https://www.prothomalony.com/

11811

opinion

অভিমত

সম্পাদকীয়: ভারত বিরোধিতা ও জাতীয় ঐক্য

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৪:২৩

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের বিজয় ত্বরান্বিত করেছিল। সেই ডিসেম্বরেই ভারতের মাটিতে হামলার শিকার হয়েছে বাংলাদেশ মিশন। পোড়ানো হয়েছে জাতীয় পতাকা।

 

ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে হামলা ও পতাকা পোড়ানোর পর দিল্লিকে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংগঠন ও ছাত্রদের সাথে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

 

স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশিসূলভ সম্পর্ক বজায় রাখছে বাংলাদেশ। সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও কখনো দুই দেশের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার মত পরিস্থিতি হয় নি। কিন্তু ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক গণবিপ্লবের পর ঘটা করেই বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কে পিছটান দেয় ভারত। অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে দেশটির ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে ভারত। এরপর নানা ইস্যুতে বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ করে দেশটি। সম্প্রতি ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেফতারের ঘটনায় ভারত যে বিবৃতি দিয়েছে তা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলেও আখ্যায়িত করেছেন বিশ্লেষকরা।

 

আবহমানকাল থেকেই বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উর্বর ভূমি। অতীতে এখানে ধর্মীয় কারণে যত বিভাজন ও বিরোধ হয়েছে তার বেশিরভাগই ছিল কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের রাজনৈতিক অভিলাষ থেকে সৃষ্ট। হাজার বছর ধরে এ দেশে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ মিলে মিশে চলে আসছে। এখনও গ্রামে গঞ্জে কিংবা শহরে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখেই চলছে বেশিরভাগ মানুষ। বিয়ে শাদি কিংবা সামাজিক যে কোনো অনুষ্ঠানে হিন্দু মুসলমান একে অপরের বাড়িতে নিমন্ত্রণে যাওয়া একদমই স্বাভাবিক বিষয়। এমনকি এক ধর্মের মানুষ আরেক ধর্মের উৎসবেও শামিল হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

 

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ভারতের অপপ্রচার ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ার ডাক দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস। তার ডাকে সাড়া দেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খৃস্টানসহ সব ধর্মের নেতারা। এতে সবাই একমত হন যে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অস্তিত্ব ও মর্যাদার প্রশ্নে কারও কাছে মাথা নত করবে না বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে ভারতের অপপ্রচার ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অটুট রাখা হবে জাতীয় ঐক্য।

 

দেশের সংকটে সব মত ও পথের মানুষের ঐক্যের বার্তা জাতির মনে নতুন আশার আলো সঞ্চারিত করেছে। নিকট অতীতে এ দেশে জাতীয় ইস্যুতে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হওয়ার নজির খুব একটা নেই। বরং ক্ষুদ্র স্বার্থে বিভাজনের কারণে স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ।

 

বস্তুত ৫ আগস্টের পরে বাংলাদেশ যে ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে এখানের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর অত্যাচার হচ্ছে এবং এখানে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে যেসব প্রচার-প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে, সত্যিকারের জাতীয় ঐক্য ছাড়া তার সঠিক জবাব দেওয়া কঠিন। শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই যদি এই বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া যায় যে, যার যে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় থাকুক না কেন, দেশের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ; দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নেই এবং বাংলাদেশ সংকটে পড়ে গেলে সবাই তার

অভিমত থেকে আরো পড়ুন