https://www.prothomalony.com/

5358

north-america

উত্তর আমেরিকা

বদরুল খান-রুকন হাকিমকে বহিষ্কারঃ বিরোধ নয় ঐক্যের আহ্বান

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৩ ০৪:১৬

সংগঠনের জন্য নিজস্ব ভবন ক্রয়কে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য হওয়া বিরোধে জালালাবাদ এসোসিয়েশন এখন কার্যত দুইভাবে বিভক্ত। সমাধানের চেষ্টা করার পরও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এখন দুই অবস্থানে। উভয়েই নিজেদের শক্তি দেখানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরমধ্যয়ে যুক্ত হয়ে পড়েছেন সংগঠন ভাঙ্গা গড়ার কিছু কুশীলব।

সভাপতি আহুত সাধারণ সভা থেকে সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কারের পর সহ সভাপতি শাহীন কামালী ও সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম আহুত পাল্টা জরুরী সাধারণ সভায় সভাপতি বদরুল খান ও সহ সাধারণ সম্পাদক রুকন হাকিম-কে বহিষ্কার করা হয়েছে। শাহীন কামালকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মইনুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠন পরিচালনা করবেন বলে এ পক্ষের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় উপস্থিত লোকজন  হাত তুলে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান। সর্বশেষ সভায়ও বক্তারা ক্রয়কৃত ‘জালালাবাদ ভবন’ রক্ষার পাশাপাশি উদ্ভুত সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব করেন।

১১ জুন রোববার সভাপতি বদরুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এসোসিয়েশনের সাধারণ সভায় ইতিপূর্বে ইসি কমিটিতে বহিষ্কার করা সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামকে চুড়ান্তভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে শাহীন-মইনুলের নেতৃত্বে জরুরী সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়।

উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে ১৮ জুন রোববার আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন শাহীন কামালী এবং সভা পরিচালনা করেন মইনুল ইসলাম। সভার প্রথমেই জরুরী সাধারণ সভা আহ্বানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সভার সভাপতি শহীন কামালী। এরপর সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ করেন মইনুল ইসলাম। তিনি তার রিপোর্টে বিস্তারিত তুলে ধরেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শাহাবুদ্দীন, দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, পংকি মিয়া, রিয়াজ উদ্দিন কামরান, ইনিঞ্জনিয়ার সৈয়দ ফজলুর রহমান, সৈয়দ জুবায়ের আলী, শাহীন আজমল, মামুন আহমেদ, আতাউল গণি আসাদ, এবাদ চৌধুরী, দরুদ মিয়া রনেল, হুমায়ুন চৌধুরী, মোহাম্মদ মহসিন সেলিম, এম আলাউদ্দিন, মোশাহেদ চৌধুরী, এম করীম চৌধুরী, হেলিম উদ্দীন, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

সভায় বক্তারা ১১ জুনের সাধারণ সভা ও সভাপতি বদরুল হোসেন খানের কর্মকান্ডের সমালোচনা করে বলেন, ঐ সভায় সিকিউরিটি দিয়ে যেভাবে জালালাবাদবাসীকে নাজেহাল করা হয়েছে তার অত্যন্ত দু:খজনক, নিন্দনীয় এবং সভাপতি বদরুল হোসেন খান সাংগঠনিক নিয়ম-কানুন ও গঠনতন্ত্র লংঘন করেছেন। বক্তারা বলেন, ‘জালালাবাদ ভবন’ সময়ের একমাত্র দাবী। এজন্য সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। বক্তারা ক্রয়কৃত ভবন রক্ষার ব্যাপারে এক্যমত পোষন করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভুত সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে জালালাবাদ এসোসিয়েশন গঠনের সাথে জড়িত একজন সাবেক সভাপতি এখনো হাল ছাড়েননি। আপাতত নিজের পরিচয় প্রকাশ না করেই দুই পক্ষের নেপথ্য লোকজনের সাথে কথা বলছেন বলে জানালেন। সাবেক এ সভাপতি জানালেন, এ মুহূর্তে ন্যায় অন্যায় , নিয়ম অনিয়ম দেখার চেয়েও জরুরী হচ্ছে সংগঠনটিকে নিশ্চিত বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করার। তা না হলে , নেপথ্যের কুশীলবদের কিছু হবে না। ক্ষতি হবে মাত্র দুইজন মানুষের। ইতিহাসে জালালাবাদবাসীর কাছে তাঁরা বিভেদের নায়ক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন উল্লেখ করে তিনি আশা করেন একটা সুরাহা হবেই। আইন আদালত আর রাস্তার বিরোধকে প্রলম্বিত করাকে অঞ্চলবাসী কিছুতেই পছন্দ করেন না।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন