https://www.prothomalony.com/

5985

north-america

উত্তর আমেরিকা

জঙ্গি উত্থান নিয়ে সতর্ক করা হলো ১৪ কংগ্রেসম্যানকে

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৩ ০৮:৫৪

মিশরের মতোই বাংলাদেশের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ছদ্মাবরণে ধর্মীয় উগ্র ও জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান ঘটতে পারে বলে ১৪ মার্কিন কংগ্রেসম্যানকে সতর্ক করা হয়েছে। ওই কংগ্রেসম্যানরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলে আসছেন। 

এক বিবৃতিতে তাদের বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যেকোনোভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কব্জায় নিতে চায় ওই গোষ্ঠী। বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে ভয়ংকর জঙ্গিগোষ্ঠী আনসার আল ইসলাম এবং হরকাতুল জিহাদের যোগসাজশ প্রমাণিত। ওই জঙ্গিরা আল কায়েদার হয়ে বাংলাদেশে কাজ করে।

বিএনপি জোট ক্ষমতায় থাকার সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নারকীয় নৃশংসতা চালানোর নজির তুলে ধরা হয়েছে ওই বিবৃতিতে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে ওই গোষ্ঠী আবার ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের সেই দুঃসহ ভয়াবহতা ফিরে আসবে বলে কংগ্রেসম্যানদের সতর্ক করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অজুহাতে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামী জোট কোনোভাবে ক্ষমতা দখল করলে বহু মানুষের জীবন মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়বে। 

নির্বাচনের সুযোগ নিয়ে ২০১২ সালে মিশরে কীভাবে উগ্রপন্থী ব্রাদারহুড রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিল তা মনে করিয়ে দিয়ে কংগ্রেসম্যানদের বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভুল নীতির কারণে বাংলাদেশে একই ঘটনা ঘটলে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন স্বার্থ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অবিলম্বে বাংলাদেশ বিষয়ে মার্কিন নীতি বদলাতে অনুরোধ করা হয়েছে। 

৭ আগস্ট  সোমবার ওই ১৪ কংগ্রেসম্যানদের উদ্দেশ করে এই বিবৃতি দেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে সই করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান নির্বাচিত কয়েকজন কর্মকর্তা, মানবাধিকারকর্মী ও সামাজিক-পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। 

তারা নিজেদের পরিচয় দিয়ে লিখেছেন, আমরা বাংলাদেশি-আমেরিকান; যারা মানবাধিকার, সামাজিক ও পেশাদার সংগঠনে কর্মকর্তা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি। আমরা সহিংসতামুক্ত, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে জোরালভাবে সমর্থন করি। 

বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচনে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করে আপনাদের বিবৃতি দেখে মনে হচ্ছে, আপনারা ধর্মীয় উগ্রবাদী ও জঙ্গিদের হাতের খেলনা হিসেবে কাজ করছেন। আপনাদের এখনকার চাওয়ার মতোই এর আগে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানকে ব্ল্যাকমেইল করে জাতিসংঘ হস্তক্ষেপ করে। তখন বাংলাদেশে ওয়ান ইলেভেনে সেনা নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন করা হয়েছিল। তাতে কিন্তু সংকট মোকাবিলা করা যায়নি। 

'প্রিয় কংগ্রেসম্যানরা, আপনারা হঠাৎ করে বিদেশের একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আগে দয়া করে হোমওয়ার্ক করুন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে জনগণের দাবির বিষয়ে আরও অবহিত হোন।' 

কংগ্রেসম্যানদের বিবৃতি পাঠানোর কারণ ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, আমরা কেন আপনাকে এই বিবৃতি লিখছি? প্রথমত, মার্কিন নাগরিক হিসেবে আমরা মুসলিম দেশের ঐতিহাসিক ও সামাজিক-রাজনৈতিক মাত্রা বিবেচনা না করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বারবার ব্যর্থতার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতার জ্বলন্ত উদাহরণ হলো- আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়া। আমরা চাই না বাংলাদেশে এমনটা হোক। 

দ্বিতীয়ত, আমরা যারা গত কয়েক দশক ধরে একটি অসাম্প্রদায়িক, সহিংসতামুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পক্ষে ওকালতি ও লড়াই করছি, তারা মনে করি যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অজুহাতে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামী জোট কোনোভাবে ক্ষমতা দখল করলে, অভিজিতের মতো আমাদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়বে। অনুগ্রহ করে এটাও মনে রাখবেন, যেকোনো ধরনের ইসলামী জোটের হাতে যদি বাংলাদেশ চলে যায় তাহলে, দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ দ্বিগুণ আঘাতপ্রাপ্ত হবে। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তাই বাংলাদেশের জন্য সহিংসতামুক্ত, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা আপনাদের বর্তমান কর্মপন্থা পরিবর্তন করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।

বিবৃতিতে সই করেছেন:  কাউন্সিলম্যান ড. নুরুন নবী এনজে, মেয়র মাহাবুবুল আলম তৈয়ুব পিএ, রাজ্য প্রতিনিধি আবুল খান এনএইচ, কাউন্সিলম্যান আবু আহমেদ মুসা এমআই,  কাউন্সিলম্যান নুরুল হাসান পিএ,  সম্প্রীতি ফোরামের অধ্যাপক এবিএম নাসির এনসি প্রমুখ।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন