https://www.prothomalony.com/
10907
north-america
১১ সেপ্টেম্বর বুধবার ভয়াল 'নাইন ইলেভেন' ঘটনার ২৩তম বর্ষপূর্তি ছিল। ২৩ বছর পার হয়ে গেলেও এখনও এ দিনটি বিশ্বের অনেক কিছুই পাল্টে দেয়ার দিন মনে করা হয়। এ ঘটানর জের ধরে পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব পড়েছে তার রেশ হয়ত এখনও পুরোপুরি কাটেনি। নিউইয়র্ক সহ সর্বত্র দিবসটি পালিত হয়েছে। নিউইয়র্কে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের মেমোরিয়েলে শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অপর প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। রাজনৈতিক বিরোধ পাশে রেখে ভয়াল ১১ সেপ্টেম্বরের নিহতদের স্মরণ করেছেন দুই নেতা। বিষয়টি সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। ২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর দিনটি ছিলো মঙ্গলবার। সকালে আমেরিকান এয়ার লাইনসের ফ্লাইট ১১ বস্টোন থেকে লস এঞ্জেলেসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিমানটিতে মোট যাত্রী ছিলেন ৮১ জন আর ক্রু মেম্বার ১১ জন। উড়ার ১৫ মিনিট পরেই ৮১ জন যাত্রী থেকে ৫ জন বিমানটি হাইজ্যাক করে নেয়। তারা সাধারণ যাত্রী ও পাইলটদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়, এমনকি তাদের মধ্যে একজন প্রশিক্ষিত পাইলটও ছিলো। জঙ্গিরা বিমানের গতিপথ বদলে নিউইয়র্কের দিকে নিয়ে যায়। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বিমানটি আছড়ে পরে নিউইয়র্কে অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার সে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তো বটেই, পৃথিবীর অন্যতম উঁচু ভবন ছিলো। এর একই রকম দেখতে দুইটি টাওয়ার ছিলো তাই একে টুইন টাওয়ারও বলা হতো। ১১০ তলা ভবনের ৮০তম তলায় আছড়ে পরে বিমানটি। সাথে সাথেই প্রাণ হারান শত-শত মানুষ। আর ভবনে ধরে যায় ভয়াবহ আগুন। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লু বুশ সে সময়ে যাচ্ছিলেন একটি স্কুল পরিদর্শনে। তার কাছে খবর পৌঁছালে তিনি এটিকে একটি দুর্ঘটনা ভাবেন। তিনি ভাবেন বিমানের পাইলট সম্ভবত অসুস্থ ছিলেন। ১৮ মিনিট পর অর্থাৎ, সকাল ৯টা ৩ মিনিটে দক্ষিণ টাওয়ারে আছড়ে পরে আরও একতি বিমান। এবার কারও বুঝতে বাকি থাকলো না যে এটি কোন দুর্ঘটনা না, বরং একটি পরিকল্পিত হামলা। পেসিডেন্ট বুশকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের উপর হামলা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর খবর আসে দুইটি নয়, মোট ৪টি বিমান হাইজ্যাক করা হয়েছে। মোট ১৯ জন হাইজ্যাকার ৪টি বিমানই একই কায়দায় হাইজ্যাক করে আত্মঘাতি হামলা সংগঠিত করছে। টুইন টাওয়ারে হামলার প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর অর্থাৎ ৯টা ৪৫ মিনিটে হাইজ্যাক হওয়া ৩য় বিমানটি আছড়ে পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনে। হামলার ফলে পেন্টাগনের পশ্চিম দিকের ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। হাইজ্যাক হওয়া ৪র্থ বিমানটি যাচ্ছিলো রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির দিকে। ধারনা করা হয় এর লক্ষ্য ছিলো হোয়াইট হাউস অথবা ক্যাপিটল হিল । তবে সেই বিমানে থাকা যাত্রীরা হাইজ্যাকারদের বিরুদ্ধে পালটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। বিমানের ভেতরেই শুরু হয় ধ্বস্থাধ্বস্তি। আর বিমানটি রাজধানীর কাছেই একটি খোলা মাঠে আছড়ে পরে। এই ঘটনায় নড়ে উঠে পুরো বিশ্ব। আনুষ্ঠানিক ভাবে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৯৬ জন। যাদের মধ্যে মোট ৭৮টি দেশের নাগরিক ছিলেন। ওসামা বিন লাদেনের সংগঠন আল কায়দা হামলার দায় স্বীকার করে। পেছনের কারণ হিসেবে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হস্থক্ষেপ, ইসরাইলকে সমর্থন, সৌদি আরবের সাথে সামরিক চুক্তি ইত্যাদির প্রতিশোধ নিতেই ঘটানো হয় এই হামলা। আর এই হামলার পর থেকেই দ্রুত বদলে যায় বিশ্ব রাজনীতি। যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ও ইরাকে হামলা চালিয়ে সরকার উৎখাত করে। লিবিয়ার গাদ্দাফি সরকারের উৎখাত ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে শত্রুর এমন হামলায় তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর ক্ষত নিয়ে এখনও প্রতিবছর দিবসটিতে শোকে ও আবেগে দেশটি ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠে। ৯/১১ হামলার পর, জঙ্গিবাদ দমনের নামে আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশে সামরিক আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে প্রাণ হারান বহু নিরপরাধ মানুষ। শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই না, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেদের উপরও হতে থাকে হামলা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম, দ্যা ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০১ এর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের উপর হেট ক্রাইম বা ঘৃণার কারণে সংগঠিত অপরাধ বেড়ে গেছে কয়েক গুন! এ ছাড়াও এই ঘটনার ৬ মাসের মধ্যে জর্জ ডাব্লু বুশ পেট্রিয়ট এক্ট নামের একটি আইন পাশ করেন, যার বলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার যে কোন সময়ে, যে কোন নাগরিকের যে কোন ব্যাক্তিগত কথপোকথন, ফোনালাপ বা চিঠির উপর নজরদারি করতে পারবে। ১১ সেপ্টেম্বর এই ঘটনার ২৩তম বর্ষপূর্তি। ২৩ বছর পার হয়ে গেলেও এখনও অনেকের মনে দাগ কেটে আছে ঘটনাটি। শুধু তাই না, এর পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব পড়েছে তার রেশ হয়ত এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন