https://www.prothomalony.com/
9700
decoration
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪ ১৮:৩৭
শনিবার, মে মাসের চার তারিখে নিউইয়র্ক শহরের টাইম স্কয়ারে "Saree goes globa" অনুষ্ঠানে শামিল হয়েছিল ৫০০'র অধিক নারী। বিশ্বব্যাপী শাড়িকে সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত করা, নারীর ক্ষমতায়ন, এবং তাঁত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখবার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ডাক্তার দীপ্তি জৈন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত "ব্রিটিশ ওমেন ইন শাড়িস (BWIS)" নামে ব্রিটেন এর একটি সংগঠন।
ব্রিটেনের বিভিন্ন অঞ্চলে শাড়ি পরিহিত নারীদের নিয়ে অনুষ্ঠানের পর, বিশ্বব্যাপী এর প্রচারের লক্ষ্যে, ডাক্তার রিতা কাকটি-শাহ পরিচালিত নিউ ইয়র্কের সংগঠন "উমা" কে সাথে নিয়ে এবারের আয়োজন ছিল আরো ব্যাপক। ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, উগান্ডা, ত্রিনিদাদ, ব্রিটেন, আমেরিকা সহ আরো অনেক দেশ এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে। নাজনীন হোসেইন ও ড: সুবর্ণা খানের নেতৃত্বে, আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল এবং ব্রিটেন থেকে আগত ১০০ এর অধিক নারীর সমন্বয়ে বাংলাদেশ দল লাল-সুবজের সাজে, দেশীয় শাড়ি পরে, নেচে গেয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেন। অলিম্পিক প্যারেডের আদলে পতাকা হাতে বিভিন্ন দেশ ঢোলের তালে তালে টাইম স্কোয়ারের একটি অংশ প্রদক্ষিণ করেI বাংলাদেশ দলের পক্ষে রুবিনা আজিজ ও তাহেরা কবির প্লেকার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শাড়ির পরিচিতি তুলে ধরে, যেমন ঢাকাই জামদানি ও মসলিন, রাজশাহী সিল্ক, মিরপুর কাতান, নকশি কাঁথা, তাঁত/মনিপুরী। প্যারেড শেষে সকল দেশ একের পর এক নৃত্য পরিবেশন কর।
"Saree goes global" -ইভেন্টে অংশগ্রহণ করা পপি জামান(ইউকে) তার অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, 'শাড়ির মাধ্যমে, অভিবাসী মহিলাদের বিশ্বব্যাপী সংহতি প্রদর্শন করা হয়েছিল যা "Saree goes global" নামে পরিচিত। আমরা গর্বিতভাবে পূর্বপুরুষদের কারুশিল্প প্রদর্শন করেছি, যা এখন আমরা কে তার পরিচয় দিচ্ছে। বর্ণ ও নৈপুণ্যে প্রতিভাবান ৫০০টিরও বেশি মহিলা দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়া আয়োজনটি আমার মতো লোকেদের জন্য যারা সংখ্যালঘুতে বেড়ে উঠেছেন, একটি শক্তিশালী অনুস্মারক হিসাবে কাজ করেছিল।'
নিউইয়র্কের পাপিয়া আশরাফ বলেন, 'আমি মনে করি এই "saree goes global" ইভেন্টটি ভারতীয় উপমহাদেশের নারীদের জন্য একটি আইকনিক পোশাক পরে আনন্দ এবং গর্ব প্রকাশ করার সময়টি, বিশ্বের কাছে আমাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের একটি চমৎকার প্রদর্শন ছিল।'
নিউজার্সির ফাহমিনা জব্বার বলেন, 'সুন্দর একটা দিনে টাইমস্কয়ারের ঝলমলে বিল্ডিং এর মাঝে লাল সবুজ শাড়ির বাংলাদেশের অনন্য ঐতিয্যময় শাড়ির প্রদর্শন ছিন মন কাড়ার মতো। হাসি, গান আর নাচে সবার সাথে একটা খুব সুন্দর দিন কাটানোর অনভূতি সত্যি অতুলনীয়। '
নিউজার্সির শরোদিয়া রয় বলেন, 'প্রথম জন্ম নেওয়া বাঙালি-আমেরিকান হিসেবে, আমি "Saree Goes Global" ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে আনন্দিত ছিলাম! আমাদের দেশে এই ধরনের অনেক অনন্য সুযোগ নেই, তাই আমাদের দেশের জাতীয়তাবাদকে বৃহত্তর সম্প্রদায়ের কাছে গর্বিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি হৃদয়গ্রাহী ছিল। আপনি কি কখনো আপনার দেশের পতাকা ধরেছেন এবং শত শত লোকের সামনে শহর ঘুরেছেন? নিউ ইয়র্ক শহরের কেন্দ্রস্থলে আমার সংস্কৃতিকে আলিঙ্গন করা আমার জন্য নতুন করে ভাবার একটি অভিজ্ঞতা ছিল, এবং আমি সবসময় আমার ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে লালন করতে থাকব যাতে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে কিছু না কিছু থাকে।'
কানাডায় বসবাসরত ডক্টর সালমা খান বলেন, 'নদী চর খাল বিল গজারির বন, টাঙ্গাইল শাড়ি তার গর্বের ধন। শাড়ি আমার ছোট বেলা থেকেই প্রিয়, তাইতো আমি BWIS এ ঢুকেছি "Saree Goes Global" অলিম্পিক স্টাইল প্যারেড এন্ড ডান্স করতে, টিম বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে! আমরা নতুন প্রজন্মকে দেখাতে চাই শাড়ি আমাদের প্রিয়, শাড়ি আমাদের জাতীয় পোশাক। পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়-আর আমাদের মন ভরে যায় শাড়ির প্রাচুর্যে।'
শাড়ি পরে ম্যানহাটান টাইমস্কয়ারে হাঁটা, এ এক অসম্ভ উপলব্ধি বলে জানান ডক্টর আদিবা গীতি (VA)। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশকে গানে, নানা রঙের শাড়ির সমারোহে "চলো বাংলাদেশ" নাচের ছন্দে পরিবেশনা আর সবার সাথে মিলে হাঁটা এক অন্যরকম ভালো লাগা। বাংলাদেশ আমাদের অহংকার!'
নওশিবা আহমেদ উপমা বলেন, 'টাইমস স্কয়ারে বিভিন্ন দেশের লোকজনকে একত্রিত হতে দেখে খুব ভালো লাগলো। তারা তাদের সুন্দর শাড়ি দিয়ে রঙের এক মন্ত্রমুগ্ধ সমুদ্র তৈরি করেছে। টিম বাংলাদেশ এর অংশ হিসেবে আমার সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করাটা সম্মানের বিষয়।'
"চলো বাংলাদেশ" গানের সাথে বাংলাদেশ দলের নৃত্য পরিবেশনা ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেI পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্ম যেন ঐতিহ্যবাহী শাড়িকে তাদের জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে, শাড়িকে ভালোবাসে, এই আশা নিয়ে আবার এরকম একটি আয়োজন হবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সাজসজ্জা থেকে আরো পড়ুন