https://www.prothomalony.com/

11773

search

অনুসন্ধান

মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছেই, রাশ টানতেই হবে

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ০১:০৩

মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে বারবার সুদের হার বাড়ানো হলেও সুফল মিলছে না নিত্যপণ্যের বাজারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের বিরাজমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির মূলে রয়েছে সরবরাহ ঘাটতি ও বাজার অব্যবস্থাপনা। চাহিদা নিয়ন্ত্রণ বা শুধু সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির মাধ্যমে এ মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়। জিনিসপত্রের দাম কমাতে উৎপাদন ও আমদানি বাড়ানো দরকার। অন্যথায় আগামী দুই-তিন মাসে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।


বিবিএস জানায়, নভেম্বরে দেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। এছাড়া খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আগের মাস তথা অক্টোবরে যা ছিল যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ ও ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত বছরের অর্থাৎ ২০২৩ সালের নভেম্বরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ ও ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ।

নভেম্বরে দেশের গ্রামাঞ্চলের মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ, অক্টোবরে যা ছিল ১১ দশমিক ২৬ ভাগ। গত বছরের একই সময়ে অর্থাৎ নভেম্বরে দেশের গ্রামাঞ্চলের মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। নভেম্বরে গ্রামাঞ্চলের খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৪১ ও ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। চলতি বছরের অক্টোবরে যা ছিল যথাক্রমে ১২ দশমিক ৭৫ ও ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং গত বছরের নভেম্বরে যা ছিল যথাক্রমে ১০ দশমিক ৮৬ ও ৮ শতাংশ।

বিবিএস বলছে, নভেম্বরে শহরাঞ্চলের মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ; অক্টোবরে যা ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০২৩ সালের নভেম্বরে যা ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। নভেম্বরে শহরাঞ্চলের খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৬৩ ও ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে যা ছিল যথাক্রমে ১২ দশমিক ৫৩ ও ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ এবং ২০২৩ সালের নভেম্বরে যা ছিল যথাক্রমে ১০ দশমিক ৫৮ ও ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। সারা দেশের ৬৪টি জেলার ১৫৪টি হাটবাজার থেকে নির্ধারিত সময়ে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ ভোক্তা মূল্য সূচক প্রণয়ন করা হয়েছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফলতার মুখ দেখলেও, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত নভেম্বর মাসের ভোক্তা মূল্যসূচকে (সিপিআই) এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিবিএসের সিপিআই তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরে শহর এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি নাগালের বাইরে গিয়ে ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যেই সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। কিন্তু সুদের হার বাড়লে তা উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ বয়ে আনবে। বিনিয়োগ ও উৎপাদন শ্লথ হয়ে পড়বে। তবে, একইসাথে কিছু ব্যাংকের অবস্থা শোচনীয়। আওয়ামী আমলের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের খেলাপি ঋণ ও অর্থপাচার ব্যাংকিং খাতকে একদম ধসিয়ে দিয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংক প্রায় তারল্য শূন্য হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায়, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে টাকা ছাপিয়ে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে আবার মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বন্ডের মাধ্যমে এই বাড়তি অর্থ তাঁরা ফিরিয়ে আনবে।

সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে এই ব্যাপারটিকে সামাল দিতে সরকারের তরফ থেকে আমদানি লাইসেন্স সহজ করার উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যদিকে, লুটেরা ও পাচারকারীদের টাকা অতি দ্রুত বাজেয়াপ্ত করে সেগুলো সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে একই সাথে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ দুইই করতে হবে। কাজটি কঠিন, কিন্তু এই কঠিন কাজটি না করতে পারলে জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে রক্ষা করা যাবে না।


 

অনুসন্ধান থেকে আরো পড়ুন