https://www.prothomalony.com/

5833

north-america

উত্তর আমেরিকা

স্পেনের কর্মজীবি নারী খালেদা রুমির ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৩ ১১:০২

স্পেনে বাংলাদেশি নারীদের উদ্যোক্তা এবং স্বাবলম্বী হওয়ার অপার সুযোগ এবং সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপের মধ্যে নারীদের নানা ধরনের সুযোগ সুবিধার দিকে থেকে স্পেন শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্টে নারীদের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে উপযোগী দেশ হিসেবেও স্পেন প্রথম। এসব নিয়ে কথা বলেছেন খালেদা রুমি।  

খালেদা রুমি সমাজ কর্মী। পাশাপাশি নারী উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন,নারীদের মোটিভেশন করেন। স্পেনের ইমিগ্রান্ট লাইফ নিয়ে তাঁর নানা অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনা নিয়ে জানিয়েছেন বিস্তারিত। খালেদা রুমি একজন সংগ্রামী নারীর নাম।বেশি দিন হয়নি স্পেন আসার। মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে পেরুতে হয়েছে নানা ঘাত প্রতিঘাত। তবুও তিনি থেমে যাননি,ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। জীবনের বাঁকে বাঁকে এরকম যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য কখনোই প্রস্তুত ছিলেন না,তারপরও সামলিয়ে নিয়েছেন।  

খালেদা রুমি একজন কর্মজীবী নারী। কাজ করেন একটি বেসরকারি সংস্থার হিসাব রক্ষক পদে। দেশে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স, মাস্টার্স করেছেন। একসময় বিমান সংস্থায় কাজ করেছেন ,এভিয়েশন বিষয়ে  সিংগাপুরে উচ্চতর কোর্স করেছেন। ভাষাগত দুর্বলতা এবং পরিবার থেকে নিরুৎসাহই মূলত আমাদের দেশের নারীদের প্রধান সমস্যা বলে মনে করেন রুমি। তিনি জানান ,প্রত্যেকটি শহরের প্রত্যেকটি এলাকায় বিনামূল্যে ভাষার জন্য কোর্স চালু আছে ,মেয়েদের কাজের ক্ষেত্র রয়েছে নানা সুযোগ রয়েছে। যে দেশে যাবেন ,অন্তত সেই দেশের ভাষার উপর স্কিল্ড থাকা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। কাজের সময় নিতে পারবেন বাড়তি সুযোগ সুবিধা। যদি তিনি গর্ভবতী হন, সন্তান লালন পালনের জন্য রয়েছে উভয়ের ছুটি।

রুমি বলেন, যেদেশেই আমরা থাকি না কেন ,ওই  দেশের মূল ধারার সাথে মিশতে হবে। তবেই আপনার সংস্কৃতি আপনি ভিন্ন দেশে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি। খালেদা রুমি বলেন, সমস্যাটা হলো আমরা নিজেরা একটি গন্ডি তৈরি করে রেখেছি। যার বাইরে আমরা যেতে পারিনা। যে কারণে অনেক নাগরিক অধিকার এবং সংষ্কৃতি আদান প্রদান করতে পারছিনা।

জামালপুরের মেয়ে রুমি ,ছোট থেকে বড় হয়েছেন পারিবারিক শিক্ষা এবং কঠোর নিয়ম শাসনের মধ্য দিয়ে। বাবা প্রয়াত আমির খসরু একজন  ব্যাংকার। যিনি উৎসাহ, উদ্দীপনা ও প্রেরণা যুগিয়েছেন প্রতিটি ক্ষেত্রে। যাঁকে তিনি জীবনের একজন আইকন ভাবেন। দুইভাই, একবোন এবং মা থাকেন দেশে।  

রুমি মনে করেন,বিদেশে যারা বের হবেন নারী বা পুরুষ যেই হোন না কেন,তাঁকে যেকোনো বিষয়ে অবশ্যই স্কিলড হয়ে  আসা উচিত। তবেই তিনি সহজে কাজ করার সুযোগ পাবেন ,নইলে তাঁকে ওড জব করতে হবে। চাকুরী বা উদ্যোক্তা হিসেবে প্রশাসনিক ভাবে যে প্রাধান্য দেয়া হয়,যা পুরুষ থেকে নারীদের বেলায় বেশি। সবচেয়ে বড় বিষয় নিরাপত্তা। এ বিষয়ে স্পেন অনেক এগিয়ে রয়েছে। রাত বিরাতে কাজ শেষে নিঃসংকোচে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা আছে, শতভাগ বলে তিনি মনে করেন। স্পেন এমন একটা দেশ,যদি আপনি এগুতে চান নারী হিসেবে আপনাকে সব ধরনের হেল্প করবে। ইংরেজী জানলেও চলবে, তাও যদি না জানেন দু'ভাষী নিয়েও আপনাকে নানা ধরনের সহযোগিতা করবে। এককথায় দৃঢ় মন নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং আপনাকে শুরু করতে হবে। কাজের ব্যাপারে  সবাই সমান। কাউকেই তাঁরা ছোট করে দেখে না। খালেদা রুমি বলেন,আমার অভিজ্ঞতা থেকেই এই বিশ্বাস হয়েছে।  

 স্পেনে আসার আগে রুমি ঢাকা বিমানবন্দরে মালিন্দো এয়ারওয়েজের স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে দুই বছর কাজ করেছেন। এর আগে ঢাকা বিমানবন্দরে প্রায় পাঁচ বছর এমিরেটসের গ্রাউন্ড অফিসার হিসেবে কাজ করেন। এ ছাড়াও, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে কাজ করেছেন। কাজের রয়েছে বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতা তাঁর। বলেন, কোন কাজ জীবনে বিফলে যায় না। যদি আপনি সঠিকভাবে করে থাকেন। জীবনের কোন না কোন সময় ,সে অভিজ্ঞতা দক্ষতা হয়ে আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।  

খালেদা রুমি বলেন, স্পেনে আমার সংগ্রামের সিঁড়ি একাই ভাঙতে হয়েছে, একাই  পথ হেঁটেছি, তবু  মনোবল হারাইনি ,যেকারণে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। নারী হিসেবে নিজেকে অসহায় ,অবলা ভাবার সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। সুযোগ রয়েছে অফুরন্ত ,আগ্রহ এবং পরিশ্রম দিয়েই দাঁড়িয়ে যাবেন বলে তিনি বলেন।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন