে নেওয়া হয়। ইমিগ্রেশন ইস্যুতে যেমন সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি অভিবাসীদের মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি, তেমনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতিকে একটি শক্তিশালী এবং সংহত প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা অত্যাবশ্যক।
এমন একটি আমেরিকা গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা সবার যেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং মানবিক মূল্যবোধ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। ট্রাম্পের কাছ থেকে এ ধরনের নেতৃত্বের আশা করা যায়, যা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং সারা বিশ্বকে দেখাবে যে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।"

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন