https://www.prothomalony.com/
11750
search
প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৪:৪৩
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও অনিয়ম ও দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে। ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা নাজমুল হক চৌধুরীকে আইনি নিয়ম উপেক্ষা করে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে পরিচালকের পদে বহাল রাখা হয়েছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ ছয় বছর এ পদে থাকতে পারবেন এবং তার বয়স হতে হবে ৭৫ বছরের মধ্যে। নাজমুল হক চৌধুরীর বয়স বর্তমানে ৮১ বছর। ব্যাংক তার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বিমানে আসা-যাওয়ার খরচ, পাঁচতারকা হোটেলে থাকা এবং অন্যান্য বিলাসী খরচ বহন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, কাজী আকরাম তার ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার জন্যই ছেলের শ্বশুরকে এই পদে বহাল রেখেছেন।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের লস অ্যাঞ্জেলেস শাখা ‘স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস’ দীর্ঘদিন ধরে আর্থিকভাবে লোকসানে থাকলেও এটি চালু রাখা হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থে। এই শাখায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি কাজী আকরামও এই শাখায় ব্যক্তিগত সভা করেছেন। এই শাখার ম্যানেজার শাহ আলম চৌধুরী ২০১৪ সাল থেকে প্রধান কার্যালয় এবং লস অ্যাঞ্জেলেস শাখা উভয় জায়গা থেকে বেতন নিচ্ছেন। সাধারণ ডেপুটেশনে থাকা কর্মকর্তারা যেখানে এক বেতন পান, সেখানে তিনি দ্বিগুণ বেতন পেয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো প্রকৃতপক্ষে আর্থিকভাবে লোকসানে থাকলেও প্রতিবছর মুনাফা দেখানো হয়। এসব মুনাফা আর্থিক প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করে কৃত্রিমভাবে ব্যাংকের লাভ দেখানো হয়, যা মূলত অর্থপাচার ও আর্থিক দুর্নীতির অংশ।
কাজী আকরামের নেতৃত্বে ব্যাংকের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়মবহির্ভূত কাজের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ধ্বংস করেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেট ব্যাংকের তহবিল ব্যবহার করে নিজেরা লাভবান হয়েছে এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করেছে। ব্যাংকের তহবিল ব্যবহার করে কাজী আকরামের ছেলে কাজী খুররম প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করেন।
ব্যাংকের পরিচালনা ও আর্থিক কার্যক্রমে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি দেশের ব্যাংকিং খাতকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এবি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের অনিয়মের ঘটনা সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং খাতের প্রতি আস্থা নষ্ট করছে বলে মতামত বিশেষজ্ঞদের।
অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ না নিলে দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমবে।
অনুসন্ধান থেকে আরো পড়ুন