https://www.prothomalony.com/
5525
north-america
যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৭ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। ৪ জুলাই মঙ্গলবার দেশ জুড়ে দেশের জন্য, স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আত্মাহুতি দেয়া লোকজনকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আমেরিকার লোকজন। আতসবাজি আর দীর্ঘ সপ্তাহান্তের ভ্রমণ নিয়ে মেতে উঠেছিল আমেরিকার নগর জনপদ। নিউইয়র্কে বিখ্যাত মেসিস ফায়ার ওয়ার্ক দেখার জন্য বিশ্বের পর্যটকদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। হাডসন আর ইস্ট রিভারের পাড় থেকে নদীর উপর আলোর ফোয়ারা দেখেছেন কয়েক লাখ দর্শক। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সহ রাজ্য ও নগর প্রধানরা বাণী দিয়েছেন। স্বাধীনতাকে সুরক্ষার জন্য ঐক্য আর সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
১৭৭৬ সালের ২ জুলাই ইংল্যান্ডের শাসন থেকে পৃথক হওয়ার জন্য ভোট দেন আমেরিকার দ্বিতীয় কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস। এর দুইদিন পর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় কংগ্রেস। প্রত্যেক বছর চার জুলাই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। ইতিহাস বলে দিনটির জন্য জীবন দেন ২৫ হাজার বিপ্লবী আমেরিকান এবং ২৭ হাজার ব্রিটিশ ও জার্মান সেনা।
১৭৭৬ সালের ২ জুলাই দ্বিতীয় কন্টিনেন্টাল কংগ্রেসে ভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতা ঘোষণার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পর পাঁচজনের একটি কমিটি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র রচনা করে। টমাস জেফারসন, জন অ্যাডামস, বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ছিলেন এ কমিটির অন্যতম সদস্য। টমাস জেফারসন ছিলেন মূল লেখক। ঘোষণাপত্রটি কংগ্রেসের অনুমোদন পায় ৪ জুলাই ১৭৭৬ সালে। ‘প্রতিটি মানুষই সমান এবং একই সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি’ এই বাণীকে সামনে রেখে থমাস জেফারসন লিখেছিলেন স্বাধীনতার বাণী।
বাকস্বাধীনতা, প্রকাশনার স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইন পরিবর্তনের জন্যও সরকারের কাছে আবেদন করার স্বাধীনতা সবার, আমেরিকায় বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের। নিজেকে প্রকাশ করার স্বাধীনতাকে উদযাপন করে আমেরিকানরা। স্বাধীনতা দিবসে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করা বীরদের স্মরণ করা হয় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে। লম্বা সপ্তাহান্তে এক রাজ্য থেকে অন্যরাজ্যে ছুটে গিয়ে আনন্দ উদযাপনের সময় ফোর্থ জুলাই সপ্তাহান্ত। আতশবাজির ফোয়ারায় রঙ্গিন হয়ে উঠে নগর জনপদ।
নিউইয়র্কে মেসিস ফায়ার ওয়ার্ক বা আতশবাজি আন্তর্জাতিভাবে বিখ্যাত। হাডসন আর ইস্ট রিভারের পাড় থেকে ছুড়া আতশবাজিতে নদীর উপর রঙের খেলা দেখতে এবারেও কয়েক লাখ লোকের সমাগম হয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছে পর্যটকরা। কয়েক হাজার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজনের উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নিউইয়র্কে লোকজন উদযাপন করছে আমেরিকার ২৪৭ তম স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতা দিবসের উরসব আনন্দের মধ্যেই বার বার উচ্চারিত হয়েছে আমেরিকার শ্রেষ্টত্বের জয়গান এ দেশের জনগণের মুখে।
২০০০ সালে আমেরিকান ভোক্তারা আতশবাজিতে ৪০ কোটি ৭০ লাখ ডলার খরচ করেছে। ২০২২ সালের মধ্যে সংখ্যাটি বেড়ে ২৩০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি ঘটে যখন কিনা জনসমাবেশে আতশবাজি ফুটানো বন্ধ করে দেয়া হয়। ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয় ২০১৯ সালে ১০০ কোটি ডলার থেকে ২০২০ সালে ১৯০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়।
ব্যাপক সচেতনতা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও হাজার হাজার আমেরিকান প্রতি বছর আতশবাজির কারণে আহত হয়। ২০২২ সালে ১০ হাজার ২০০ মানুষকে ইমার্জেন্সি রুমে চিকিৎসা করা হয়েছিল এবং ১১ জনের মৃত্যুর জন্য আতশবাজিকে দায়ী করা হয়েছিল।
ভ্রমণ, ব্যাকিয়ার্ড পার্টি, সমুদ্র তীরে ভ্রমণ- এসব নিয়ে আমেরিকার ফোর্থ জুলাই ছিল উচ্ছ্বাস আর আনন্দের। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউসে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের ছুটি উদযাপন করেছেন।ইউএস ক্যাপিটলের সামনে বার্ষিক স্বাধীনতা দিবসের কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বছরের পারফরমারদের মধ্যে ছিলো শিকাগো, বেবিফেস, ন্যাশনাল সিম্ফোনি অর্কেস্ট্রা এবং ইউএস আর্মি ব্যান্ড।
ওয়াশিংটন ডিসির কন্সটিটিউশন এভিনিউ-এ স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন