https://www.prothomalony.com/
7436
north-america
কোথাও উৎসব, কোথাও তালা, উপেক্ষিত জনগন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল বাতিলের দাবিতে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অবরোধ কর্মসূচির এখন ঢিলেঢালা ভাব। গ্রেফতার এড়াতে আড়ালে থাকলে থাকছেন বিএনপির নেতারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে ঝটিকা মিছিল ও পিকেটিং করেই দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে হচ্ছে, রাস্তায় দাঁড়াতে পারছেন না বেশিক্ষণ।
এ অবস্থায় আন্দোলনও হয়ে পড়েছে অনেকটা নিরুত্তাপ। আপাতত নভেম্বর পর্যন্ত এভাবে আন্দোলন চালিয়ে ডিসেম্বর থেকে ‘অলআউট মুভমেন্টে’ যাওয়ার টার্গেট রয়েছে। তাই এখনই সব শক্তি ক্ষয় না করে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার মতো অবস্থায় থাকতে চাইছে বিএনপি।
এছাড়া প্রতিদিনই একাধিক স্থানে শান্তি সমাবেশ করছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ঢাকায় গত ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশের আগে বিএনপির তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে যে উচ্চাশা ও উচ্ছ্বাস ছিল, দৃশ্যত তাতে এখন ভাটা পড়েছে। বিএনপির ফেইসবুক পেইজের ভিডিওতে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের সংখ্যাও কমে গেছে। মাঠের চিত্রেও দেখা গেছে হরতাল ও অবরোধের টানা কর্মসূচিতেও মিছিল চোখে পড়ে কদাচিৎ; রাজধানী ঢাকাতে জড়ো হওয়ার চেষ্টার দেখা মেলে না একেবারেই।
যদিও গত এক বছর ধরে নেতারা বলে আসছিলেন, তাদের ‘চূড়ান্ত আন্দোলনে’ লক্ষ্য থাকবে ঢাকা। তবে সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের পরদিন গত ২৯ অক্টোবর থেকে টানা কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশ কারাগারে, বাকিরা আত্মগোপনে। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবন্ধ।
এর মধ্যেই ঘোষণা হয়ে গেছে নির্বাচনী তফসিল, ভোটের দিনক্ষণ জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগও ‘নির্বাচনী ট্রেন’ ছেড়ে দিয়ে তাতে উঠতে আহ্বান জানিয়েছে বিএনপিকে। এর প্রতিবাদে সরকার পতনের ‘এক দফা’ দাবিতে থাকা বিএনপি ও সমমনারা আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েই চলেছে। অবরোধ শেষ হতে না হতেই আবারও ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের ডাক আসছে।
তবে টানা এসব কর্মসূচির প্রভাব জনজীবনে থাকলেও তা সরকারকে চাপে ফেলতে পারছে এমন নয়। কারণ, অফিস-আদালত সবই চলছে স্বাভাবিকভাবে। দূরের পথে যাত্রীবাহী বাস চলাচলে ব্যাঘাত হলেও পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকতেই দেখা গেছে।
এবার ব্যবসায়ীদের থেকেও রাজনৈতিক সমঝোতার ডাক সেভাবে আসছে না। আগের বছরগুলোর মতো কূটনীতি পাড়ার তৎপরতাও খুব একটা দৃশ্যমান নেই। এ অবস্থায় বিএনপির তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে হতাশার বিষয়টি স্পষ্ট বলেই মানছেন দলটিরই অনেকে।
এভাবে আত্মগোপনে থেকে রাজনীতি বিএনপিকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এটা ভাবতে হবে। তৃণমূলে হতাশা এবং নির্বাচন বর্জন নিয়ে নেতাদের মধ্যে ভিন্ন চিন্তা; বিএনপি তবে কী করবে? একতরফা নির্বাচন রাজনৈতিক যে সংকট তৈরি হয়েছে এটাকে রাজপথেই মোকাবিলা করতে হবে বিএনপি এই নীতিতেই এগুচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ৫০ জনের মতো পুলিশ সদস্য ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে মনোনয়ন কিনতে হাজির হচ্ছেন। আর একই সময় বিএনপির নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও গত তিন সপ্তাহের মতো এদিনও দায়িত্বরত পুলিশকে দেখা যায়। সেখানে অবশ্য পুলিশ ছাড়া আর কারো উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে শেষ সময়ের হিসাব কষছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এরই মধ্যে টানা দুদিনের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় বেশির ভাগ আসনের প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে দলটি। কৌশলগত কারণে এখন পর্যন্ত সে তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০০ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে আওয়ামী লীগ। তবে তার আগে এদিন গণভবনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরুর পর থেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ঢাকায়ই অবস্থান করছেন। তাদের অনেকেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর এলাকায় যাবেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এখন ভিড় করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসা ও কার্যালয়ে। বিশেষ করে মনোনয়ন বোর্ডে আছেন এমন নেতাদের কাছে ভিড় করছেন তারা।
জোট-মহাজোটের জটিল সমীকরণে অনেকের মনোনয়ন ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জরিপে যাদের বিষয়ে নেতিবাচক তথ্য এসেছে, তারা বর্তমানে এমপি বা মন্ত্রী হলেও আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না তাদের।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় এখানে আসেন। তাঁর নেতৃত্বেই দলীয় কার্যালয়ে চলছিল প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার কাজ। সেখানে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রবেশাধিকার নেই। মনোনয়ন পাবেন কি পাবেন না, এই আশা-নিরাশার দোলাচলে পথে অপেক্ষা করেন নেতা–কর্মীরা।
আশপাশের সড়কে কড়া নিরাপত্তা। প্রধানমন্ত্রীর দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশের পর দলীয় প্রার্থী, সমর্থক নেতা–কর্মী ও গণমাধ্যমের কর্মীদের কার্যালয়ের কাছাকাছি এসেনসিয়াল ড্রাগসের কার্যালয় পর্যন্ত যেতে দেওয়া হয়। সেখানে গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে বা ফুটপাতে বসে, চায়ের টংদোকানের সামনে নির্বাচন নিয়েই নানা কথাবার্তায় মগ্ন ছিলেন তাঁরা। তবে তাঁদের সংখ্যা খুব বেশি নয়।
বাংলাদেশে জনপথ বলে কিছু নেই, আমাদের সবই রাজপথ। একদল ককটেল, পেট্রল ও ঢিল নিয়ে রাজপথের রাজা হয়, আরেক দল হাতি-ঘোড়া-গাড়ি-মোটর নিয়ে শোভাযাত্রা করে রাজপথকে রাজকীয় কাজে ব্যবহার করে। দুই দলের শক্তি প্রদর্শনের চাপে জনতা আর পথ পাচ্ছে না। সরকারও সমঝোতার বিপরীতে কঠোরতা, গ্রেপ্তার ইত্যাদি দিয়ে জনজীবনে উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা রাজপথে উৎকট শোভাযাত্রা করে যাচ্ছেন। সেসবেও চলাচলের গতি শ্লথ হয়ে আসে। মনোনয়ন উৎসবের এই নৈরাজ্যই বলে দেয়, সাধারণ মানুষ কতটা উপেক্ষিত। নির্বাচনের নামে এভাবে পদে পদে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মহড়া চলতে পারে না।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন