https://www.prothomalony.com/

5171

north-america

উত্তর আমেরিকা

বিস্ময়কর প্রতিভাধর কায়রান কাজীঃ ১৪ বছর বয়সেই গ্রাজুয়েশন

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৩ ০৬:১৩

ছবিঃ মা বাবার সাথে ১৪ বছর বয়সের ইউনিভার্সিটি গ্রাজুয়েট কায়রান কাজী-সংগ্রহ

শুধু আমেরিকার ইতিহাসেই নয়, বিশ্বের মেধাবীদের ইতিহাসেও এমন ঘটনা বিরল। রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১৪ বছর বয়সের এক শিক্ষার্থী। আমেরিকার সান্টা ক্লারা ইউনিভার্সিটির ১৭২ বছরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ট বয়সে গ্রাজুয়েশন করছেন কায়রান কাজী নামের এ শিক্ষার্থী। যে বয়সে মিডল স্কুল পাশ করার কথা, সে বয়সে স্নাতক ডিগ্রি গ্রহণ করেছেন স্বনামধন্য সান্তা ক্লারা ইউনিভার্সিটি থেকে। কায়রান কাজী বলেছেন, জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে আমি উত্তেজিত। সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বিখ্যাত স্পেসএক্স স্টারলিঙ্ক টিমের সাথে কাজ করার জন্য ওয়াশিংটন রাজ্যে মায়ের সাথে এখন তাঁকে ওয়াশিংটন রাজ্যে স্থানান্তর করতে হবে   সহসাই।  বিস্ময়কর মেধাবী বালক খাইরান কাজী একজন স্বাভাবিক সন্তান হিসেবে বেড়ে  উঠেননি।  জন্মের কিছুদিন পরই মা জুলিয়া ছেলের অস্বভাবিক মেধার আচরণ টের পেতে শুরু করেন। মাত্র দুই বছর বয়সেই কায়রান কাজীর চিকিৎসকরা ধরতে পারেন তাঁর বৌদ্ধিক এবং মানসিক বুদ্ধিমত্তা স্বাভাবিক মাত্রার অনেক উপরে। কায়রানকে সময়ের আগেই স্কুলে ভর্তি করার পরামর্শ দেয়া হয়। শিশু স্কুলের শুরুর দিনেই সে স্কুলকে বোরিং বলে উল্লেখ করে। তখন 'আরব বসন্ত' নামে মধ্যপ্রাচ্যে আন্দোলন চলছিল। শিশু স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিশু কায়রান কাজী যখন 'ফ্রি ইজিপ্ট, ডেমোক্রেসি নাও'- এসব স্লোগান দেয়া শুরু করে তখন এ শিশুর বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞানের বহর দেখে সবাইকে হতবাক হতে হয়। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট হয়েছে। প্রথম আলো পত্রিকাও  বিস্ময়কর প্রতিভাধর কায়রান কাজীকে নিয়ে সেসময় সংবাদ পরিবেশন করেছে। ৯৯.৯ মাত্রার বুদ্ধিমত্তা নিয়ে জন্মানো কায়রানকে নিয়ে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছে তাঁর মা বাবাকে। মাত্র ১০  বছর বয়সেই পরামর্শ দেয়া হয়েছে নিয়মিত স্কুল তাঁর জন্য নয়। যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার কথা তখন কলেজে ভর্তি করানোও দুরূহ ছিল। বেশ ঝামেলা করেই  তাঁকে কমিউনিটি কলেজে ভর্তি করানো হয়। সেখান ১০ বছর বয়সেই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলে আর্টিফিসিলে ইনটেলিজেন্ট প্রযুক্তি নিয়ে গবেষনার জন্য ইন্টার্ন করার সুযোগ পেয়ে যান কায়রান। ১১ বছর বয়সে সান্তা ক্লারা ইউনিভার্সিটিতে তাঁকে বদলী করা হয়। সেখানে কম্পিউটার সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কায়রান কাজী নিজেকে উচ্চশিক্ষায় ব্যস্ত রাখেন। আসছে ১৭ জুন ইউনিভার্সিটির ১৬০০ শিক্ষার্থীর সাথে কায়রান কাজী তাঁর স্নাতক সনদ গ্রহণ করবেন একজন প্রযুক্তিবিদ স্নাতক হিসেবে। ইউনিভার্সিটির সময়কে তাঁর আনন্দময় অভিজ্ঞতার সময় বলে কায়রান সংবাদ মাধ্যমের কাছে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন। তাঁকে নিয়ে এরমধ্যেই আমেরিকার সংবাদ মাধ্যম নিউজ করেছে। উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষায় যারা পত্রিকা প্রকাশনা শুরু করেছিলেন তাদের একজন পথিকৃৎ প্রয়াত  গজনফর আলী। জুলিয়া কাজী, তাঁর একমাত্র সন্তান। দুইবছর বয়সে বাংলাদেশের মৌলভীবাজার থেকে আমেরিকা গিয়ে প্রথমে নিউ ইয়র্ক শহরেই থাকতেন জুলিয়া। এস্টোরিয়া-জ্যামাইকায় বড় হয়েছেন। পরে মুস্তাহিদ কাজীকে বিয়ে করে সানফ্রান্সিসকো বে’তে থিতু হন। ২০০৯ সালের ২৭শে জানুয়ারি জন্ম হয় কায়রানের। জাপানি মিথলোজি থেকে ছেলের নাম রাখা হয় কায়রান। যার মানে সাগরের নিচে এক দরজা থেকে আরেক দরজা খুলে যাওয়া। কায়রান ভালো বাংলা বলতে পারে। বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ নিয়ে ভাবে কায়রান। বিশেষত রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা ওর মনকে আবেগ আক্রান্ত করে। ওর মা জুলিয়া কাজী আগেই জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের আবেগ খুব বেশি। ওর যখন আড়াই বছর বয়স তখন মিশরে ‘আরব বসন্ত’ আন্দোলন চলছিল। অতটুকু ছেলে সেই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেল এবং ওর প্রাইমারি ডাক্তারকে এই বিষয় নিয়ে ওর ভাবনার কথা বললো। যে বয়সে বেশির ভাগ শিশু একটা বাক্য সম্পূর্ণ বলতে পারে না, তখন সে অন্য দেশের আন্দোলন নিয়ে নিজের চিন্তাকে প্রকাশ করছে, ভাবা যায়! ডাক্তার সেদিন আমাকে আর ওর বাবাকে ডেকে বললেন, দেখুন, ‘আপনার ছেলে অতি মেধাবী। এমন শিশু দশ লাখে একজন পাওয়া যায়। আপনাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ ওর মতো প্রখর মেধাসম্পন্ন মানুষকে গাইড করা সহজ নয়।’ জুলিয়া কাজী পেশায় এক্সিকিউটিভ। স্বামী মুস্তাহিদ কাজী একজন ইঞ্জিনিয়ার। কায়রান কাজীকে আড়াই বছর বয়সে নানা ধরনের পরীক্ষা করে জানা গেছে, ওর যে শুধু ‘আই কিউ’ বেশি তা নয়, ওর ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ও খুব বেশি। যে কোনো ঘটনায় খুব বেশি আক্রান্ত হয় সে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন