https://www.prothomalony.com/
6311
north-america
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:০৫
আমেরিকা জুড়ে শপলিফটিং মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। খুচরা দোকান এবং শপিং মলগুলোতে টুথপেস্ট, চকলেট, ওয়াশিং পাউডার এবং ডিওডোরেন্টের মতো সাধারণ পণ্যও এখন তালা দিয়ে রাখা হচ্ছে। পাল্টে যাচ্ছে চিরচেনা কেনাকাটা। এখন টুথপেস্ট ক্রয় করার জন্য ক্রেতাকে চাবি খুলে দেয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। চুরি সামাল দিতে না পারায় বহু ব্যবসা লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
প্রধান খুচরা বিক্রেতা ওয়ালমার্ট ও টার্গেট, ওষুধ বিক্রেতা সিভিএস এবং ওয়ালগ্রিনস, গৃহনির্মাণসামগ্রী বিক্রেতা হোম ডিপো এবং জুতা বিক্রেতা ফুট লকার এ নিয়ে অভিযোগের কথা জানাচ্ছে। চুরি হয়ে যাওয়া মালামালের লোকসান সামাল দিতে না পারায় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ঘটছে। সাধারণ ক্রেতাদের কাছে খুচরা পণ্য পৌঁছে দিতে হিমশিম খাচ্ছে খুচরা বিক্রেতারা।
সম্প্রতি ডিকস স্পোর্টিং পণ্যর প্রধান নির্বাহী লরেন হোবার্ট কনফারেন্স কলে বলেন, ‘বর্তমানে খুচরা দোকানে পরিকল্পিত অপরাধ ও চুরি গুরুতর সমস্যা। এটি অনেক খুচরা বিক্রেতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।’ কোম্পানির দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের ফলাফল ও বাৎসরিক প্রত্যাশার ওপর চুরির প্রভাব লক্ষণীয়। ডিকস এখন বছরে প্রতিটি পণ্য বিক্রি থেকে গড়ে ১১ দশমিক ৩৩ থেকে ১২ দশমিক ১৩ ডলার আয়ের আশা করছে। যা আগের ১২ দশমিক ৯০ থেকে ১৩ দশমিক ৮০ ডলার প্রত্যাশার চেয়ে কম।
আমেরিকান খুচরা পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান টার্গেটের প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান কর্নেল এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে আমাদের দোকানে সহিংসতা, হুমকি ও চুরির ঘটনা ১২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা অস্বাভাবিক মাত্রার খুচরা চুরি এবং অপরাধের মুখোমুখি হচ্ছি।’
ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের ২০২২ খুচরা বিক্রেতাদের নিরাপত্তা সমীক্ষা অনুসারে, শুধু ২০২১ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বিক্রেতাদের আনুমানিক ৯৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার লোকসান হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের এই ক্ষতি হয়েছে কর্মীদের চুরি, দোকানপাট বা প্রশাসনিক ত্রুটিসহ নানা কারণে। সমীক্ষাটি আরও উল্লেখ করেছে, খুচরা বিক্রেতারা ২০২১ সালে গড়ে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ পরিকল্পিত চুরির মুখে পড়েছে। বেশির ভাগ দোকানিরাই জানিয়েছেন, করোনা মহামারির পর এসব চুরি বেড়েছে। ফলে দোকানগুলো তাকে কাচের দেয়াল, রেফ্রিজারেটরে তালা এবং সারিগুলোতে কল বাটন বসাচ্ছে। পাশাপাশি অরক্ষিত তাকের সংখ্যাও কমিয়ে আনা হচ্ছে।
গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থা সব সময় কার্যকরী নয়। চলতি বছরের জুনে হুডিওয়ালা জ্যাকেট এবং মুখোশ পরা এক ব্যক্তি নিউইয়র্কের কুইন্সের ওয়ালগ্রিনস আউটলেটের লক করা কেস গলাতে একটি ব্লোটর্চ ব্যবহার করেছিলেন। এ সময় ওই আউটলেট ভরা গ্রাহক এবং কর্মচারীরা ছিলেন। তারপর তিনি পণ্যগুলো ব্যাগে ভরে মূল্য পরিশোধ না করেই চলে যান।
কুইন্সের বাসিন্দারা বেশ কয়েকটি সিভিএস আউটলেটে অনিরাপত্তার জন্য পিটিশন ব্যবস্থা চালু করেছেন। কিছু খুচরা বিক্রেতা কর্মীদের চুরির ঘটনায় চেপে যেতে এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে নির্দেশ দিয়েছে।
কেউ কেউ আউটলেটগুলো বন্ধের কথা বিবেচনা করছেন। খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জায়ান্ট ওয়াশিংটনে একটি সুপার মার্কেট বন্ধের চিন্তাভাবনা করছে। যেখানে চুরি এবং সহিংসতা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে কাজ করা কঠিন হয়ে উঠছে। অন্য আউটলেটেও এই প্রভাব পড়ছে।
ওয়ালগ্রিনস ২০২১ সালে চুরির কারণে সান ফ্রান্সিসকোতে পাঁচটি স্টোর বন্ধ করে দেয়। একই বছর ওয়ালমার্ট লোকসানে পড়ে শিকাগোতে চারটি আউটলেট বন্ধ করে দেয়।ওয়ালমার্টের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জন রেইনি আগস্টের মাঝামাঝি বলেন, ‘লোকসান গত বছর থেকে চলতি বছর পর্যন্ত বাড়ছেই। সারা দেশে পরিস্থিতি এমন। আমরা এমনটি চাই না। কারণ, এর ফলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে।’
যুক্তরাষ্ট্রে দলবদ্ধ চুরির ঘটনাও বেড়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি নর্ডস্ট্রম স্টোরে গত ১২ আগস্ট প্রায় ৩০ জন মুখোশধারী ৩ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বিলাসবহুল পণ্য চুরি করে এবং একজন নিরাপত্তারক্ষীর মুখে বিয়ার স্প্রে করে পালিয়ে যায়।
অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় বড়বড় সিটিতে এখন পুলিশ নাগরিক নিরাপত্তার অন্যান্য ক্ষেত্রে বেশি মনোযোগ দিতে হচ্ছে। ফলে দোকানে ছিচকে চুরির ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে পুলিশে খবর দিয়েও কাজ হয় না। দোকানে নিরাপত্তা কর্মিরা হাতেনাতে চুরি ধরলেও অপরাধীদের আটক করে পুলিশে দিতে পারে না। পুলিশ ছাড়া কাউকে কেই আটক রাখতে পারে না। চুরির ঘটনা নিয়ে দোকানগুলো থেকে ফোন করা হলে পুলিশের উপস্থিতই বেশ বিলম্বে ঘটছে। এরমধ্যে চুরি ছিনতাইয়ে জড়িত অপরাধীরা সহজেই পালিয়ে যেতে পারছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন