https://www.prothomalony.com/
9167
north-america
২০১৬ এর শেষের দিকে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকারর যাত্রা নিয়ে ঘোষণা করা হয়। নিউইয়র্কের কুইন্সের ওয়ার্ল্ডস ফেয়ার মেরিনায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এক ভিডিও বার্তায় প্রবাসীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, 'প্রথম আলো সামনে এগোচ্ছে পাঠকের ভালোবাসায়। এরই অংশ হিসেবে উত্তর আমেরিকায় আগামী মার্চে সাপ্তাহিক হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে প্রথম আলো।'
'তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে/ আমরা ক’জন নবীন মাঝি হাল ধরেছি, শক্ত করে রে'-বিখ্যাত এই গান দিযেই কয়েক'শ প্রবাসীর উপস্থিতিতে প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকার যাত্রা শুরু হয়। এরপর দায়িত্বে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। আজ ২০২৪। ৮ম বর্ষে পদার্পণ করেছে প্রথম আলো সেই একই গতিতে একই উদ্দেশ্য নিয়ে-সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরীর প্রচেষ্টায়।
গত ২৭ মার্চ, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির উচ্ছ্বাস আর আনন্দে ভরপুর ছিল প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার ৮ম বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠানটি। সাথে সিবিএন টিভির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সিটি অফিসের কর্মকর্তা সংবাদপত্রসেবী, সম্পাদক, সাংবাদিক, লেখকসহ অগ্রসর জনসমাজের অনেকের অংশগ্রহণ উডসাইডের গুলশান টেরেসটিকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলেছিল। উপস্থাপনা, পরিচিলনা, আপ্যায়ন ও আন্তরিকতায় অনুষ্ঠানে ঋদ্ধ হয়েছেন আগত সকল অতিথি।
২৭ মার্চ বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকেই সিটি অফিসের কর্মকর্তাদের আগমন শুরু হয়। তবে ওজন পার্কে পুলিশের হাতে একজন বাংলাদেশি তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ফলে সিটি মেয়র এর আসা হয়ে উঠেনি। মেয়র অফিসের এথনিক ও কমিউনিটি মিডিয়া বিষয়ক নির্বাহী পরিচালক হোজে বয়েনা, মেয়র অফিসের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার, কারেকশন অফিসারদের সাংগঠনিক প্রধান কাজী হাসান এই অনুষ্ঠানে মেয়রের প্রতিনিধিত্ব করেন ও তাঁর শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন।
যাইহোক, এসবই আমার দায়িত্বে থাকা এবং অতিথিদের মুখে শোনা ও ভিডিওতে দেখা; দুঃখজনকভাবে সশরীরে অনুষ্ঠানে যোগদান করা হয়ে উঠেছি আমার। অনুষ্ঠানটির সবকিছুতে যুক্ত থাকলেও শারীরিক সঙ্কটের কারণে নির্দিষ্ট দিনটিতে যেতে পারিনি। আমি যুক্ত হতে না পারলেও পবিত্র রমজান এবং কর্মদিবসের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অন্যরা ঠিকই সময়মতো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন। আমার অনুপস্থিতিতে অনেকেই আমাকে কল করেছেন, খোঁজ নিয়েছেন, স্মরণ করেছেন। আমি কৃতজ্ঞ তাদের কাছে।
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার নিয়মিত লেখক কর্মীরা পরেছিলেন একটি ভিন্ন ধাঁচের, 'প্রথম আলো' লগো সহ লাল-কালো পাড়ের শাড়ি। সারিবদ্ধ নারীদের কটোসেশন-এই শাড়িটির মাধ্যমে চমৎকার এক বৈচিত্রময় দৃশ্য তৈরি করেছিল। আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে সবার হাতে শাড়িটি পৌঁছায়নি। এজন্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
ফেসবুকে অনেকেই নিজ নিজ অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন বর্ষপূর্তি নিয়ে। শুনে ভালে লাগে ভালোবাসার কথা।
ফেসবুক স্টেটাসে মুকুল হক লিখেছেন, 'প্রথম আলো যে রাতারাতি নামডাক কামিয়েছে- তা কিন্তু নয়, এখনও নিজেদের সেরা অবস্থানে পৌঁছে যাবার চেষ্টায় জনাব ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন-পুরো টিমকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।'
ফেসবুক পোস্টে রুপা খানম লিখেছেন, '৮ম বর্ষপূর্তিতে দায়িত্বে থাকা সুধীমন্ডলীরা সম্মানের সাথে সকলকে উপস্থাপন করেছেন। আমি অতি সাধারণ মানুষ। আমার মতামত বরাবরই সত্য পাঠ ও সত্য প্রকাশের প্রতি দারুণ এক দুর্বলতা কাজ করে। প্রথম আলো এমন একটি পত্রিকা কঠিন সত্য বলতে কার্পণ্য যেমন করেনি, তেমন ভীত হয় না কোন সত্য খবর প্রকাশে। তাই প্রথম আলো প্রবাসে সকলের কাছে প্রিয় পত্রিকা।'
ফেসবুক পেস্টে সোহানা নাজনীন লিখেছেন, 'মাত্র দুবছরের মতো হল আমি প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা পত্রিকার সাথে জড়িত আছি। একটা পরিবারের মতোই মিলেমিশে কাজ করি। জনপ্রিয় সম্প্রচার 'টক অফ দ্য উইক' অনুষ্ঠানটির কথা বলতে গেলেই এইচ বি রিতা'র নাম প্রথমে নিতে হবে। রিতার অক্লান্ত পরিশ্রম আর আইডিয়ার কারণেই অনুষ্ঠানটি অল্প সময়ে সবার নজর কেড়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় রিতার ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে আমাদের মাঝে থাকতে পারেনি। এই ব্যাপারটা আমাদের জন্য ভীষণ দুঃখজনক ছিল। তবে হ্যাঁ, একটা অনুষ্ঠান জমে যায় শেষমেশ ভালো কিছু খাবারের মেন্যুতে। ট্র্যাডিশনাল ইফতারির পরেই ঐতিহ্যবাহী নরম খিচুড়ি আর ভুনা গোস্ত বাজিমাৎ করেছিল। বাইরে তখন ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি, ঠাণ্ডা কিছুটা দমে গেছে।'
ফেসবুক পোস্টে ফরিদা ইয়াসমীন লিখেছেন, 'কিছু মানুষের অবদান, কর্মক্ষমতা, জীবনযাপন, জীবনধারণ, কষ্ট বহন এমনই থাকে যে তাদেরকে ঠিক সংজ্ঞায়িত করা যায় না। তারা যেন সৃষ্টির এক বিরল প্রতিভা। তাদের প্রতিভাকে মূল্যায়িত করার মতো ক্ষমতা আমাদের নাই, তারা নীরবে নিভৃতে নিজের কাজটি করে যান, তবুও আমরা চাই তাদের সম্মানিত করতে, তাদের আনন্দিত করতে, তাদের কিছু দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করতে। আমাদের প্রথম আলো পরিবারের এমনই একজন সদস্য সাহিত্য সম্পাদক এইচ বি রিতা। প্রথম আলো পরিবার তাকে সম্মানিত করতে অষ্টম বর্ষপূর্তিতে বেস্ট এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। দোয়া করি রিতা দীর্ঘজীবী হোক, তার সাহিত্যকর্ম আরো প্রসারিত হোক, কালের যাত্রায় তার সাহিত্য অক্ষয় হোক।'
ফেসবুক পোস্টে চৌধুরী ঝর্ণা লিখেছেন, 'প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার প্রোগ্রামগুলোতে অনেক রুচিশীল ও জ্ঞানীগুণী মানুষের উপস্থিতি থাকে। ৮ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান ছিল রোজার দিনে। ধারণা করেছিলাম কম মানুষের উপস্থিতি হবে। কিন্তু না, সাড়ে চারটায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠান খুব দ্রুত কানায় কানায় পরিপূর্ণ হতে থাকে। ইব্রাহীম চৌধুরী'র মনোমুগ্ধকর আর রসালো উপস্থাপনা মুগ্ধতা ছড়িয়েছিল। আয়োজন ছিল খুবই সুশৃঙ্খল ও সাজানো-গোছানো। ভালো লাগার বিষয় হচ্ছে অনুষ্ঠানে নারীদের অংশগ্রহণ। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে নারীরা। গতকালের অনুষ্ঠানেও সেটাই পরিলক্ষিত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয় এখানে। ইমাম কাজী কাইয়্যুমের দরাজ কণ্ঠে কুরআন তেলায়ত করেন। আজান এবং নামাজের ইমামতিও করেন। ভরা হলে নারীপুরুষ পাশাপাশি নামাজ পড়তে পারবে কি না, এনিয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথাই ছিল না। এই জিনিসগুলো আমার বেশ ভালো লেগেছে। ইফতারটাও ছিল চমৎকার। হরেক রকম খাবারের আয়োজন।'
ফেসবুক পোস্টে কুলসুম আক্তার সুমী লিখেছেন, 'এই মিলনমেলায় আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় বিষয় মনে হয়েছে এখানে স্টেজে কোনো প্রধান বা বিশেষ অতিথির বাড়াবাড়ি ছিলো না। রোজার দিনের বিকেল বেলা সেই ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে যেটুকু কথা না বললেই নয় সেটুকুই কথা হয়েছে। আর ছিলো সময়ানুবর্তিতা। এমন স্বতঃস্ফূর্ত অনুষ্ঠান বাঙালি কমিউনিটিতে খুব কমই হয়। অতিথি করা কিংবা চেয়ার নিয়ে টানা হেঁচড়া কিংবা বিভিন্ন বিষয়ে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি এসব কমিউনিটির অনুষ্ঠানের চিরায়ত অনুসঙ্গ। এসব বিহীন নির্মল একটা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে অনাবিল সময় কাটালাম সপরিবারেূ এবং এবারের রোজায় একমাত্র ইফতার পার্টি এটাই।'
ফেসবুক পোস্টে আবদুল কাইয়ুম লিখেছেন, 'প্রথম আলোর মনোগ্রামযুক্ত সাদা রঙের চমৎকার শাড়ি পরে একঝাঁক বাঙালি রমণীর সরব উপস্থিতি অনুষ্ঠানের সৌন্দর্যে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছিল। বিকাল সাড়ে চারটা থেকে শুরু করে ইফতারের পর সন্ধ্যা আটটা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলে। প্রথম আলো সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরীর প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি অনন্য হয়ে উঠে। মজাদার বাহারি ইফতারির প্রচুর আয়োজন ছিল। সকলের মতো আমিও প্রাণ ভরে উপভোগ করেছি স্মরনীয় এই অনুষ্ঠানটি।'
ফেসবুক পোস্টে ফজলুর রহমান চৌধুরী লিখেছেন, 'ব্যতিক্রমধর্মী এ ঝমকালো অনুষ্ঠানটি প্রথম আলো পরিবারের, সংশ্লিষ্ঠ সকলের আনন্দ উচ্ছ্বাসে ভরপুর ছিল।
এ এক কবি সাহিত্যিক, সাংবাদিক, নবীণ প্রবীণ লেখক, শিল্পী, আইনবিদ, কমিউনিটি নেতৃত্ব, গুণিজন ও শুভাকাঙ্খীদের মিলন মেলা। ইউএসএ বাঙ্গালি কমিউনিটির অতি পরিচিত মুখ স্বনামধন্য সাংবাদিক, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সুযোগ্য সম্পাদক জনাব ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন ভাইর প্রাণবন্ত পদচারণা, পরিচালনা আর ভালোবাসার আহ্বানে আগত অতিথিদের হৃদয় কেড়েছে। অনেকে এ অনুভূতি ব্যাক্ত করেছেন, উত্তর আমেরিকা প্রথম আলোর অগ্রযাত্রা, সমৃদ্ধি ও সিবিএন টিভির সফলতা কামনা করেছেন।'
ফেসবুক পোস্টে মাহবুব রহমান লিখেছেন, 'সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরীর চৌকস সাংগাঠনিক দক্ষতায় এ সংবাদ মাধ্যমটি অবিরাম সেবা দিয়ে চলেছে নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকার নানা অঞ্চলে। করোনার মত একটি বৈশ্বিক মহামারিতেও থেমে থাকেনি। সংবাদ প্রচার, কবিতা, সাহিত্য চর্চা সহ সেবা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি মহামারির মধ্যদিয়েই! প্রতিষ্ঠা থেকেই আমরা প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সঙ্গে আছি। অষ্টম বর্ষে পদার্পণের মাহেন্দ্রক্ষণে প্রথম আলো, CBN TV USA, সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী, মোহাম্মদ মন্জুরুল হক সহ সকল বিভাগীয় সম্পাদকবৃন্দ, এর লেখক সাংবাদিক সবাইকে অভিনন্দ।'
ফেসবুক পোস্টে শরীফুজ্জামান পল লিখেছেন, 'বটবৃক্ষ যেমন বেঁচে থাকে শত শত বছর, দাঁড়িয়ে থাকে চিহ্ন হয়ে সবার মাঝে, সাথে নিয়ে মানবতার লতাগুল্ম, ছড়িয়ে দেয় শান্তির ছায়া। পাক পাখালির বাসায়,,,চিরদিনই। তেমনি একজন আমাদের ভাইজান-ইব্রাহিম চৌধুরী।'
ফেসবুক পোস্টে জয় আচার্জি লিখেছেন, 'আজ নিউইয়র্কে (উত্তর আমেরিকার) প্রথম আলো পত্রিকার ৮ম বর্ষে পদার্পণ ও নতুন টিভি চ্যানেল CBN TV USA এর উদ্বোধন এর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গুলশানে টেরেজ জেকসন হাইটস-এ। অসংখ্য ধন্যবাদ তারুণ্যের অহংকার সিনিয়র আইনজীবী ও প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক বড় ভাই ইব্রাহীম চৌধুরীকে। আশা করি আগামীতে ও তিনি প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বাংলা কমিউনিটিতে আরো বিশেষ অবদান রাখবেন।'
ফেসবুক পোস্টে ফার্মিস আক্তার লিখেছেন, 'দেশে কিংবা বিদেশে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে স্বদেশ আমার সঙ্গেই থাকে। এর মূলেও আছে প্রথম আলো। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার ৮ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে একটি সুন্দর ইফতার পার্টি অনুষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানটির নতুন সংযোজন CBN TV USA এর যাত্রা শুরুর ঘোষণা হলো আজ। আমি প্রথম আলো সহ CBN TV r সার্বিক উন্নতি ও গৌরবময় স্থায়িত্ব কামনা করি। আশা করছি নতুন এই CBN TV র মাধ্যমে আমরা আরও আরও ভালো কিছু পাবো।'
ফেসবুক পোস্টে আবদুর রহমান লিখেছেন, 'প্রথম আলোর ৮ম বর্ষে পদার্পণ এবং CBN USA TV র যাত্রা শুরূ উপলক্ষে ইফতার পার্টিতে আমরা। ধন্যবাদ সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী সহ প্রথম আলোর সকল লেখক, সাংবদিক সবাইকে অভিনন্দন। প্রথম আলো এবং CBN USA-tv র জন্য শুভকামনা।'
আরো অনেকেই সেদিনের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে ফেসবুক পোস্টে নিজ নিজ অভিবক্তি ব্যক্ত করেছেন। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই তাদের যারা শর্তহীন ভালোবাসা দিয়ে পাশে থাকেন।
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সাথে যুক্ত আছি, ২০১৭ সাল থেকে। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কিছু আর্টিক্যাল দিয়ে আমার যাত্রা শুরু। ২০১৮ থেকে রিপোর্টিং করা শুরু, সেটাও হাতে কলমে শিখিয়েছেন ইব্রাহীম চৌধুরী। রওশন হক এবং আমি-প্রথম নিয়মিত নারী রিপোর্টার হিসাবে যুক্ত হই। সেই থেকে পথ চলা। এখনো লিখছি, আছি উত্তরের প্রথম আলোতে। সাপ্তাহিক সাহিত্য বিভাগে কাজ করছি। সাপ্তাহিক 'টক শো' পরিচালনা করছি। হোস্ট হিসাবে সাথে আছেন রোকেযা দীপা, ফরিদা ইয়াসমীন, সোহানা নাজনীন। তাদের দিন নেই রাত নেই, তাদের কোনো অজুহাত নেই। টক শো'তে তারাই নিয়মিত নিবেদিত প্রাণ। একটি সেরা টিম হিসাবে আমরা কাজ করছি একসাথে। আমাদের মতামত, অভিজ্ঞতা, ধারণা ভাগাভাগি হয়। এখানে আমরা কেউ-ই সেরা নই; আবার সবাই সেরা। এই তিনজন ছাড়া আমার পক্ষে একা 'টক শো' কে সামনে এগিযে নেয়া সম্ভব হতো না। আর এইসব কাজের সুযোগ করে দেয়ার পিছনের মানুষটি হলেন ইব্রাহীম চৌধুরী।
হ্যাঁ, কেউ কেউ ফিসফিস করে বলেন, 'অযোগ্যদের চৌধুরী সাহেব মাথায় তুলছেন।' মূলত, তিনি যোগ্য/অযোগ্য বলে কোনো বিভাজনে যান না, তিনি প্রতিটা মানুষকে নিজের বিকাশের সুযোগ করে দেন। কেউ এই সুযোগ কাজে লাগান, নিজ কর্মে টিকে থাকেন। কেউ হারিয়ে যান। পার্থক্য এটাই।
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার অষ্টম বর্ষপূর্তিতে নিজ কাজ, নিষ্ঠা, শ্রম, একতা, সংবাদ পরিবেশন, সার্বিক কাজে পুরস্কৃত হয়েছেন দুইজন। রুদ্র মাসুদ ভাই এবং আমি এইচ বি রিতা।
রুদ্র মাসুদ ভাই, অতি বিনয়ী মানুষ, নীরবে কাজ করে যান। সাংবাদিকতার প্রতিটা অক্ষরের সাথে যার সম্পর্ক, নিরপেক্ষ নিঁখুত রিপোর্টিং-এ যার দক্ষতা প্রতীয়মান, তিনিই রুদ্র মাসুদ। পুরস্কৃত করার মুহূর্তে সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী বলেন, 'একজন সম্পাদক হিসাবে আমি মনে করি, রুদ্র মাসুদ মোনাজাত উদ্দিন -এর অনুসারী।' আমরা জানি মোনাজাত উদ্দিন-চারণ সাংবাদিক হিসেবে খ্যাতিমান ছিলেন। আমি সে মুহূর্তে পাশে ছিলাম না, তবে আজ এ মুহূর্তে অন্তর থেকে অভিনন্দন জানাই রুদ্র মাসুদ ভাইকে।
আমার পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন মাহবুব রহমান ভাই। আমি চিরঋণী তাদের সবার কাছে যারা আমার সামান্য কাজের এতো বড়ো মূল্যায়ন করেছেন।
পত্রিকাটির সম্পদক ইব্রাহীম চৌধুরী যেমন বলেন 'বহু জঞ্জাল পেরুনো সময়, অপাংক্তেয়জনের বিদ্বেষ - সবই উবে যায় ভালোবাসার উল্লাসে।' চরম সত্য কথা। ভালোবাসায় জীবন হয় আনন্দের। উপভোগের।
নিজে বসার আগে চেয়ারটিতে অন্যকে বসতে সুযোগ করে দেয়া-খুবই সাধারণ একটি অভ্যাস বা মনোভাব। আর এই সাধারণ জিনিসটা আমি শিখেছি আমার বাবার কাছ থেকে।
আব্বা বলতেন, মাটিতে বসে ধুলা গায়ে গরিবের কথা যে না শুনে, সে কি বুঝবে অভাব কি, পেটের জ্বালা কি!
ঐক্য একতা সাফল্য আনে-এই জিনিসটা শিখেছি সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরীর কাছ থেকে। তিনি প্রায় সময় বলেন, ভাইজান, 'আমি' থেকে বের হয়ে যান এবং 'আমরা' বলতে শিখেন। দেখবেন সব কিছু সুন্দর হবে।
তাদের ছোট ছোট বাক্যগুলি আমি যখন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে যাই, তখন বৃহৎ কিছু সামনে চলে আসে। জীবনকে অর্থবহ করে তোলার মতো কিছু পেয়ে যাই।
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সাথে ছিলাম। আছি। থাকবো। এটা আমার প্রতিশ্রুতি। জয় হোক সবার, যারা পাশে থাকেন, দূর দেশে থেকেও আপন করে হাতে হাত রেখে ভালোবাসার উষ্ণতা বিলিয়ে যান-প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার জন্য।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন