https://www.prothomalony.com/

11870

north-america

উত্তর আমেরিকা

দীর্ঘ ১৪ বছর পর দেশে যাচ্ছেন বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৫:০১

দীর্ঘ ১৪ বছর পর দেশে যাচ্ছেন আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ। আগামীকাল ১৭ ডিসেম্বর দুপুর ২টায়  শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার অবতরনের কথা রয়েছে। দেশে ফিরে আগামী ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর হোটেল শেরাটনে বাংলাদেশে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় আয়োজক হিসেবে তিনি উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

গিয়াস আহমেদ জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি, গণতন্ত্র হত্যাকারী ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য হাজার হাজার মানুষকে গুম, খুন ও হত্যা করেছে। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। এই ১৫ বছর শেখ হাসিনা ভোট চুরি, ব্যাংক ডাকাতি ও দেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের উপর প্রতিশোধ নিয়েছে। তার বাবার মৃত্যুর পর কয়েকদিন লাশ পড়ে থাকলেও দেশের জনগণ প্রতিবাদ মিছিল করেনি, জানাজায় আসেনি। সে জাতির উপর তিনি চরমভাবে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন এবং সেটিই করে দেখালেন। পর পর তিনবার ভুয়া নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকলেও তাকে দেশের মানুষ কখনোই ভোট দেয়নি। ভোটের মাধ্যমে তিনি পরাজিত হয়েছেন সাদেক হোসেন খোকার কাছে, তিনি পরাজিত হয়েছেন মেজর মান্নানের কাছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি ইতিহাস বলে, যে দেশ একবার স্বাধীন হয় সে দেশকে রক্ষা করার জন্য আজীবন রক্ত দিতে হয়। কারন হায়েনারা বার বার সে দেশের উপর শকুনের মতো কু-দৃষ্টি দিয়ে থাকে। তাই ২৪ এর অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন এবং যারা সামনে ও পিছন থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। সেই আহত এবং শহীদ পরিবারের প্রতি আমাদের যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি থেকে যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অফ কমার্স, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির এ নেতা জানান, আমি বাংলাদেশে থাকাকালীন সময় ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলাম, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে আন্দোলন করেছি। আমেরিকায় এসেও এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম। আপনারা জানেন, আমি বাংলাদেশ থেকে ১৯৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। এখানে এসেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রে ছাত্রদল গঠন করি এবং আমি ছিলাম যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আমাদের হাত ধরেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি একটি ‍বৃহৎ পরিবার। বাংলাদেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যাপক অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি হোয়াইট হাউজ, জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে আমরা এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করেছি। মইনদ্দিন, ফখরুদ্দীনদের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন করেছি। যখন বাংলাদেশে কেউ সাহস পায়নি, তখন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষদের নিয়ে হোয়াইট হাউজ, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশে আন্দোলনের মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলেছি।

প্রবাসীদের প্রসঙ্গে গিয়াস আহমেদ বলেন, আমরা যারা প্রবাসী আছি আমাদের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আবেদন, তারা যেন প্রবাসীদেরকে মূল্যায়ন করেন। তিনি সরকারের কাছে আবেদন করেন যে যারা প্রবাসে বিজনেস করে সফলতা অর্জন করেছে তাদেরকে নিয়ে যেন সরকার নতুন করে চিন্তা করে। প্রবাসী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য যেন সংসদে  ১০ শতাংশ কোটার মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনের সুযোগ থাকে সেই ব্যবস্থা করা।

এদিকে, আগামী ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর হোটেল শেরাটনে বাংলাদেশে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে আমেরিকান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (এবিসিসিআই)। সে আয়োজনে বাংলাদেশে আমেরিকান অ্যাম্বাসেডর উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছে আয়োজক কমিটি। এতে আমেরিকান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (এবিসিসিআই) জুলাই গণঅভ্যুত্থান তথা গণতন্ত্রের লড়াইয়ে ভোটের অধিকার নিশ্চিতকরনে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন তাদের পরিবারবর্গের সাহায্যের জন্য ড. ইউনূসের জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনে ১ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ারও ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন