https://www.prothomalony.com/

8552

north-america

উত্তর আমেরিকা

আমেরিকান দূতাবাসের অভিযোগ প্রায় ৫০জন তরুণের বিরুদ্ধে

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ০৯:৫১

ঢাকায় আমেরিকার দূতাবাসে ভিসার জন্য সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় দুজন বাংলাদেশি ভুয়া নথিতে মানব পাচারের কথা স্বীকার করেছেন। ১১ ফেব্রুয়ারি রোববার মফিজুর রহমান ও আশরাফুল আলম ভূঁইয়া নামের এই দুজন সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়  স্বীকার করেছেন, তারা বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে মানব পাচারে জড়িত। তারা মূলত দালাল হিসেবে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য তারা ভুয়া নথিও জমা দিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় পরদিন রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করেন মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা মিকাইল লি। মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তাবিষয়ক এই কর্মকর্তা এর আগেও এমন পাঁচটি মামলা করেছেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে মানব পাচার ঠেকানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছুদিন আগে থেকেই কথা বলে আসছিল। ওই দেশে এমন পাচার বন্ধ করতে তারা আরও বেশি সক্রিয় থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা যায়, ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণার’ অভিযোগে মিকাইল লি গুলশান থানায় প্রথম মামলাটি করেছিলেন গত বছরের ১৫ মার্চ। সেই মামলায় প্রথমে চারজনকে আসামি করা হয়েছিল। ওই আসামিরা মূলত নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ‘কথক একাডেমি’ নামের একটি এনজিওর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন।

কথক একাডেমি’ নামে বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোনো এনজিও নেই। ওই চারজনের ভিসা প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় দূতাবাস কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে মামলা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালালদের কাছ থেকে ভুয়া নথিপত্র সংগ্রহ করে দূতাবাসকে প্রতারিত করেন। ওই চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারও করেছিল পুলিশ। প্রতারণার মাধ্যমে তত দিনে কয়েকজনকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয় বলেও তখন পুলিশ জানতে পেরেছিল।

সূত্রমতে, জাল কাগজপত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টাসহ মানব পাচারের অভিযোগে গত এক বছরে পাঁচটি চক্রের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করেছে মার্কিন দূতাবাস। গুলশান থানায় করা মামলাগুলো তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এবং গোয়েন্দা শাখার সাইবার ইউনিট।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ হয়। মামলার আসামিসহ অর্ধশতাধিক তরুণের বিরুদ্ধে কাগজপত্র জালিয়াতি, অবৈধ পথে সীমান্ত পেরোনো কিংবা সীমান্তে অপেক্ষায় থাকার অভিযোগ আনা হয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি এই প্রক্রিয়ায় মানব পাচার ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়।

এ 

ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, ভুয়া এনজিওকর্মী পরিচয়ে জাল কাগজপত্র দিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মানব পাচার এবং এর মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সম্প্রতি সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য দালালদের কাছ থেকে ভুয়া নথিপত্র সংগ্রহ করে দূতাবাসকে প্রতারিত করেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে এরই মধ্যে কয়েকজনকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে বলেও তারা জানতে পেরেছেন। কেউ আবার বিদেশে গিয়ে ধরাও পড়েছেন।

২০২৩ সালের জুন মাসে করা একটি মামলায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যে দেশ ছেড়ে যাওয়া অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি দক্ষিণ আমেরিকার গায়ানায় গ্রেপ্তার হন। মার্কিন দূতাবাসের দাবি, গায়ানায় গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের একটি মানব পাচারকারী চক্রের সন্ধান পান।

ওই মামলার তদন্তে নেমে ডিএমপি একটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও তাঁর সহযোগী আকলিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছিল। পুলিশের দাবি, রুহুল আমিনসহ চক্রটি ৯০ জনের বেশি বাংলাদেশিকে গায়ানা ও সুরিনামে পাঠিয়েছে। তাঁদের অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছেন, কেউ কেউ মেক্সিকো সীমান্তে অপেক্ষা করছিলেন।

মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সর্বশেষ গত সোমবার গুলশান থানায় মামলা করে মার্কিন দূতাবাস। ওই মামলায় আসামিরা হলেন মফিজুর রহমান, আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, মোহাম্মদ জামান, ভাসানি ও মোহাম্মদ নূর আলম। ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিট মামলাটির তদন্ত করছে। ইউনিটের উপকমিশনার জসীম উদ্দিন বলেন, তদন্ত এখনো শুরু হয়নি। তবে থানা থেকে মামলা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক কাজ শেষ হয়েছে।

মানব পাচার ঠেকাতে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। রামরুর নির্বাহী পরিচালক সি আর আবরার বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আশ্রয় নেওয়াটা যুক্তিযুক্ত। দেশটির দূতাবাস মানব পাচারকারীদের কিছু তথ্য দিয়েছে, সেটাও আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে সহযোগিতা করবে। কিন্তু এসব অপকর্ম যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নিলে এই পাচার বন্ধ হবে না।’

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন