https://www.prothomalony.com/

7509

north-america

উত্তর আমেরিকা

"ইহুদিবিদ্বেষী" বলে ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমের প্রদর্শনী বাতিল

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:৫১

জার্মানভিত্তিক সমসাময়িক আলোকচিত্রের প্রদর্শনী ‘বিয়েনালে ফিও অ্যাকতুয়ালে ফটোগ্রাফি’ বাতিল করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রদর্শনীর একজন কিউরেটর ইহুদিবিদ্বেষপূর্ণ পোস্ট করেছেন- এমন অভিযোগে এটি বাতিল হয়েছে। আমেরিকান ম্যাগাজিন আর্ট নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক আর্ট নিউজপেপার বিষয়টি নিয়ে প্রথমে প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশের ফটোসাংবাদিক ও প্রদর্শনীটির সহকিউরেটর শহিদুল আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন পোস্ট করেছেন, যা ইহুদিবিদ্বেষপূর্ণ বিষয়বস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

চলতি বছরের অক্টোবরের শুরুর দিকে যখন ইসরায়েল-হামাস সংঘাত শুরু হয়, তখন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী শহিদুল আলম জার্মানিতে একটি চিত্রকর্ম প্রদর্শনী আয়োজনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বেছে নেন প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে। সেই প্রতিবাদের কারণে জার্মান আয়োজকেরা তাঁর বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ এনে প্রদর্শনী বাতিল করে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহীদুল আলম বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের পক্ষে আওয়াজ তোলার জন্য বেশ পরিচিত। সেই শহীদুল আলম যখন গাজা সংকটকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের ভূমিকার সমালোচনা করলেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ এনে তাঁর প্রদর্শনী বাতিল করেছে জার্মান আয়োজক গোষ্ঠী। 

পরে শহিদুল আলম আল জাজিরাকে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘আমি জায়োনিজম বিরোধী এবং একইভাবে আমি উপনিবেশবাদ, বসতি স্থাপন করে উপনিবেশায়ন, বর্ণবাদ, জাতিবিদ্বেষ ও গণহত্যার বিরোধী।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনোভাবেই ইহুদিবিদ্বেষী নই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, জার্মানি এ দুটিকে (ইহুদিবিদ্বেষ ও

জায়োনিজম বিরোধিতা) এক করে বিবেচনা করে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের স্বার্থ হাসিল করে এবং এগিয়ে নিয়ে যায়।’

কেবল শহিদুল আলম নন। জার্মানিতে ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে একই কারণে বাধার মুখোমুখি হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুক্তচিন্তার মানুষেরা। তাঁদের মধ্যে একজন হাইতির লেখক আনাইস দুপলান। জার্মান জাদুঘর ফয়েকভাংয়ে তাঁর একটি প্রদর্শনী বাতিল করা হয়েছে। বিশ্বের বিখ্যাত বইমেলা ফ্রাঙ্কফুর্টে প্রবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে ফিলিস্তিনি লেখক আদানিয়া শিবলির। একই অভিযোগ তোলা হয়েছে ভারতীয় চিত্রকর ও শিল্প সমালোচক রঞ্জিত হোসকোটের বিরুদ্ধেও।

নেদারল্যান্ডসেও একই ঘটনা ঘটেছে। দেশটিতে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়—তাঁরা ফিলিস্তিনপন্থী স্লোগান দিয়েছেন। পরে ওই চলচ্চিত্র নির্মাতা নিজেদের প্রদর্শনী প্রত্যাহার করে নেন। লন্ডনে মার্কিন বংশোদ্ভূত লেখক নাথান থ্রালের বই প্রকাশ করতে দেওয়া হয়নি। কারণ তাঁর বইটির নাম ‘আ ডে ইন দ্য লাইফ অব আবেদ সালামা: আ প্যালেস্টাইনিয়ান স্টোরি’। গত ১২ অক্টোবর বইটি লন্ডনে প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তার অজুহাত তুলে বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন