https://www.prothomalony.com/

5654

north-america

উত্তর আমেরিকা

বৈশ্বিক ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি নজিরবিহীন, মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১২ লাখ টাকা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৩ ০৫:০০

সম্প্রতি আঙ্কটাডের গ্লোবাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বৈশ্বিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২ লাখ কোটি ডলারে। ৮০০ কোটি বিশ্বের বর্তমান জনসংখ্যা হিসাবে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে বিশ্বের সামগ্রিক এবং মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ নিয়ে জাতিসংঘ এই প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। কোভিড-১৯ মহামারির মতো বৈশ্বিক দুর্যোগ এই ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
গ্লোবাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের সামগ্রিক ৯২ ট্রিলিয়ন বা ৯২ হাজার বিলিয়ন ডলার ঋণের মধ্য সবচেয়ে বেশি ঋণ যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটি এককভাবে মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ে রেখেছে। দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ ৩০ হাজার ৯৮৫ বিলিয়ন ডলার। ঋণের দিক থেকে শীর্ষ তালিকার নিচের দিকে থাকা দুটি দেশ হলো অস্ট্রেলিয়া এবং মেক্সিকো। অস্ট্রেলিয়ার ৯৪৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ আর মেক্সিকোর ঋণের পরিমান ৭৯২ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের মোট ঋণের ৩০ শতাংশ নিয়ে রেখেছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। বর্তমানে যে ঋণ রয়েছে তা ২০০০ সালের তুলনায় প্রায় ৫ গুণ বেশি। এই ঋণ ২০২২ সালে বিশ্বের মোট জিডিপির (১০৩ ট্রিলিয়ন ডলার) প্রায় কাছাকাছি। প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের ৩৩০ কোটি মানুষ এমন সব দেশে বাস করেন যেসব দেশ ঋণের সুদ পরিশোধের পেছনে যে অর্থ ব্যয় করে তা সেসব দেশের স্বাস্থ্য বা শিক্ষা খাতে ব্যয়ের চেয়েও বেশি। 

প্রতিবেদন অনুসারে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সরকারি ঋণ দিন দিন ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। উচ্চ হারে ঋণের বোঝা বহনকারী দেশের সংখ্যা বাড়ছেই। ২০২০ সালে অন্তত ৭০টি দেশের সরকারি ঋণ তাদের জিডিপির ৬০ শতাংশও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ২০২২ সালে অবশ্য সেটি কমে ৬০–এ নেমেছে। 

আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থার মধ্যেই অসাম্য গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক দক্ষিণের ঘাড়েই ঋণের বোঝা বেশি। এর পেছনে রয়েছে বৈদিশক ঋণ, নানামুখী সংকট এবং ঋণের পেছনে উচ্চ ও ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধি। এছাড়া বিদেশি মুদ্রায় বেশি বেশি ঋণ নেওয়ার কারণে এসব দেশ বহির্বিশ্বের অভিঘাতের প্রতি দিন দিন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি বড় চিত্র উঠে এসেছে বৈশ্বিক উত্তর ও বৈশ্বিক দক্ষিণের মধ্যে ঋণের প্রকৃতিতে। উন্নয়নশীল দেশগুলো উন্নত দেশের চেয়ে অনেক কম ঋণগ্রহীতা হলেও তাদের পরিশোধ করতে হচ্ছে বেশি। এতে করে কিছু দেশ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ছে। একদিকে ঋণ পরিশোধ অন্যদিকে নাগরিকদের পেছনে ব্যয় এর দুটোর ভারসাম্য করতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। 

এই প্রতিবেদনের বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘আমাদের অর্ধেক বিশ্বই উন্নয়ন নামের বিপর্যয়ের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। ঋণ সংকট এই বিপর্যয়কে আরও উসকে দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সেকেলে অর্থব্যবস্থার কারণেই অস্থিরভাবে এই ঋণ বেড়ে যেতে পেরেছে।’

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন