https://www.prothomalony.com/

5416

north-america

উত্তর আমেরিকা

কুইন্স ব্যুলেভার্ডে আসিফ রহমান ওয়ে

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৩ ০৭:৪৫

নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে ২২ বছর বয়সী তরুণ আসিফ রহমান সাইকেল চালিয়ে ঘরে ফেরার সময় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৫ বছর থেকে এক সন্তানহারা মা লেখক লিজি রহমান তাঁর ছেলের স্মৃতি বুক ধারণ করে বেদনার পথ অতিক্রম করছেন।

১৭ জুন শনিবার  ৫৫ এভেন্যু ও কুইন্স ব্যুলেভার্ডের নামকরণ করা হয়েছে 'আসিফ রহমান ওয়ে'। নামকরণ উদ্বোধন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণান। এর আগে আসিফ রহমানের মা লিজি রহমানের প্রচেষ্টায় কুইন্স বুলোভার্ডে বাইক লেন চালু করা হয়েছে বেশ আগেই।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের কমিশনার ইডানিস রডরিগেজ, সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাজিও, সিনেটর জন সি. ল্যু, এসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডসের প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সাদিক, ট্রান্সপোর্টেশন অল্টারনেটিভসের কুইন্স কমিটির সদস্য জিসেম হ্যানাস এবং নিউইয়র্কস্থ কনসাল জেনারেল ড. মো. মনিরুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আসিফ রহমানের বোন এটর্নি মৌমিতা রহমান, ভাই নাফিস রহমান।

স্বাগত বক্তব্যে শেকার কৃষ্ণান নিউইয়র্ক সিটিতে বাইক লেনের গুরুত্ব এবং আসিফ রহমান নামকরণের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন, লিজি রহমান এবং আসিফ রহমানের কারণেই আজ আমরা নিরাপদ কুইন্স ব্যুলেভার্ড পেয়েছি। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সিটির পথচারী এবং সাইকেল চালকদের জন্য এই সিটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।

ডিওটি কমিশনার ইডানিস রডরিগেজ বলেন, আসিফ রহমানরা কখনো মারা যায় না, তারা শুধু স্ট্রিট সাইনে বেঁচে থাকেন না, তারা আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্কের রাস্তা পথচারীদের জন্য। তাই কমিশনার হিসাবে, আমি চাচ্ছি আরো বেশি পাবলিক স্পেস তৈরি করতে যেখানে নারীরা, শিশুরা, বয়স্করা নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারেন এবং বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারেন।

সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বলেন, যখন আপনি কোনো রাস্তা নিরাপদ করবেন, তার অর্থ জীবন শুধু চলমান থাকবে না, জীবন হবে গতিশীল। তিনি বলেন, কুইন্স  ব্যুলেভার্ডের একটি অংশের নাম আসিফ রহমানের নামে রাখার অর্থ হলো, কুইন্স  ব্যুলেভার্ডকে আর কখনোই  ব্যুলেভার্ড অব ডেথ বলা হবে না।

কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, যখনই কোনো কাজের পিছনে মহৎ উদ্দেশ্য থাকে, তখনই গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা এগিয়ে আসেন। আসিফ রহমানের নামে রাস্তার নামকরণও তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হলো, এই কাজের পিছনে রয়েছেন বাংলাদেশীরা। আসিফ রহমান জীবন দিয়ে অনেক মানুষের জীবনকে নিরাপদ করে গেছেন।

এটর্নি মৌমিতা রহমান বলেন, আসিফ রহমানের ভেতরে ছিল বিপুল ভালোবাসা, মানুষের প্রতি ছিল তার অসীম শ্রদ্ধা, ফ্যামিলি ভেল্যুজ ছিল তার অপরিসীম। এমন একজন ভাইকে হারিয়ে আমি অনেকটাই শূন্য হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, আসিফ আছে, আমাদের মাঝেই।

লিজি রহমান তাঁর পুত্র আসিফ রহমানের মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, আমাদের পরিবারে আরো দুটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও সেই পরিবেশ আর ফিরে আসেনি। তিনি বলেন, আসিফ আর দশটা ছেলের মত ছিল না। সে কবিতা লিখত, গান লিখত, গান গাইত। তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছে জীবনকে ভালোবাসার আকুতি। সে ছিল প্রকৃতপক্ষে দার্শনিক।

লিজি রহমান বাইক লেন করার সংগ্রামের বর্ণনা করতে গিয়ে মেয়র ব্লুমবার্গের পিছুটান, মেয়র ডি ব্লাজিওর এগিয়ে আসা, ট্রান্সপোর্টেশন অল্টারনেটিভসের সাথে থাকার বিষয়গুলো উল্লেখ করে তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠানে বিপার শিল্পীরা পরিবেশন করেন আমেরিকা ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, আসিফের বন্ধু আনাতোল আশরাফ আসিফের লেখা কবিতা পাঠ করেন। রেকর্ডে আসিফ রহমানের গান বাজানো হয়। আসিফ রহমান ওয়ে সাইনের মোড়ক উন্মোচন করতে এক বলীক হেঁটে যান ডি ব্লাজিও, কনসাল জেনারেলসহ অন্য বিশিষ্ট জনেরা। এ সময় রেকর্ডে আসিফের গান বাজানো হচ্ছিল।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন