https://www.prothomalony.com/

11360

new-york

নিউইয়র্ক

চট্টগ্রাম সমিতির চ্যালেঞ্জ ভোটের সিদ্ধান্ত শেষে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা : আবু তাহের সভাপতি ও আরিফ সাধারণ সম্পাদক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৪ ০১:৫২

চট্টগ্রাম সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন-২০২৪ এর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ২৫ অক্টোবর শুক্রবার নির্বাচন কমিশন সর্বসম্মতভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করে। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইঞ্জিনিয়ার শেখ মোহাম্মদ খালেদ, নির্বাচন কমিশনার যথাক্রমে বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন প্রকাশ মোহাম্মদ হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম প্রকাশ হারুন, সাংবাদিক শাহাব উদ্দিন সাগর, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল হান্নান চৌধুরী বৈঠক করেন। ইলেকশন সার্ভিসেস ইউনাইটেডের কাছ থেকে চ্যালেঞ্জ ভোট গণনাসহ চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন এ বৈঠকে বসে। বৈঠক শেষে কমিশনের পাঁচ সদস্য স্বাক্ষর করে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে। এ ফলাফল নির্বাচনে অংশ নেয়া প্যানেল, প্যানেলের প্রতিনিধি, অর্ন্তবর্তীকালীন কমিটি এবং গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

২০ অক্টোবর রোববার চট্টগ্রাম এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্কের জ্যামাইকা, ব্রুকলিন ও কানেক্টিকাটের স্টামফোর্ড এবং প্যানসেলভেনিয়ার আপার ডারবি কেন্দ্রে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোট গণনা শেষে ব্রুকলিন কেন্দ্রে নির্বাচনের অন্তর্বর্তী ফলাফল প্রকাশ করা। ইলেকশন সার্ভিসেস ইউনাইটেড ৬টি চ্যালেঞ্জ ভোট গণনা বাদ রেখে ফলাফল প্রকাশ করে। ৬ টি চ্যালেঞ্জ ভোটের মধ্যে ৪ টি ছিল ডিজিটাল আইডি দেখিয়ে ভোট প্রদান, ১ টি ভোটার তালিকা নাম উঠানোর সময় বানান ভুল ও অপরটি আজীবন সদস্যের সনদ প্রদর্শন করা হলেও ভোটার তালিকায় নাম না থাকা। নির্বাচনের অন্তর্বর্তী ফলাফল প্রকাশ করার সময় দুই প্যানেলের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা ব্রুকলিন কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের পাঁচ সদস্য ওই সময় বক্তব্য রাখেন এবং অন্তর্বর্তী ফলাফল প্রকাশের আগে প্রায় ১ ঘণ্টা রুদ্ধধার বৈঠক করেন। বৈঠকে চূড়ান্ত ফলাফল দেয়ার পূর্বে ৬ টি চ্যালেঞ্জ ভোট গননার ব্যাপারে ব্যাপক তদন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
২২ অক্টোবর আজীবন সদস্য এবং ভোটার তালিকায় বানান ভুল ভোটারের ব্যাপারে তথ্য যাচায়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির কাছে চিঠি প্রদান করে নির্বাচন কমিশন। একই দিন নির্বাচন কমিশনের পাঁচ সদস্য ব্যাপক স্বচ্ছতার লক্ষ্যে চ্যালেঞ্জ ভোটগুলোর তথ্য যাচাইয়ে উদ্যোগ নেয়। তারা চারটি চ্যালেঞ্জ ভোট তদন্ত করে, তার মাঝে স্বাক্ষর মিল না থাকার কারণে নির্বাচন কমিশন একটি ভোট বাতিল করে।


২৪ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির কাছ থেকে চিঠির জবাব পায় নির্বাচন কমিশন। এতে আজীবন সদস্যের ব্যাপারে তথ্য না পাওয়া এবং একজন ভোটারের নামের বানান ভুলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ওই দিনই নির্বাচন কমিশন ৪ টি ভোট গণনা করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের ব্যাপারে ইলেকশন সার্ভিসেস ইউনাইটেডের কাছে চিঠি দেয়। গত ২৫ অক্টোবর ইলেকশন সার্ভিসেস ইউনাইটেডের কাছ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়ার পরই তা প্রকাশ করে। এই ফলাফল নির্বাচনের প্যানেলের প্রধান, প্যানেলের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এ ফলাফল স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়েছে।
১৪ জুন নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির কাছ থেকে। এর পর থেকে নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করে। যাতে সর্বস্তরের ভোটররা ইতোমধ্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যেক সদস্য ‘ভলান্টিয়ারি জব’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব নেয়ার শুরু থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠান পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন, অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি ও নির্বাচন কমিশন মিলে ভার্চুয়াল এবং উপস্থিতিসহ মোট ১৭ টি সভা করে। এসব সভায় নির্বাচন অনুষ্ঠান, নির্বাচনের পদ্ধতি, আচরণবিধি, বাজেটসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ব্রুকলিন কেন্দ্রের একটি চ্যালেঞ্জ ভোট এবং জ্যামাইকা কেন্দ্রের একটি চ্যালেঞ্জ ভোটের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন যাচাই বাছাইয়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সহযোগিতা নেয়।
২২ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিকে এ নিয়ে একটি চিঠি দেয়া হয়। ২৪ অক্টোবর কমিটি একটি ভোটারের ব্যাপারে ইতিবাচক এবং আরেকটি ভোটারের ব্যাপারে তথ্য উপাত্ত না পাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়।

 অভিযোগ উঠার পর নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেয় ফিলাডেলফিয়ার ভোটগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত করার।  ২২ অক্টোবর অতি স্বচ্ছতায় সে তদন্ত সম্পন্ন হয়। চারজনের চ্যালেঞ্জ ভোটের মধ্যে স্বাক্ষর না মেলায় একজন নারী ভোটারের চ্যালেঞ্জ ভোটটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশরের পাঁচ জন সদস্য একমত হয়ে চারটি ভোটের ব্যাপারে গণনা করে ফাইনাল ফলাফল প্রকাশ করতে ইলেকশন সার্ভিসেস ইউনাইটেডের কাছে চিঠি প্রদান করে। ২৫ অক্টোবর ইলেকশন সার্ভিসেস ইউনাইটেড তাদের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ভোটগুলো গণনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে ফলাফল প্রকাশ করে। যা চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে গণমাধ্যমে প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রদান করা হয়।

 নির্বাচনের তিন দিন আগে নির্বাচন কমিশন, অর্ন্তবর্তীকালীন কমিটি, নির্বাচনের প্যানেলের প্রধান, স্বতন্ত্র প্রার্থী, প্যানেলের প্রতিনিধিদের নিয়ে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় অর্ন্তবর্তীকালীন কমিটির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আনোয়ারের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইঞ্জিনিয়ার শেখ মোহাম্মদ খালেদ নির্বাচন কমিশনারদের দায়িত্ব বণ্ঠন এবং কে কোন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন তা উল্লেখ করেন পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনাররা ব্রুকলিন ও জ্যামাইকা কেন্দ্রে থাকবেন বলেও জানান।
চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায় ২ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তাহের-আরিফ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মোহাম্মদ আবু তাহের। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী একই প্যানেলের মো: আরিফুল ইসলাম ২৯ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সভাপতি প্রার্থী মোহাম্মদ আবু তাহের পেয়েছেন ১০৩০ ভোট, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাকসুদ- মাসুদ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মাকসুদুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ১০২৮ ভোট। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো: আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ৯৬২ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ মাসুদ এইচ সিরাজী পেয়েছেন ৯৩৩ ভোট। সিনিয়র সহ সভাপতি পদে মাকসুদ-মাসুদ পরিষদের মোহাম্মদ মুক্তাদির বিল্লাহ ১১০৯ ভোট পেয়ে বিজীয় হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী নূর পেয়েছেন ৯২০ ভোট। সহ সভাপতি পদে মাকসুদ-মাসুদ প্যানেলের আলী আকবর বাপ্পী ১০৬৮ ভোট, মোহাম্মদ আইয়ুব আনছারী ১০২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে তাহের-আরিফ প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফরিদ আহমেদ চৌধুরী পেয়েছেন ৯৭৫, হাজী মোহাম্মদ টি আলম পেয়েছেন ৯৫০ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে তাহের-আরিফ প্যানেলের মো: আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ৯৬২ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাকসুদ-মাসুদ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ মাসুদ এইচ সিরাজী পেয়েছেন ৯৩৩ ভোট। স্বতন্ত্র সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মুহাম্মদ মহিউদ্দিন চৌধুরী (খোকন) পেয়েছেন ১৪৫ ভোট। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মাকসুদ-মাসুদ প্যানেলের ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া ১০৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী মো: কলিম উল্যাহ পেয়েছেন ৯৫৬ ভোট। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মাকসুদ-মাসুদ প্যানেলের মো: হারুন মিয়া ১০৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তাহের-আরিফ প্যানেলের মো: নওশাদ কামাল পেয়েছেন ৯৯৫ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে তাহের-আরিফ প্যানেলের মো: শফিকুল আলম ১ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাহিত হয়েছেন, তার প্রাপ্ত ভোট ১০১৪ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মাকসুদ-মাসুদ প্যানেলের মোহাম্মদ সুমন উদ্দিন পেয়েছেন ১০১৩ ভোট। সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদে তাহের-আরিফ প্যানেলের মোহাম্মদ নুরুল আমিন বিজীয় হয়েছেন, তার প্রাপ্ত ভোট ১০৩১, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাকসুদ-মাসুদ প্যানেলের তমাল কান্তি চৌধুরী পেয়েছেন ৯৮১ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মাকসুদ-মাসুদ পরিষদের মোহাম্মদ ফরহাদ বিজয়ী হয়েছেন, তার প্রাপ্ত ভোট ১০৩২। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তাহের-আরিফ প্যানেলের মো: তানিম মহসিন পেয়েছেন ৯৮৯ ভোট। দপ্তর সম্পাদক পদে তাহের-আরিফ প্যানেলের অজয় প্রসাদ তালুকদার এক ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১০০৪। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাকসুদ-মাসুদ প্যানেলের শিমুল বড়ুয়া পেয়েছেন ১০০৩ ভোট। সহকারী দপ্তর সম্পাদক পদে তাহের-আরিফ প্যানেলের ইমরুল কায়সার ১৯ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার প্রাপ্ত ভোট ১০২২, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাকসুদ-মাসুদ প্যানেলের মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন (আতিক) পেয়েছেন ১০০৩ ভোট। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ২৮ ভোট বেশি পেয়ে তাহের-আরিফ প্যানেলের এনামুল হক চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন, তার প্রাপ্ত ভোট ১০২১, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাকসুদ-মাসুদ পরিষদের সুশান্ত দত্ত পেয়েছেন ৯৯৩ ভোট। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে তাহের-আরিফ প্যানেলের মোহাম্মদ জাবের শফি নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি পেয়েছেন ১০২২ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাকসুদ-মাসুদ প্যানেলে মো: আবদুল অদুদ পেয়েছেন ৯৯৪ ভোট। সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদে মাকসুদ-মাসুদ প্যানেলের আকতার উল আজম নির্বাচিত হয়েছেন, তার প্রাপ্ত ভোট ১০৩৪, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো: আকতার হোছাইন পেয়েছেন ৯৭৯ ভোট। ক্রীড়া সম্পাদক পদে তাহের-আরিফ প্যানেলের মোহাম্মদ ইসা ৬ ভোট বেশি পেয়ে বিজীয় হয়েছেন, তার প্রাপ্ত ভোট ১০১৩, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাকসুদ-মাসুদ প্যানেলের মো: জাহেদুল আজম (জাহেদ) পেয়েছেন ১০০৭ ভোট। কার্যকরী সদস্য পদে মাকসুদ-মাসুদ প্যানেলের তিন জন নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন মোহাম্মদ শওকত আলী ১০৪৮ ভোট, মোহাম্মদ শাহ আলম ১০২১ ভোট, নুরুস সোফা ১০১৯ ভোট। এছাড়া তাহের-আরিফ প্যানেলে তিন জন কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ নাসির চৌধুরী পেয়েছেন ৯৯৬ ভোট, পল্লব রায় পেয়েছেন ৯৬৫ ভোট এবং মোহাম্মদ মহিম উদ্দিন পেয়েছেন ৯৬০ ভোট। - প্রেস  বিজ্ঞপ্তি।
 

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন