https://www.prothomalony.com/

5544

north-america

উত্তর আমেরিকা

"যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ শাখা" নামের সংগঠনটির সকল কার্যক্রম স্থগিত এবং সংগঠনের সভাপতি রাব্বি আলমকে বহিস্কার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৩ ০২:১১

২০২০ এর ফেব্রুয়ারীতে বাংলাদেশ থেকে গঠিত "যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ শাখা" নামের সংগঠনটির সকল কার্যক্রম স্থগিত এবং এই সংগঠনের সভাপতি হিসেবে পরিচয়দানকারী জনৈক রাব্বি আলমের বহিস্কার আদেশ দিয়ে ৬ জুলাই বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানান বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। 

সম্প্রতি রাব্বি আলম নামে এই ব্যাক্তি বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং বঙ্গবন্ধু কমিশনের নাম দিয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন, সেক্রেটারী অফ স্টেট ব্লিঙ্কেন এবং ছয়জন কংগ্রেসম্যানদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বলে দাবি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি জামাত চক্র দ্বারা এই খবর ছড়িয়ে যাবার পর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চলছে, এবং এধরণের মামলা আমাদের বাংলাদেশের সরকারের উস্কানিতে হয়েছে বলেও মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন পরিষদের দুই নেতা ডঃ নুরুন নবি,  ইঞ্জিনিয়ার রানা হাসান মাহমুদ।
 ঠিক কী অভিযোগে এই মামলা, তা ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট করেননি রাব্বী। এ ছাড়া মামলায় বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি প্রত্যাহারের দাবি ছিল বলে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ৬ জুলাই  বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি পরিচয়দানকারী মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা মো. রাব্বী আলমের বিরুদ্ধে সংগঠনের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তিবিরোধী বিভিন্ন কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ায় গত বছর কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। আজ পর্যন্ত তিনি এর কোনো উত্তর না পাঠানোয় নোটিসে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী স্বতঃসিদ্ধভাবে সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সব ধরনের সম্পর্ক অবলুপ্ত এবং সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো।'
বঙ্গবন্ধু পরিষদের এই দুই নেতা আরও বলেন, ‘চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশে ও বিদেশে সংগঠনের বিরাজমান পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার স্বার্থে সবাইকে জানাচ্ছি, মো. রাব্বী আলম বর্তমানে কোনোভাবেই বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নামে কোনো রকম আর্থিক লেনদেন বা সংগঠনের প্রতিনিধিত্বমূলক কোনো কর্মকাণ্ড না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হলো।

‘সেই সঙ্গে আরও জানাচ্ছি, তিনি অতীতে ও সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে যেসব অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে, তার কোনোটিতেই তিনি কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের কোনো পূর্বানুমতি বা অনুমোদন গ্রহণ করেননি। এগুলো সবই তাঁর নিজস্ব উদ্যোগ। তাই এসব অভিযোগের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কোনো পর্যায়েরই কোনো সম্পর্ক নেই।’

পরিষদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি হিসেবে নিজেকে পরিচয় না দিতে বা অন্য কোনোভাবে বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিনিধিত্ব না করতে মো. রাব্বী আলমকে নির্দেশ ও সতর্ক করা হলো বলে এই বিবৃতিতে বলা হয়।

রাব্বী এর আগে বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রপাগান্ডা চালানোর অভিযোগে আল জাজিরা টিভি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছিলেন। তবে ওই মামলায় অগ্রগতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা ফ্রি ল প্রজেক্ট পরিচালিত অনলাইন লিগ্যাল ডেটাবেজের তথ্য অনুযায়ী, বাইডেনের বিরুদ্ধে মামলায় রাব্বীর সঙ্গে বাদী হিসেবে আছেন রিজভী আলম ও শেরে আলম রাসু নামে সাবেক দুই প্রবাসী ছাত্রলীগ নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়ানি আইনের অভিবাসনসংক্রান্ত ৪৬৫ ধারায় মামলাটি ডকেটভুক্ত। এটি প্রথমে বিচারক জুডিথ ই লিভির আদালতে উত্থাপন করা হয়। তিনি ম্যাজিস্ট্রেট জাজ এলিজাবেথ এ স্ট্যাফোর্ডের কাছে পাঠিয়েছেন। এই মামলায় এখনো জুরি চাওয়া হয়নি।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন