https://www.prothomalony.com/

11845

opinion

অভিমত

ভারত বিরোধীতা বনাম বাস্তবতা

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:৫৩

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে মনে হয় সবচেয়ে বেশি ভারত বিরোধীতার স্লোগান উঠছে। বলা যায়, তুঙ্গে অবস্থান বিরাজ করছে। তরুণ প্রজন্ম বা গণঅভ্যুত্থান শক্তি পুরোপুরি ভারতবিরোধী হয়ে উঠছে। গত কয়েক দশকের মধ্য এমনটি আর দেখা যায়নি। টালমাটাল পরিস্থিতে উত্তাল বাংলাদেশে এটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভারত থেকে বার বার অভিযোগের তীর বাংলাদেশের হিন্দুরা ভালো নেই। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত অবস্থায় দুই দেশ। প্রশ্ন হতে পারে কেন এমনটি হচ্ছে। এটি কি হিন্দু মুসলমান সমস্যা নাকি রাজনৈতিক। 

এর উত্তরের জন‍্য একটু পেছনের দিকে যেতে হয়। আমরা যখন কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ি তখন আমাদের পাশের সিটে যদি কোনো হিন্দু বা অন‍্য ধর্মের ছাত্র বসতো কখনই কাউকে বলতে শুনিনি- এই তুই উঠে যা। অন‍্য সিটে গিয়ে বস। অর্থাৎ পাশে বসা বন্ধুটির প্রতি হিন্দু বা অন‍্য ধর্মের বলে বিন্দুমাত্রও বিদ্বেষ কেউ পোষণ করতো না। বরং ভাগাভাগি করে খাওয়ার চমৎকার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। আমি আমার অসংখ্য হিন্দু বন্ধুদের বাড়িতে দাওয়াত খেয়েছি। কখনও দল বেঁধে গিয়েছি, কখনও একা গিয়েছি। আনন্দ করেছি। বাংলাদেশের সব জায়গায়ই আসলে এমন অবস্থা বিরাজমান। হিন্দু প্রতিবেশিদের সঙ্গেও সবার দারুণ সম্পর্ক। চমৎকার একটা বন্ধন রয়েছে। এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে সমস্যা সেটি জনগণের মধ্যে বা হিন্দু মুসলমান নয়। মূলত সেটি রাজনৈতিক। চৌকস রাজনীতির কারণেই বিভাজন বড় থেকে বড় হতে চলেছে। আর সেখানে দাবার গুটি হচ্ছে হিন্দু-মুসলমান। 

আমি বাস্তবতার নিরিখে কয়েকটি বিষয় নিয়ে অন‍্যদের মতামত তুলে আলোকপাত করতে চাই। প্রথমত, ভারত সম্পর্কে একটু রাজনীতির গভীরে গেলে বোঝা যায়, সমস্যাটি কোথায়। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে ভারত আর বাংলাদেশের জনগণের জায়গায় তারা ঠিক আছে। সমস্যাটি রাজনৈতিক এবং একটি অদৃশ্য শক্তি। 

তবে রাষ্ট্র হিসেবে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে তেমন একটা জায়গা করে নিতে পারেনি। কারণ গত কয়েক দশক ধরে যেটা দেখি ভারতে শিক্ষিত আধুনিক মানের রাজনৈতিক ব‍্যক্তিত্বের আবির্ভাব ঘটেনি। যেখানে ভারত বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে। দুটো জায়গায় ভারতের সাফল্য রয়েছে এক ক্রিকেট অন‍্যটি সিনেমা। রাজনৈতিক জায়গায় ভারত একেবারেই বলতে গেলে তলানিতে অবস্থান করছে। অথচ ভারতের এই সময়ে বিশ্বে প্রভাব বিস্তারের কথা ছিল। ভারত কাঁধ মেলাবে আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্যে, জার্মানি এসব দেশের সঙ্গে। 

কিন্তু দুর্ভাগ্য দেশটি সেটিতো পারেইনি বরং খুবই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এমন দেশের সঙ্গে বার বার ঝামেলায় জড়িয়ে যাচ্ছে। এর অর্থ হলো তারা বার বার ব‍্যর্থতার খাতায় নাম লিখাচ্ছে। অথচ অন‍্যদিকে চীন স্বমহিমায় বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে চলে যাচ্ছে। চমৎকার একটি দৃশ্য দেখা যায় চীনের সঙ্গে প্রতিবেশি দেশগুলি ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক। পাকিস্তানে যে সরকারই আসুক চীন সে সরকারের সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে। বুঝাই যায় না যে আগের সরকারের সঙ্গে তাদের কেমন সম্পর্ক ছিল। ভারত এই কাজটি করতে পারে না। ফলে প্রতিবেশি সব দেশের সঙ্গেই তাদের ঝামেলা লেগে থাকে। আর এর পূর্ণ সুবিধাটা নিচ্ছে চীন। দারুণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চললে ভারত হয়ত কোনো দিনই বিশ্ব দরবারে সামান্য হাঁকডাক ছাড়া গ্রহণযোগ্য কোনো অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে না। 

ভারতের জন‍্য সুযোগ ছিল আমেরিকার সঙ্গে চমৎকার একটি সম্পর্ক তৈরি করা। বড় হতে গেলে বড়দের সঙ্গেই চলা অপরিহার্য। আমেরিকার হাত ধরে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে চলে যাওয়া। আমেরিকা চেয়েছিলও তাই। কিন্তু ভারত ঘরমুখো রাজনীতি করে। ফলে তারা তাদের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি। এক সময় আমেরিকা ভারতের চোখ দিয়ে বাংলাদেশকে দেখতো। কিন্তু ভারত দুর্বল রাজনীতির কারণে এর গভীর মর্মার্থ বুঝতে পারেনি। শুধু আওয়ামী লীগে অন্ধ দেশটি অন‍্য কোনো দলকে কখনও পাত্তাই দেয়নি। ফলে আমেরিকা বিরাগভাজন হয়ে ভিন্ন পথ খুঁজে নেয়। 

আজকে ভারত বড় ধরণের কোনো বিপদে পড়লে পৃথিবীর কোনো দেশ এককভাবে তার জন‍্য এগিয়ে আসবে এমনটি দেখা যায় না। কারণ সেই রকম গভীর সম্পর্ক করো সঙ্গেই বলতে গেলে নেই। রাশিয়া বন্ধুর মতো হলেও এখন হাত বাড়াবে না। সে নিজেই অনেক ঝামেলায় আছে। ফলে একাকী একটা রাষ্ট্র অনেকদূর এগুতে পারে না। সে জন‍্য প্রতিবেশী দেশগুলি একটা ভরসার জায়গা হলেও তাদের সঙ্গে সম্পর্কও তলানিতে। 

অথচ ভারতের বিশ্ব নেতৃত্বের আকাঙ্খা আছে। আমরা বিভিন্ন মাধ‍্যমে সেটি দেখতে পাই। কিন্তু আকাঙ্খা পূরণের সদিচ্ছা নেই। ছোট্ট একটি উদাহরণ হল- আজকে পুরো বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। এটি শুধুমাত্র পাওয়ারের জন‍্য হয়নি। সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশকে বিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। বিপদে আপদে নানা প্রান্তের দেশগুলির পাশে দাঁড়াচ্ছে। (কখনও কখনও নিজেদের স্বার্থের জন‍্যও দাঁড়াচ্ছে) নানাভাবে সহযোগিতা করছে। 

কিন্তু দুর্ভাগ‍্য আমাদের পাশের ঘর ভারতের। বিগত সরকারের আমলে চরম খারাপ অবস্থাও কোনো অর্থনৈতিক সহযোগিতা ভারত থেকে তেমন একটা পায়নি। দেশটি কোনো ধরনের আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে পাশে দাঁড়াতে পারেনি। এটা হতে পারে তারা নিজেরাই অর্থনৈতিকভাবে খুবই দুর্বল। তাহলে কীভাবে তারা বিশ্ব নেতৃত্ব দেবে। বরং চীন এই সময় হাজার কোটি ডলার নিয়ে এগিয়ে আসে। অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানা জায়গায় নিজেদের অবস্থান পোক্ত করে। 

বাংলাদেশের মানুষ ভারতের শত্রু না। বরং খুব কাছের বন্ধু। ক্রিকেট খেলা শুরু হলে তখন কিছুই মনে থাকে না। আজহার উদ্দিন থেকে শুরু করে শচীন টেন্ডুলকাররা যখনই মাঠে ছক্কা হাঁকিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েছে। এর দ্বারা বুঝা যায় ভালোবাসা আছে। কিন্তু অদূরদর্শী রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশের জনগণকে শত্রুতে পরিণত করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ভারত বিরোধী মনোভাব নিয়ে বড় হচ্ছে। এই মনোভাব খুব সহজে দূর হবার নয়। এর জন‍্য দায়ী অবশ্যই ভারত। কারণ তারা বিশ্ব রাজনীতিতে অদক্ষ এবং অপরিপক্ষ। ফলে ছোট ছোট দেশগুলি নিয়ে তাদের ঘুম নেই। চীন থেকে তাদের শিক্ষা নেওয়া দরকার।

পাকিস্তানে যাই ঘটুক তাদের মাথা ব‍্যাথা নেই। চীনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে তেমন একটা আন্দোলন হতে কখনো দেখা যায় না। অথচ বাংলাদেশে কিছু একটা হলেই ভারতের বিরুদ্ধে মিছিল শুরু হয়ে যায়। কারণ সাধারণ জনগণকে ভারত ভুল করে প্রতিপক্ষ বানিয়ে রেখেছে। ফলে ভারতের মনোভাবটাই জনগণের মাঝে প্রতিফলিত হচ্ছে। আর এতে চীনও খুশি। কারণ তারা চায় বাংলাদেশ ভারত বিরোধী হয়ে থাকুক। এটি কৌশলী রাজনীতি। এ কৌশলের কাছে হেরে যাচ্ছে ভারত।

ভারত মনে করে ইসলামপন্থী লোকজন ভারত বিরোধী। তারাই যত সমস্যার মূল। কিছু সংখ‍্যাক লোক ভারত বিরোধী হতে পারে তবে বেশির ভাগ লোকই বিরোধী না। আমার অনেকের সঙ্গে এক সময় কথা হতো। কওমি ঘরানার হুজুররাও ঢালাওভাবে ভারত বিরোধী মনোভাব পোষণ করেন না। তাদের তীর্থস্থান বলা যায় ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসা। এই শিক্ষালয়কে তারা প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। অনেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। ফলে ভারতের প্রতি তাদের একটা দুর্বলতা রয়েছে। সুযোগ পেলেই তারা সেখানে বেড়াতে যান। 

তাহলে এখন সমস্যাটা কোথায়? সমস্যা হলো ভারত চীনের মতো দূরদর্শী রাজনৈতিক পরিপক্বতা এখনো অর্জন করতে পারেনি। তাদের মধ্যে বিশ্ব মানের লিডারশিপ এখনও তৈরি হয়নি। ফলে অপরিপক্ক রাজনৈতিক চক্রে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার সাংবাদিকতা জীবনে বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। আমি দেখেছি- আওয়ামী লীগ ভারতের একেবারেই অন্দরের। এটি সবাই নিশ্চিত করেই জানে। ফলে স্বভাবতই আওয়ামী লীগ চাইবে না যে ভারত অন‍্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুক। কিন্তু এক্ষেত্রে ভারতেরই দায় ছিল যে অন‍্যদের সঙ্গেও সম্পর্কটি ঠিক রাখা। 

এরপর বিএনপি ভারত বিরোধীতার মনোভাব পোষণ করে না। দলটির নেতা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে তারা ভারতের বিরোধীতা করতে চায় না। কাছাকাছি থাকতে চায়। কিন্তু ভারতের এক পক্ষ নীতির কারণে তারা সব সময় দোদুল্যমান অবস্থায় থাকে। কি করবে নিজেরাও বুঝে উঠতে পারে না। জামায়াতের একটি গ্রুপ ভারতকে অপছন্দ করে। অন‍্য একটি মডারেট গ্রুপ তারা ভারতের বিরোধীতা করতে চায় না। তারা মনে করে, ভারতে বিশ কোটির ওপরে মুসলমান রয়েছে। সে দেশেও দলটির একই নামের শাখা রয়েছে। সুতরাং তারা বিরুদ্ধে যেতে চায় না। কিন্তু পরিস্থিতি তাদের বাধ‍্য করে। 

ভারতই তাদের সব সময় বিরোধী অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের চোখ দিয়ে তাদের দেখে। তাহলে কিভাবে সম্পর্ক তৈরি হবে। অন‍্যান‍্য রাজনৈতিক দল তাদের সেন্টিমেন্টও একই রকম। বামপন্থী লোকজন আগের মতো ভারত বিরোধী অবস্থানে নেই। চীন রাশিয়ার বলয় ভেঙে তারা এখন স্বতন্ত্র। তাহলে প্রশ্ন আসে শুধু কি ভারতই ভুল পথে আছে। না, শুধু ভারত না। তবে ভারতের দায় বেশি। বাংলাদেশের একটা শ্রেণি আছে যারা সব সময় ইন্ধন জিইয়ে রাখে যে ভারত যেন এদেশে জনগণমুখি না হয়। এ জন‍্য তারা অর্থও ব‍‍্যায় করে। এমন কিছু ঘটনা ঘটিয়ে গণমাধ্যমগুলিতে নিউজ পাঠায় বা পরিস্থিতি তৈরি করে যা বিভাজনের জন‍্য নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। 

এসব বিষয়গুলিতে নজর দেওয়ার দায়িত্ব ভারতের রয়েছে। শুধুমাত্র একটি সুনির্দিষ্ট চ‍্যানেল থেকে তথ‍্য সংগ্রহ না করে নিজস্ব পদ্ধতির ব‍্যবহার বাড়ানো বেশি জরুরি। তাদের কাছে যে তথ‍্যগুলি পাঠানো হয় তারা সেটিই বিশ্বাস করে অথচ তাদের কি সুবিশাল নেটওয়ার্ক। নিরপেক্ষ জায়গা থেকে তথ‍্য যাছাই করার কোনো লক্ষণ তাদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। এক পক্ষীয় চোখ দিয়ে দেখতে দেখতে এমন অবস্থায় চলে গেছে এখন পুরো বাংলাদেশই বিপক্ষে চলে গেছে। 

আরেকটি বিষয় হলো সংখ্যালঘু রাজনীতি। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা। আমি শুরুতেই বলেছিলাম হিন্দু মুসলমান সুসম্পর্কের কথা। এখন এই হামলার বিষয় কেন আসছে। বাংলাদেশে গত ১৫ বা ২০ বছরে যত হামলার ঘটনা ঘটেছে সেগুলির কোনোটারই কি সুষ্ঠু বিচার হয়েছে? কেন হয়নি? এই প্রশ্নের উত্তর নেই কেন? আমি বলেছিলাম তৃতীয় একটি গ্রুপ চায় না জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের জায়গাটি পোক্ত হোক। তাই ঘটনা ঘটিয়ে অন্ধকারে চলে যায়। তারা সব সময় ভারতকে ক্ষ্যাপিয়ে তুলতে চায় বা ম‍্যাসেজ পাঠাতে চায় যে এদেশে হিন্দুরা ভালো নেই। এর মাঝে স্টিম রোলার শুরু হয়ে যায় সাধারণ কিছু মানুষের ওপর।

আমি মনে করি ভারত এবং বাংলাদেশ যৌথভাবেই এই বিষয়ে কাজ করতে পারে। উদঘাটন করা দরকার কারা এই কাজটি করছে। তাদের বিচারের মুখোমুখি করা জরুরি। বাংলাদেশের বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের উচিৎ অতীতের কিছু হামলার দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। তারা সংবিধান সংশোধনসহ নানাবিধ সংস্কারের কাজ করছে। তাই তাদের প্রতি জনগণের প্রত‍্যাশাও বেশি। তারা চাইলে যে কোনো ভাল কাজ এখন করতেই পারে। এদেশের হিন্দুদের প্রতি অতীতে যতগুলি ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে কয়েকটি ঘটনার দ্রুত বিচার করা কর্তব্য। দরকার পেছনের ঘাপটি মেরে থাকা কালো শত্রুকে বের করে আলোর মুখে নিয়ে আসা। 

একটি শক্তি এ দেশের হিন্দুদের ওপর আক্রমন করে সব সময় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চায়; এ শক্তির গোড়াটি উদঘাটন করা দরকার। সেটি রাজনৈতিক হোক বা অরাজনৈতিক শক্তি হোক। তাহলেই এ দেশের হিন্দুরা আস্থার নতুন মাত্রায় উন্নিত হবে। আগামী দিনে একজন হিন্দুও এ দেশ ছেড়ে যাবে না। তারা আমাদেরই বন্ধু প্রতিবেশী। সবচেয়ে বড় কথা হলো তারা সংখ‍্যালঘু নয়, এ দেশের নাগরিক। তাদের মধ্যে যে ভয়, এ ভয়টি কাটানোর সুযোগ রয়েছে এ সরকারের। কিছু বিচার করে আপনারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। রাজনৈতিক প্রভাবে যারা প্রতিবেশী হিন্দুদের বাড়ি ঘর দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা নেওয়ার এখনই সময়। ভারতও যে সংশয় নিয়ে থাকে হিন্দুদের বিচার নিয়ে সে রেশটি কাটিয়ে তুলুন। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ঝগড়া কখনোই সুখকর নয়। এতে বাংলাদেশ যেমন লাভবান হবে না, ভারতও নয়। বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিয়ত উত্তপ্ত বক্তৃতা, বিবৃতি দিলে সমস্যা সমাধানের কূলে পৌঁছা যেমন যাবে না। আবার আলু-পেয়াজ আর পর্যটন বন্ধের হঠকারি সিদ্ধান্ত অপরিপক্কতারই পরিচয় বহণ করে। 

কারণ বাংলাদেশ একবার যদি নতুন গন্তব্যের দিকে হাঁটা শুরু করে তাহলে সেই দিকেই সবাই ছুটবে। নতুন রাস্তা তৈরি হয়ে গেলে মানুষ পুরনো রাস্তার কথা ভুলে যায়। তাই এই মুহূর্তে ভারতের উচিৎ বাংলাদেশের তরুণ শক্তিকে সম্মান করা। তারাও আপনাদের কাছে টেনে নেবে। অন‍্যথায় বিভাজন বছরের পর বছর লেগে থাকবে কেউই তাতে লাভবান হবে না। বোধদয়ের নতুন উন্মেষ ঘটান- তাহলেই শান্তির দেখা মিলবে। 

লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক 

অভিমত থেকে আরো পড়ুন