https://www.prothomalony.com/
18569
north-america
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ০৬:৫৬
কর্মক্ষেত্রে বর্ণ ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে মোট প্রায় ২ কোটি ৯৫ লাখ (২৯.৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) এবং সম-কর্মসংস্থান সুযোগ কমিশন (ইইওসি) মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত এক সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছে।
মেরিল্যান্ডের বেথেসডায় সদর দপ্তর অবস্থিত লকহিড মার্টিন সমঝোতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার দেবে। বাকি ৭৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ বৈষম্যের শিকার এক হাজারের বেশি বর্তমান ও সাবেক কর্মীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে।
বিচার বিভাগের অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নিরপেক্ষ নিয়োগ, পদোন্নতি ও পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করলেও কিছু ক্ষেত্রে বর্ণ ও লিঙ্গ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আইন মেনে চলার বিষয়ে সরকারি চুক্তিতে মিথ্যা প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ‘ফলস ক্লেইমস অ্যাক্ট’-এর আওতায় ২ কোটি ২০ লাখ ডলার দিতে রাজি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে ইইওসি চেয়ারম্যান আন্দ্রেয়া লুকাসের করা অভিযোগে বলা হয়, লকহিড মার্টিনের ‘কম্পেনসেশন অ্যাডার’ নামের বেতন-প্রণোদনা কর্মসূচিতে শ্বেতাঙ্গ কর্মীদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে চালু এই কর্মসূচিতে প্রতিটি বিভাগের শীর্ষ ২০ শতাংশ কর্মীকে সাধারণ বেতন বৃদ্ধির অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, মেধাভিত্তিক প্রাথমিক মনোনয়ন শেষে বর্ণ ও লিঙ্গের পরিসংখ্যান মেলানোর জন্য মানবসম্পদ বিভাগ থেকে তালিকা পরিবর্তনের চাপ দেওয়া হতো এবং কিছু ক্ষেত্রে অশ্বেতাঙ্গদের সুযোগ দিতে শ্বেতাঙ্গ কর্মীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এই নিষ্পত্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে লকহিড মার্টিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট টিম বুহারের দায়ের করা একটি হুইসেলব্লোয়ার মামলা। ফলস ক্লেইমস অ্যাক্টের নিয়ম অনুযায়ী সরকারের পক্ষে মামলা করায় সমঝোতা থেকে টিম বুহার ৪৪ লাখ ডলার পাবেন।
ইইওসি চেয়ারম্যান আন্দ্রেয়া লুকাস জানান, ‘টাইটেল সেভেন অব দ্য সিভিল রাইটস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মীকে ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে; বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তির (ডিইআই) নাম ভাঙিয়ে বর্ণ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো সুযোগ বা পুরস্কার নির্ধারণ করা বেআইনি।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় লকহিড মার্টিন সহযোগিতা করেছে। এই সমঝোতার মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তি হলেও প্রতিষ্ঠানের ওপর কোনো চূড়ান্ত আইনি দায় বা অপরাধ প্রমাণিত করা হয়নি। তবে সমঝোতার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বোনাসের ক্ষেত্রে বর্ণ বা লিঙ্গ নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ মেধানীতি অনুসরণের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে নজরদারিতে রাখবে ইইওসি।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন