https://www.prothomalony.com/

18565

north-america

উত্তর আমেরিকা

কংগ্রেসের দুই কক্ষ হারিয়ে চাপে ট্রাম্প, কোন পথে যুক্তরাষ্ট্র?

ইরান যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষে ডেমোক্র্যাটদের জয়; প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, বাজেট নিয়ে অচলাবস্থা ও ২০২৮ সালের নির্বাচনের রাজনীতি সামনে

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ০৩:১২

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। হোয়াইট হাউস রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আইনসভার নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় এখন থেকে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে।

নির্বাচনের ফল শুধু আসনবিন্যাসের পরিবর্তন নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, ইরান যুদ্ধ, শুল্কনীতি এবং সামগ্রিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যগত শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাস, কানসাস ও সাউথ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য এবারের নির্বাচনের গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেক্সাসে প্রায় ৩৮ বছর পর সিনেট আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। কানসাসে মহামন্দার সময়ের পর প্রায় এক শতাব্দী ধরে সিনেট আসন জিততে পারেনি দলটি। এবার সেখানে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন। প্রতিনিধি পরিষদেও দুই ডজনের বেশি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান, রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

নির্বাচনের রায়ে ভোটারদের বার্তা কী?
মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের প্রথম দুই বছরের শাসনের মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত হয়। এবারের নির্বাচনেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরানো ভোটারদের একটি অংশ এবার রিপাবলিকানদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

নির্বাচনের আগে ও পরে প্রকাশিত জরিপ এবং সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম, শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধকে ভোটারদের অসন্তোষের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রয়টার্সের নির্বাচনি বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় অর্ধেক ভোটার মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। অন্যদিকে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভোটারদের অসন্তোষ শুধু একটি নির্দিষ্ট নীতিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এই ফলকে সব ভোটারের একই ধরনের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রকাশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অর্থনৈতিক উদ্বেগ, যুদ্ধবিরোধী মনোভাব, প্রশাসনের জবাবদিহি এবং স্থানীয় নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা—বিভিন্ন বিষয় সম্মিলিতভাবে ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে।

অর্থনীতি ও ইরান যুদ্ধ: রিপাবলিকানদের পরাজয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ কারণ
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, আবাসন ও দৈনন্দিন সেবার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা বললেও মূল্যবৃদ্ধির চাপ অনেক পরিবারের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি। আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ফলে ব্যবসায়িক ব্যয় ও ভোক্তামূল্য বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছাচ্ছে, সেই প্রশ্নও নির্বাচনি প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি অর্থনৈতিক চাপকে আরও বাড়িয়েছে। সামরিক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

নির্বাচনের পর ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও যুদ্ধকে নির্বাচনে পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংকেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন বৃদ্ধির বিষয়টি নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাম্প কী কী ক্ষমতার চ্যালেঞ্জে পড়বেন?
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুটি কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে এবারের নির্বাচনে ৩৫টি আসনে ভোট হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য অন্তত ২১৮টি আসন প্রয়োজন। সিনেটে সাধারণত ৫১টি আসন সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে। এই দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধা তৈরি করবে।

প্রথমত, নতুন কংগ্রেসের দায়িত্ব গ্রহণের পর ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব পাবেন। এসব কমিটির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, সরকারি ব্যয়ের হিসাব, অভিবাসন কার্যক্রম, শুল্কনীতি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করা সম্ভব হবে।

দ্বিতীয়ত, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে থাকায় মন্ত্রিসভার সদস্য, রাষ্ট্রদূত এবং ফেডারেল বিচারকদের নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন বাধার মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টে কোনো বিচারপতির পদ শূন্য হলে নতুন বিচারপতি নিয়োগে রাজনৈতিক দর-কষাকষি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তৃতীয়ত, বাজেট ও সরকারি ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে রিপাবলিকান প্রশাসনকে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা, ঋণসীমা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থায়ন কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এসব বিষয়ে মতবিরোধ হলে সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তদন্ত ও অভিশংসনের আলোচনা কি সামনে আসছে?
নির্বাচনের পর সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কংগ্রেসীয় তদন্ত।

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে পারবেন। সরকারি নথিপত্র চাওয়া, কর্মকর্তাদের তলব এবং প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করার সুযোগও তাদের থাকবে।

অভিবাসননীতি, সরকারি অর্থের ব্যবহার, শুল্ক আরোপ, ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্ত এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়ে তদন্তের দাবি উঠতে পারে।

এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপনের সাংবিধানিক সুযোগও ডেমোক্র্যাটদের সামনে রয়েছে। তবে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হওয়া এবং প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে অপসারণ করা এক বিষয় নয়।

প্রতিনিধি পরিষদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অভিশংসন প্রস্তাব পাস হতে পারে। এরপর সিনেটে বিচার অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করে পদচ্যুত করতে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই সমর্থন অর্জন সহজ নয়।

তাই কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তের সুযোগ বাড়ালেও এর অর্থ এই নয় যে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রেসিডেন্ট পদ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টশাসিত ব্যবস্থায় কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগ করতে হয় না। এ ক্ষেত্রে আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই মূল বিষয়।


ট্রাম্পের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র—ভেটো ও নির্বাহী ক্ষমতা
কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ট্রাম্পের হাতে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রেসিডেন্টের ভেটো।

ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে কোনো বিল পাস করলেও ট্রাম্প সেটিতে ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো অগ্রাহ্য করে বিল আইনে পরিণত করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভেটো’ লেখা একটি টুপির ছবি প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে বিরোধী দলের আইনগত উদ্যোগের বিরুদ্ধে নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা, নির্বাহী আদেশ জারি এবং সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তার দায়িত্ব বহাল থাকবে। ফলে কংগ্রেসে বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন সব ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে না।

রয়টার্সের নির্বাচনের আগের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছিল, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো ও নির্বাহী ক্ষমতা বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে থাকবে।


ইরান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে কী প্রভাব পড়তে পারে?
নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সামরিক অভিযানের ব্যয়, যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ এবং প্রশাসনের সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নজরদারি বাড়তে পারে।

তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের ফলে যুদ্ধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, এমন ধারণার ভিত্তি নেই। প্রেসিডেন্টের সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে। ফলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কিংবা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

রয়টার্সের আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলের পর যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও প্রতিপক্ষ দেশগুলো ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি সরকারের ধারণা, যুদ্ধের কারণে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়ায় ট্রাম্পের জন্য কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা বাড়তে পারে। তবে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।


রিপাবলিকান পার্টির নেতৃত্বেও কি পরিবর্তনের চাপ তৈরি হবে?
নির্বাচনের এই ফল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর নির্ভর করে অনেক রিপাবলিকান প্রার্থী নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছেন। কিন্তু তার সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে পরাজয় দলের নির্বাচনি কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিশেষ করে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ দলের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা বাড়তে পারে।

তবে নির্বাচনে পরাজয় মানেই ট্রাম্পের দলীয় প্রভাব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। রিপাবলিকান পার্টিতে তার সমর্থক ও প্রভাব এখনো গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনগুলোতে দলের নেতারা পরাজয়ের কারণ হিসেবে অর্থনীতি, যুদ্ধ, প্রার্থী নির্বাচন নাকি ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলকে বেশি গুরুত্ব দেন, তার ওপর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সমীকরণ নির্ভর করবে।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগাম বার্তা?
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। তবে এটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে নির্বাচনে পাওয়া জনসমর্থন ধরে রাখা। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং প্রশাসনের জবাবদিহির বিষয়ে তারা কী ধরনের বাস্তব পদক্ষেপ নিতে পারে, তা আগামী দুই বছরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে রিপাবলিকানদের সামনে রয়েছে নির্বাচনি কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রশ্ন। ট্রাম্পের নীতির প্রতি সমর্থন ধরে রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে দলটিকে।

এবারের নির্বাচনে টেক্সাস ও কানসাসের মতো রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত রাজনৈতিক মানচিত্র নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস, নাকি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি সাময়িক অসন্তোষের প্রতিফলন—তা বোঝার জন্য আরও সময় প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রে বিভক্ত শাসনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। আগামী দুই বছর ট্রাম্পকে একদিকে নিজের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে, অন্যদিকে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে সমঝোতা ও বিরোধিতা—দুই পরিস্থিতিই মোকাবিলা করতে হবে।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদেরও প্রমাণ করতে হবে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর তারা শুধু বিরোধিতা ও তদন্তেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং ভোটারদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রত্যাশা পূরণেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের আগামী দুই বছরের রাজনীতির মূল প্রশ্ন তাই শুধু ট্রাম্প কতটা চাপে থাকবেন, তা নয়; বরং দুই দলের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও শাসনব্যবস্থা কোন দিকে এগোয়।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন