https://www.prothomalony.com/
10692
north-america
বাংলাদেশে নীরব সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে বলা হয়েছে বিখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্যা হিলের এক মতামত প্রতিবেদনে। ১৭ আগস্ট শনিবার ভারতীয় কলামিস্ট ব্রহ্মা চেলানি লিখিত এ 'কোয়াইট মিলিটারি ক্যু ইন বাংলাদেশ' শিরোনামে প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে সরকার উৎখাত ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে হয়েছে বলে বহু সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে। 'লৌহ মানবী' খ্যাত শেখ হাসিনাকে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া সামরিক বাহিনীর ভূমিকা এবং রাষ্ট্র ক্ষমতার কেন্দ্রে সামরিক বাহিনীর অভিষেকের কথা অনেকেই বলছে না বলে প্রতিবেদক উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৮ম জনবহুল দেশ বাংলাদেশে বেসামরিকতার ছদ্মাবরণে প্রকৃত অর্থে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে গেছে। উপদেষ্টা হিসেবে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মার্কিন স্যাংশন থেকে নিজেদের রক্ষা করা এবং পশ্চিমা মিডিয়ার কাছে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের ভাববিলাসী চিত্র তুলে ধারা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নোবেল বিজয়ী ৮৪ বছর বয়সের ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে সামনে রেখে দেশের সামরিক শাসনকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বলা হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনুস মাইক্রোক্রেডিটের জন্য খ্যাত এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বন্ধু বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। দ্যা হিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন শাসকদের মেয়াদ এবং করণীয় নির্ধারিত নয়। উপদেষ্টারা মূলত নেপথ্যের সামরিক শক্তির নির্দেশেই কাজ করছেন। বিশেষ করে নেপথ্যের মূল ব্যক্তি সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের নির্দেশেই তারা কাজ করছেন বলে বলা হয়েছে। উপদেষ্টাদের মধ্যে আন্দোলনাকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দুই জনকে, একজন হার্ডলাইন রক্ষণশীল নেতা ও দুইজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলকে নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে সামরিক বাহিনী থেকে নেয়া একজনকে দেশের আইন শৃঙ্খলা উন্নয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হাসিনার ১৫ বছরের ধর্মনিরপেক্ষ কিন্তু ক্রমবর্ধমান স্বৈরশাসক হয়ে সরকার উৎখাতে ধর্মাশ্রয়ীদের সমর্থনপুষ্ট সহিংস ছাত্র আন্দোলন সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তবে ক্ষমতা থেকে শেখ হাসিনার চলে যাওয়া নির্ধারিত হয়েছে সেনা বাহিনীর সমর্থন হারানোর মাধ্যমে। রাজধানী ঢাকায় যখন আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছিল তখন সরকারের নির্দেশে ঢাকা লকডাউনের নির্দেশ সেনাবাহিনী প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে শেখ হাসিনার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল এবং তাঁর দেশ ত্যাগের পর সেনাবাহিনী প্রাসঙ্গিক থাকতে পেরেছে।
সরকারি বাসভবন থেকে লুটপাটের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শেখ হাসিনাকে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া একটি পরিকল্পনার অংশ ছিল। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করা বা কারাগারে আটক করে ক্ষমতা গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ বলেই বিকল্প পথ বেছে নেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা ইসলামি জঙ্গিদের দমন করে রেখেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হাসিনার পতনকে ত্বরান্বিত করতে আন্দোলনকে ব্যবহার করা হয়েছে। সহিংসতা ঘটানোর সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার কাজিনের বৈবাহিক সূত্রে ব্যক্তিকে সেনা প্রধান করেছিলেন। শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের সবকিছু স্থবির হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি পুরোই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শেখ হাসিনার পতনের পর সেনা প্রধান তাঁর বাহিনীকে দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দেশ দেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনা বাহিনীর দখলদারিত্ব, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে হত্যা করা সহ ক্ষমতা ও ব্যবসা বাণিজ্যে সেনাবাহিনীর জড়িয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করেছে। দ্যা হিলের পুরো প্রতিবেদনে অবশ্য কোথাও শেখ হাসিনার পনেরো বছরের কোন অনিয়ম, দুর্নীতি দমন নিপীড়নের কোন বিবরণের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন