https://www.prothomalony.com/

10049

north-america

উত্তর আমেরিকা

নাইজেরিয়ায় লাখো মুসল্লীর এবার ঈদ নেই

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪ ১৩:২৬

আনুমানিক ১০ কোটি মুসল্লির দেশ নাইজেরিয়া। তাই প্রতিবছর দেশটিতে উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মুসলিম ধর্মীয় উৎসব এবং অনুষ্ঠানগুলো যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। কিন্তু এবার দেশটিতে উৎসবের চেয়ে সংকটই বড় হয়ে উঠেছে।

নাইজেরিয়ার হাজার হাজার মুসল্লি এবার পবিত্র ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি দিতে পারেননি। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাপনের ব্যয় বেড়ে যাওয়াই এর পেছনে দায়ী বলে মত দিয়েছেন স্থানীয়রা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

৭৮ বছর বয়সী মাললাম কবিরু টুডুন ওদা নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বিবিসিকে বলেন, ‘প্রতি বছরই কোরবানির ঈদে আমি পশু কোরবানি দিয়ে থাকি। ১৯৭৬ সাল থেকে এই ধর্মীয় অনুশাসন পালন করে আসছি। কিন্তু এবারই প্রথম কোরবানি দিতে পারলাম না। নাইজেরিয়ায় আমার মতো আরও হাজার হাজার মুসলিমের একই অবস্থা।’

গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে নাইজেরিয়া। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩০ শতাংশ, যা গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া খাবারের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ। তাই বেশির ভাগ নাইজেরিয়ানের কাছে এখন একমাত্র অগ্রাধিকার মৌলিক খাবার জোগাড় করে কোনোমতে বেঁচে থাকা।

৫৪ বছর বয়সী শামসু মোহাম্মদ বলেন, ‘কেউ যদি আমাকে এখন কোরবানির উদ্দেশ্যে পশু কেনার জন্য টাকা দেয়, সেই টাকা দিয়ে সবার আগে আমি কিছু খাবার কিনে মজুত করব। এটাই এখন বেশি দরকার।’

পশু কোরবানি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইসলাম ধর্মে বলা আছে, যারা সামর্থবান, এই ইবাদত তাদের জন্য। সবার জন্য এই বিধান বাধ্যতামূলক নয়।’

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদের আগে নাইজেরিয়ায় একটি ভেড়া ১ লাখ নায়রা বা ৬৩ ডলারে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এত বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে অনেকেই কোরবানির পশু কিনতে পারেননি এবার।

মাললাম আউয়াল ইয়াসাই নামের ৬৩ বছর বয়সী এক নাইজেরিয়ান বলেন, ‘আগেই বুঝতে পেরেছিলাম যে এ বছর একা একা কোরবানি দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই একজন ভাগিদার খুঁজছিলাম। শেষ পর্যন্ত দু্ইজন মিলে একটি উট কিনতে পেরেছি।’

মহান আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী নবী ইব্রাহিমের (আ.) দেখানো পথ অনুসরণ করে প্রতি বছর পবিত্র কোরবানিতে বিশ্বের মুসলিমরা পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন