https://www.prothomalony.com/

11477

new-york

নিউইয়র্ক

ট্রাম্পের ‘গণ-নির্বাসন’ পরিকল্পনায় আতঙ্কিত নিউইয়র্কের অভিবাসীরা

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৪ ০০:১৫

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গণ নির্বাসন পরিকল্পনার কারণে নিউইয়র্ক সিটির অভিবাসী সম্প্রদায়গুলোতে চরম ভীতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে ব্রুকলিন ও কুইন্সের মতো এলাকায় বসবাসকারী অনথিভুক্ত অভিবাসীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগে আছেন।

জানা গেছে, নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ৪১ লাখ ২০ হাজার অনথিভুক্ত অভিবাসী বসবাস করছেন। এখানে অধিকাংশ অভিবাসী সুরক্ষিত থাকেন। সচরাচর ভয়াবহ কোন অপরাধ না করলে কাউকে নির্বাসিত করা হয় না। তবে সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী নীতি শঙ্কিত করছে লাখ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীদের।

ইয়াতজিরি টোভার ব্রুকলিনে বসবাস করছেন। তার সাছে মা-বাবাও রয়েছেন। তারা প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে আছেন। তোভার বলেন, আমার বাবা-মা নিজেদের নিউইয়র্কবাসী হিসেবে মনে করেন, অন্য সবার মতো। কিন্তু এখন তারা আতঙ্কে আছেন। টোভার মনে করেন, ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অভিবাসন এজেন্টদের সক্রিয় করবেন এবং বিপুল সংখ্যক অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বিতাড়িত করবেন।

টোভার বলেন, আমার বন্ধুদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরাও নথিভুক্ত নন। তাদের জন্যও ভয় লাগছে। কারণ আমরা জানি ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করতে চায়।

এই আতঙ্ক ব্রুকলিনের বুশউইক ও কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। জনসন নামে কুইন্সের অপর এক বাসিন্দা বলেন, আমি ভীত! আমার সন্তান ও নাতি-নাতনি রয়েছে। আমি কঠোর পরিশ্রম করি। আমাদের নির্বাসন করা অন্যায় হবে।

নিউইয়র্ক সিটির ব্যবসায়ী ও সংগঠক ক্যাথরিন ওয়াইল্ড বলেন, অভিবাসীরা কর দিয়ে আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। প্রায়শই এখানে ১০-২০ বছর ধরে আইনি মর্যাদা ছাড়াই রয়েছেন। কোনো নীতি এই জনসংখ্যাকে বিঘ্নিত করলে তা আমাদের অর্থনীতি ও শহরের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।

বন্ধ হচ্ছে নিউইয়র্কের অভিবাসীদের ‘খাদ্য ভাউচার’

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামসের প্রশাসন ঘোষণা শহরের অভিবাসী পরিবারগুলির জন্য খাদ্য ভাউচার সরবরাহ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রোগ্রামটি শহরের হোটেলে আশ্রয় নেওয়া অভিবাসী পরিবারগুলোকে তাদের প্রয়োজনীয় খাবার ও দৈনন্দিন সামগ্রী কেনার জন্য প্রিপেইড ডেবিট কার্ড দিতো। তবে বছরের শেষ পর্যন্ত অভিবাসী পরিবারগুলোকে এই সুবিধা দেওয়া হবে এবং এরপর থেকে শহর কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে সরাসরি খাবার পৌঁছে দেবে।

মেয়র অ্যাডামস এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা আশ্রয়প্রার্থী প্রোগ্রামের জন্য আরও কার্যকর ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি প্রয়োগের লক্ষ্যে কাজ করছি। গত দুই বছরে ২ লাখ ২২ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে সহায়তা প্রদান এবং আশ্রয় ব্যবস্থাপনায় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছি।

মেয়র অ্যাডামস এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনার পর এমন সিদ্ধান্ত আসে। যেখানে তারা নিউইয়র্ক সিটির অবকাঠামো, জননিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। অ্যাডামস বলেন, নিউইয়র্ক সিটিকে এগিয়ে নিতে আমাদের অবশ্যই ফেডারেল প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

এই প্রোগ্রামটি চালুর পর থেকে প্রায় ২ হাজার ৬শ অভিবাসী পরিবারকে প্রায় ৩.২ মিলিয়ন ডলারের প্রিপেইড ডেবিট কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে। চার সদস্যের একটি পরিবারকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩৫০ ডলার মূল্যের ভাউচার দেওয়া হয়। যা তাদের স্থানীয় বাজার থেকে খাবার কেনার সুযোগ করে দেয়।

দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারে অভিবাসনকে তার এজেন্ডার শীর্ষে রেখেছিলেন তিনি। দেশের দক্ষিণ সীমান্তে, তার ভাষায় ‘নজিরবিহীন শৃঙ্খলা’ আরোপ করার অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প অঙ্গীকার করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম দিনেই তিনি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কার অভিযান শুরু করবেন। প্রচারের পুরো সময়জুড়ে ট্রাম্প অভিবাসনকে একটি সংকট হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি অবৈধ অভিবাসন এবং নতুন অভিবাসী আটকানোর লক্ষ্যে এক রাশ বিতর্কিত নীতি দ্রুত বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার করেছেন।

এদিকে নির্বাচিত হতে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প একটি গণ নির্বাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন,আমার প্রথম কার্যদিবস থেকে আক্রমনাত্মক অভিবাসন নীতি প্রয়োগে অভিযান শুরু করা হবে। যার আওতায় অপরাধমূলক রেকর্ডসহ অবৈধ বাসিন্দাদের নির্বাসন করা হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংক্রান্ত আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই নির্দেশনা মার্কিন সংবিধানবিরোধী এবং যদি ক্ষমতা গ্রহণের পর সত্যিই এই নির্দেশনা কার্যকর হয়, তাহলে সংবিধান লঙ্ঘনের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটবে।
 

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন