https://www.prothomalony.com/
11822
new-york
প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ০০:১২
বাংলাদেশ বিরোধী যে কোন ষড়যন্ত্র প্রতিহতে প্রবাসীরা ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকতে আহবান জানিয়েছেন, নব্বই এর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের তুখোড় ছাত্রনেতা এ কে এম ফজলুল হক মিলন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গাজীপুর জেলা সভাপতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক সাংসদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি জনাব এ কে এম ফজলুল হক মিলন ভাইয়ের আগমনে নিউ ইয়র্ক স্টেট্ বিএনপি এক মত বিনিময় সভার আয়োজন করে ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায়।
গণতন্ত্র দিবসে আয়োজিত মত বিনিময় সভার মধ্যমনি এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, আজ আমি আপনাদের সামনে ৬ ডিসেম্বর গণতন্ত্র দিবসে, ১৯৯০ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। দীর্ঘ ৯ বছরের এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য ভূমিকায় ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আর আপোষহীন ছিলেন আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
সেই গণতন্ত্রের আন্দোলনের ধারাবাহিকতার প্রতিফলন ২০২৪ এর এই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যা আরেকটি স্বৈরাচার বিরোধী গণ আন্দোলনে রূপ নেয়, আর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যায়।
তিনি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন যা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীরা জেল-জুলুম, গুম-খুন নির্যাতন সহ্য করে চালিয়ে আসছিল, এই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন বহু তাজা প্রাণের বিনিময়ে তার একটি সফল পরিণতি টেনেছে।
তিনি উপদেষ্টাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, আমরা আপনাদের কাছে আমানত রেখেছি, আপনারা যৌক্তিক সময়ে সংস্কার শেষে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিবেন আমরা সেই আশাবাদ আবারো ব্যক্ত করছি।
বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে প্রবাসীরা নিজ নিজ এলাকার নেতা-কর্মীদের যেভাবে আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করেছেন এবং প্রবাস থেকে যে ভূমিকা রেখেছেন, এর জন্য তিনি দলের পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পতিত স্বৈরাচারের সমর্থকেরা বিভিন্নভাবে মিথ্যাচার করছে। সংখ্যালঘু নির্যাতনের অলীক অভিযোগ করছে। তারা এই প্রবাস থেকে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াতে তিনি প্রবাসীদের অনুরোধ জানান।
নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সহায়তায় নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ। ঢাকা জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পদক গিয়াস আহমেদ বলেন, আমরা যখন এই আমেরিকায় এসেছি তখন এখানে বি এন পি ছিল না। আমরা দেশ থেকে ছাত্রদল করে আসা ছাত্ররা প্রথমে ছাত্রদল গঠন করেছি, পরে বি এন পি।
গিয়াস আহমেদ বলেন, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর পরাজিত শক্তি নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। গণতন্ত্র প্রত্যাশী মানুষের মধ্যে বিভেদ-বিভক্তির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। আমেরিকার মূল ধারার রাজনীতিবিদ বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ আরো বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীতে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশে কর্মরত প্রবাসীদের অভিজ্ঞতাকে ব্যবহারের একটি উদ্যোগ নেয়া দরকার। একইভাবে প্রশাসনেও প্রবাসীদের সম্পৃক্তত করে উন্নত বিশ্বের আধুনিকতাকে সমন্বয় করার উদ্যোগ নিতে পারেন এই উপদেষ্টাবৃন্দ। প্রবাসীদের মাঝ থেকে ১০ শতাংশ সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যেতে পারে। প্রবাসীদের অন্তর্ভুক্তি ছাড়া বাংলাদেশে পরিপূর্ন সংস্কার সম্ভব নয়। দেশের মানুষ আজীবন এই অনিয়মের মধ্যে বেড়ে উঠেছেন। তাই তাদের চোখে যে অনিয়ম ধরা পড়বে না, প্রবাসীদের চোখে তা ধরা পড়বে।
নিউ ইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিঊল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি সাঈদুর রহমান সাঈদের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি, কোষাধ্যক্ষ জসীম ভ'ইয়া, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি আলহাজ্ব বাবরউদ্দিন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসীমউদ্দিন (ভিপি), আনোয়ার হোসেন, আরিফুর রহমান, সৈয়দা মাহমুদা শিরিন প্রমুখ।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন