https://www.prothomalony.com/

5691

north-america

উত্তর আমেরিকা

লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে কনজারভেটিভ দলের সম্ভাব্য প্রার্থী বাংলাদেশি মোজাম্মেল

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৩ ০৭:০৫

লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন মোজাম্মেল হোসেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিকের নাম আসায় চমকে উঠেছেন অনেকে। তাঁকে নিয়ে জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের বেশ আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।

মোজাম্মেল হোসেন কনজারভেটিভ পার্টির সদস্য। তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে অপরাধী চক্রকে দমন, মেট্রোপলিটন পুলিশ (মেট পুলিশ) ব্যবস্থার সংস্কার ও দূষণ কমিয়ে আনতে বিদ্যমান থাকা আলট্রা লো ইমিশন জোন (ইউএলইজেড) সম্প্রসারণ বন্ধ করা—এ তিনটি বিষয় রয়েছে তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায়।

মোজাম্মেলের জন্ম বাংলাদেশে। ১৯৯৫ সালে তিনি যখন যুক্তরাজ্য অভিবাসী হয়েছেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ২১ বছর। সম্প্রতি এলবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের দেশ ও মাকে নিয়ে কথা বলেন। স্মৃতিচারণায় উঠে আসে বাংলাদেশে মাটির মেঝের ওপর কাঠের তৈরি ঘর আর অশ্রুসিক্ত মা-কে পিছে ফেলে আসার কথা।

 মোজাম্মেল ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন। এর পর থেকে দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ফৌজদারি মামলা-মোকদ্দমার আইনজীবী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে তিনি বেশ আলোচিত হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের মামলায়ও লড়েছেন এবং মীমাংসা করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফৌজদারি মামলায় লড়া আইনজীবী হিসেবে কুইন্স কাউন্সিলে নিজের জায়গা তৈরি করে ইতিহাস গড়েন। এই কাউন্সিল এখন কিংস কাউন্সিল নামে পরিচিত।

মোজাম্মেলের আগের কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই। তবে মানুষের কাছে তাঁর ‘নিজস্ব আবেদন’ রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নানা উত্থান-পতনের পর তিনি এখন নতুন শুরুর স্বপ্ন দেখছেন। দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের ব্যাপক অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যবস্থায় সংস্কার ও মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

মোজাম্মেল প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি নির্বাচিত হলে লন্ডনে সক্রিয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন। তিনি বলেন, ছুরি হামলা ও ফোন ডাকাতির মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবিলা এবং এসব চক্রের মূলোৎপাটনে জোর দেবেন তিনি। এ জন্য মেট পুলিশের মধ্যেই ‘টার্গেটেড টার্মিনেশন টিম’ নামে একটি বিশেষ ইউনিট গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। যাদের কাজ হবে শুধু অপরাধী চক্রের প্রধানদের চিহ্নিত করে আইনের কাছে সোপর্দ করা।

মেয়র হলে প্রথম দিনেই লন্ডনের সীমান্ত এলাকার বাহিনীর ক্যামেরা বন্ধ করে দেবেন। তাঁর যুক্তি হলো, ইউএলইজেড সম্প্রসারণ করা মানে হলো যানবাহনের ওপর দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ আরোপ করা। অর্থনৈতিক এই সংকটের সময় ইউএলইজেড সম্প্রসারণের অর্থ হচ্ছে বৃহত্তর লন্ডনের বাসিন্দাদের ‘অসহনীয় নিষ্ঠুরতা’।

এর বাইরে মোজাম্মেল অপরাধ ও পরিবহনব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি আবাসনের ক্রয়ক্ষমতা এবং শহরের পরিবহন নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। লন্ডনের মেয়র নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, মোজাম্মেলের এসব পরিকল্পনা ও প্রস্তাব নিয়ে তত বেশি আলোচনা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন