https://www.prothomalony.com/

5045

north-america

উত্তর আমেরিকা

বর্তমানের টিভি নাটক আসলে কোন নাটক নয়, এগুলো ফাটক-স্বাধীন খসরু

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৩ ০২:২৮

নাটক সমাজের আয়না। নাটককে বলা হয় সমাজ বদলের হাতিয়ার, কিন্তু এখনকার সময়ের নাটকের মান আর সেই অবস্থায় নেই। দুঃখ করে বলতে হয় যে আজকালকার নাটকগুলো “ফাটক”র মতো বিকৃতি অর্থে পরিবর্তিত হয়েছে- কথাগুলো বলেছিলেন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা স্বাধীন খসরু। ২৫মে বৃহস্পতিবার প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় সম্প্রচার “টক অফ দ্য উইক” অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন  সবার প্রিয় ব্যক্তিত্ব অভিনেতা স্বাধীন খসরু এবং শিশু সংগীতশিল্পী দানিয়া সৈয়দ দিয়া। 

স্বাধীন খসরু, যার অসাধারণ অভিনয় প্রতিভা তাকে নিয়ে গেছে অন্য এক উচ্চতায়। প্রয়াত সাহিত্যিক ও নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদের অনেক নাটক ও সিনেমাতেই অভিনয় করেছেন তিনি। সিলেটের মৌলভীবাজারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্বাধীন খসরুর নিজ পরিবারে সাংস্কৃতিমনা মানুষ না থাকা সত্ত্বেও তিনি গান-নাটক ভালোবাসতেন। 

তিনি জানান, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই নাটক করতেন, গান শুনতে ভালো লাগতো। তাছাড়া রেডিওতে নাটক শোনা, স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখা ছিল তার নিত্যকার ব্যাপার। গ্রামের পাশে মাধবকুন্ড থাকায় ওখানে অনেক নাটক সিনেমার শুটিং চলতো। স্কুল পালিয়ে সেই শুটিং দেখতেন স্বাধীন খসরু। জনপ্রিয় এই অভিনয়শিল্পী মেধাবী ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও লেখাপড়া ঠিকমত শেষ করতে পারেননি বলে জানান। তবে লন্ডনে নাটকের ওপর লেখাপড়া করেছেন তিনি এবং ব্রিটেনে মূলধারার নাট্যচর্চার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ব্রিটেনে বসবাস করছেন স্বাধীন খসরু। 

ভীষণ মা-পাগল ছেলে স্বাধীন খসরু ইংল্যান্ডে যাবার পর ওখানের অতি পুরাতন হাফমুন থিয়েটারের অধীনে ইয়ুথ থিয়েটারের সাথে জড়িত হন। লন্ডনে থাকাকালীন সময়ে ১৯৮৯ সালের দিকে, আবদুল গাফফার চৌধুরীর পত্রিকা “জনমত”র পক্ষ থেকে নাটকের আয়োজন করা হয়, সেখানে তিনি পারফর্ম করেন। 

প্রখ্যাত লেখক হুমায়ুন আহমেদের সাথে প্রচুর কাজ করেছেন, সময় কাটিয়েছেন স্বাধীন খসরু। অনুষ্ঠানে দর্শকদের উদ্দেশ্যে হুমায়ুন আহমেদ সম্পর্কে বেশ কিছু স্মৃতিচারণ করেন স্বাধীন খসরু।

তিনি বলেন, প্রায় দুই বছরের মতো তিনি হুমায়ুন আহমেদের “দখিন হাওয়া’য় একসাথে বসবাস করেছিলেন। “চন্দ্রকথা” সিনেমার শুটিং চলাকালে হুমায়ুন আহমেদ “নুহাস পল্লী”তে স্বনামধন্য লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। এছাড়া সেখানে আরো ছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, জাহিদ হাসান, নায়ক ফেরদৌস, নায়িকা চম্পা, জুয়েল আইচ, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহামান। এইরকম একটি আনন্দঘন পরিবেশে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও হুমায়ুন আহমেদের উপস্থিতিতে সাঁতারকেটেছিলেন স্বাধীন খসরু, যা তিনি এখনও এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলে মনে করেন। 

দর্শক সারি থেকে সবার প্রিয় হুমায়ুন আহমেদ এর সাথে স্বাধীন খসরুর মজার একটি ঘটনার কথা জানতে চাওয়া হয়। এ নিয়ে আরেকটি ঘটনা তিনি জানান। একবার ২০০৪ সালে ঢালিউড এ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের পর নিউইয়র্ক শহর থেকে ড্রাইভ করে নায়াগ্রা ফলস দেখতে যাচ্ছিলেন সবাই। সাথে ছিলেন স্বয়ং হুমায়ুন আহমেদ, স্বাধীন খসরু, অভিনেত্রী শাওন। দীর্ঘ যাত্রায় বিভিন্ন সময়ে বিশ্রাম নেবার জন্য রেস্ট এরিয়াতে থামতে হয়েছিল। সেখানে স্ক্র্যাচ কার্ড কিনে সবাই মিলে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষার এক অপার আনন্দে মেতে উঠেছিলেন। হাসি আনন্দের মধ্য দিয়ে কখন তারা এতো দীর্ঘ পথ নিমিষেই পাড়ি দিয়েছিলেন তা আজো স্বাধীন খসরুর স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে।

সেদিনের অন্য আরেকজন অতিথি ছিল দানিয়া সৈয়দ দিয়া- হেরিকস মিডল স্কুল ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। বাবা-সৈয়দ সাকিল হক এবং মা বাবলি চৌধুরী। দিয়া মূলত ৬ বছর বয়সে বিপায় গান শেখা শুরু করেছিল। তার পাশাপাশি পণ্ডিত যশরাজ ইনস্টিটিউটে কিছু দিন শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নিয়েছিল। দাদা তপন কান্তি বৈদের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নিয়েছে। এছাড়াও দিয়া গত তিনবছর ধরে রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ডঃ অনিমা রায়ের কাছে শিখছে। আর শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নিচ্ছে কলকাতার শ্রীমতি অবন্তী ভট্টাচার্যের কাছে।

ছোট্টবন্ধু দানিয়া সৈয়দ দিয়া একে একে দর্শকদের উদ্দেশ্যে অনেকগুলো গান উপহার দেয়। “মাঝে মাঝে তব দেখা পাই” রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে শুরু করে তার গান শোনানোর পর্বটি। এরপর আরো দুটি রবীন্দ্রসংগীত “তোমার খোলা হাওয়ায় লাগিয়েপালে” এবং "যদি তো ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে” গেয়ে শোনায়। মান্না দে’র বিখ্যাত ও জনপ্রিয় একটি গান“ঐ মহা সিন্দুর ওপার থেকে কি সংগীত ভেসে আসে” গেয়ে শোনায় দানিয়া। 

মান্না দে’র এই গানটি অত্যন্ত কঠিন সুর ও কঠিন বাক্যে রচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সত্ত্বেও দানিয়া এই গানটি অত্যন্ত সুন্দর ও সুস্পষ্ট ভাবে গেয়েছিল। দানিয়া জানায়, তার এই শিল্পচর্চার পিছনে তার বাবা মায়ের ভূমিকা অনেক। শুরুতে পড়াশোনার পাশাপাশি এই কাজটি কঠিন মনে হলেও দানিয়া ম্যানেজ করে নিয়েছে বলে জানায়। 

এভাবেই স্বাধীন খসরুর অভিনয় জগতের নানান স্মৃতি বিজড়িত আলোচনা ও দানিয়ার শ্রুতিমধুর গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। সঞ্চালনায় ছিলেন এইচ বি রিতা এবং দিনা ফেরদৌস। বরাবরের মতো কারিগরি সহায়তায় ছিলেন এইচ বি রিতা, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার এই সম্প্রচার “টক অফ দ্য উইক” প্রতি বৃহস্পতিবার রাত নয়টায় প্রচারিত হয়ে থাকে।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন