https://www.prothomalony.com/
5716
north-america
সেদিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। সঙ্গে স্ট্রম এলার্ট। মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হচ্ছিল অতি জরুরী কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার। সেই ‘ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে’ স্ট্রম এলার্ট উপেক্ষা করে রাবিয়ানরা মিলিত হয়েছিল প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত লং আইল্যান্ডের বেলমন্ট লেক স্টেট পার্কে। উপলক্ষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন নর্থ আমেরিকার বাৎসরিক বনভোজন ও মিলনমেলা। নিউ ইয়র্কের ৫টি ব্যুরোর বাহিরেও কানেটিকাট, নিউজার্সি, ম্যাসাচুসেটস, পেনসিলভেনিয়া সহ বিভিন্ন স্টেটে বসবাসরত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মিলিত হয়েছিলেন বাৎসরিক পিকনিকে।
.jpeg)
মানুষ এবং প্রকৃতি একে অপরের বন্ধু। প্রকৃতির হাসিতে মানুষ হাসে, প্রকৃতির কান্নায় মানুষ কাঁদে। কিন্তু সেদিন প্রকৃতি এবং মানুষ উভয়েই হেসেছিলো। অর্থাৎ আবহাওয়ার পূর্বাভাস মিথ্যা প্রমাণ করে লং আইল্যান্ডের সবুজে সবুজময় প্রকৃতি হেসে উঠেছিলো সূর্যের হাসিতে। মিলনমেলায় ছুটে এসেছিলেন ৯০ বছর বয়স্ক বর্ষীয়ান রাবিয়ান থেকে শুরু স্ট্রলারে বসা রাবিয়ান প্রজন্ম। তারা হেসে খেলে আনন্দে কাটিয়েছেন স্মৃতিমুখর একটি দিন।
সকাল ১১ টায় বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে পিকনিকের শুভ উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তণ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ, এনওয়াইপিডির ট্রাফিক পুলিশের ইউনিয়নের নির্বাচিত সভাপতি রাবিয়ান সৈয়দ আব্দুর রহিম দুদু, বস্টন থেকে আসা উপদেষ্টা শাহীন খান ও শম্পা খান, অলিম্পিয়ান সাইদুর রহমান ডন, বাংলাদেশী আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন (বাপা)’র সাধারণ সম্পাদক, এনওয়াইপিডি’র ক্যাপ্টেন রাবিয়ান এস. আলম প্রিন্স।

এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র এলামনাই জিন্নাতুন হাসান, কানেটিকাট থেকে আগত রাবিয়ান সুজা খান, মুরসালিন বাচ্চু, উপদেষ্টা আলী আনোয়ার, সিনিয়র রাবিয়ান আতাউর রহমান, তোফায়েল আহমেদ, ডা. শহীদুল ইসলাম, রাকসু’র সাবেক ছাত্র মিলনায়তন সম্পাদক মুজাহিদ আনসারী, অধ্যাপিকা মমতাজ শাহনাজ, কামরুল আলম হীরা, সাবেক ছাত্রনেতা অসীম ব্রহ্মচারী, সাবেক সদস্য সচিব মুন্সী আহাদ জামান, সাবেক সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী রাব্বী, শফিকুর রহমান জন, এমডি মুরাদ, তাহেরা আমীন এ্যানি, নূর কানিজ ফাতিমা, আকলিমা রানা চৌধুরী, মাহমুদা হাসান কণা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, তালুকদার নাজির-উ- দ্দৌলা, সৈয়দ এনামুল হোসাইন, ডলি চৌধুরী, এএফএম হানিফ সরদার, রেজওয়ান আলী, সায়মা আলী, মুখলেছ রহমান, কে.এম. আলী আজগর, রাবিয়ান ইয়াকুব আলী মিঠু, রওশন সরকার নীপা,শামীমা আক্তার, খন্দকার মনিরুজ্জামান, তৌফিক আল মান্নান, শরিফুল ইসলাম, সাধন বিশ্বাস, অর্চনা পাল, মোহাম্মদ খান বিপ্লব, মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মার্ক, এডভোকেট নূরুজ্জামান বাবু, এডভোকেট আব্দুর রাশিদ, মিতা জামান, বোরহানুস সুলতান, কামরুন নাহার, মোছাঃ আছমা খাতুন, ইশরাত জাহান, সৈয়দা এস আখতার, তাসলিমা আক্তার, নীলা আলম, মনিরা আকঞ্জি, নার্গিস ফাতেমা বিপ্লবী, মোঃ আবু সাইদ লেমন, আকিব রায়হান সহ পিকনিকে আগত রাবিয়ান এবং তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ।
উদ্বোধনের প্রাক্কালে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সভাপতি একেএম মনিরুল হক রাহুল এবং পিকনিক কমিটির আহবায়ক মোঃ আসাদুজ্জামান। সহসভাপতি ফতেনূর আলম বাবু, পিকনিক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক নীলুফার যারীণ ও শিমুল পারভেজ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী পর্ব সহ অন্যান্য অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ
সম্পাদক আসলাম আহমাদ খান।

এবারের পিকনিকে রাকসু’র প্রথম জিএস, সাবেক কূটনীতিক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় রাবিয়ান আব্দুর রাজ্জাক খান এবং রাবিয়ান প্রজন্ম, প্রতিভাবান কন্ঠশিল্পী, বাংলার গায়েন পুরষ্কার বিজয়ী আলভান চৌধুরীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আব্দুর রাজ্জাক খানকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন উপদেষ্টা শাহীন খান ও শম্পা খান। সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সাবেক সভাপতি সৈয়দ আব্দুর রহিম দুদু এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ। ফুলের তোড়া উপহার দেন জিন্নাতুন হাসান এবং মাহমুদা হাসিন কণা। সম্মাননা গ্রহণের সময় রাজ্জাক খানের বোন শ্রদ্ধেয়া সাইদা রহমান উনার সঙ্গে ছিলেন। মা আকলিমা রানা চৌধুরী এবং বাবা ডা. শহীদুল ইসলামের উপস্থিতিতে আলভান চৌধুরীর হাতে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) তুলে দেন অলিম্পিয়ান সাইদুর রহমান ডন এবং রাকসু’র সাবেক ছাত্র মিলনায়তন সম্পাদক মুজাহিদ আনসারী। উত্তরীয় পরিয়ে দেন মুন্সী আহাদ জামান এবং ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী রাব্বী। এ সময় আলভানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অসীম ব্রহ্মচারী, মোঃ আসাদুজ্জামান, ফতেনূর আলম বাবু, নূরুজ্জামান বাবু।
সম্মাননা স্মারক প্রদানের পূর্বে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা, আকর্ষণীয় পিলো পাসিং এবং শিশুদের জন্য খেলাধূলা। স্মৃতিচারণ ও জম্পেশ আড্ডায় কাটে একটি আনন্দমুখর দিন। পরিবেশন করা হয় ঝালমুড়ি, চা, তরমুজ, পান-সুপারি সহ বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার। অনুষ্ঠিত হয় আকর্ষণীয় রাফেল ড্র।
পিকনিকের আনন্দময় পর্ব ছিল সঙ্গীতানুষ্ঠান। সকলকে সঙ্গিত পরিবেশন করে মুগ্ধ করেন রাবিয়ান অর্চনা পাল এবং অতিথি শিল্পী মিঠু মাহমুদ। সঙ্গীতানুষ্ঠান পর্বের মূল আকর্ষণ ছিল বাংলার গায়েন খ্যাত আলভান চৌধুরীর অসাধারণ পরিবেশনা। উপস্থিত দর্শকদের অনুরোধে সে বাংলা এবং ইংরেজিতে একাধিক গান পরিবেশন করে। আলভান চৌধুরীর সুরের মূর্চ্ছনায় রাবিয়ানরা মুগ্ধচিত্তে ঘরে ফেরে, সঙ্গে নিয়ে আসে সোনালি দিনের এক সুখস্মৃতি।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন