https://www.prothomalony.com/

18563

north-america

উত্তর আমেরিকা

মিশিগান সিনেট নির্বাচনের দুই দিন আগে দলীয় প্রার্থীকে ছেড়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন হ্যালি স্টিভেন্সের

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ০২:০৭

মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে দলীয় প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের সাবেক সিনেট প্রার্থী হ্যালি স্টিভেন্স। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মিশিগানের ডেমোক্র্যাট শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ডেট্রয়েটে একটি গির্জায় আয়োজিত প্রার্থনা সভায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে অংশ নেওয়ার পর তাঁর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন স্টিভেন্স। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে তিনি মাইক রজার্সকে সমর্থন করছেন। নির্বাচনের একেবারে শেষ মুহূর্তে তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তন মিশিগানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ডেমোক্র্যাট দলের প্রাথমিক নির্বাচনে আব্দুল এল-সায়েদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন হ্যালি স্টিভেন্স। এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন জানানোর বিষয়টি তাই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

স্টিভেন্স তাঁর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় রাজনৈতিক স্ট্রিমার হাসান পাইকারের প্রসঙ্গও তুলেছেন। এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচারণার বিভিন্ন আয়োজনে হাসান পাইকারের উপস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের পাশে দাঁড়াতে হবে, ঘৃণার পক্ষে থাকা যাবে না এবং হাসান পাইকারের পক্ষেও অবস্থান নেওয়া যায় না।

মূলত আব্দুল এল-সায়েদ ও কংগ্রেস সদস্য জিম ক্লাইবার্নের সঙ্গে একটি প্রার্থনা সভায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল স্টিভেন্সের। কিন্তু তিনি সেখানে উপস্থিত না হয়ে মাইক রজার্সের সঙ্গে গির্জায় আয়োজিত প্রার্থনা সভায় যোগ দেন এবং তাঁর প্রতি সমর্থন জানান। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে স্টিভেন্স বলেন, আব্দুল এল-সায়েদ কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং তাঁর সেই প্রচেষ্টাকে তিনি খাটো করতে চান না। তবে নিজের বর্তমান অবস্থান ও মনের প্রকৃত অনুভূতি সম্পর্কে সৎ থাকতে চান।

স্টিভেন্সের সমর্থন পেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। তিনি বলেন, স্টিভেন্সের কাছ থেকে এমন সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশা তাঁর ছিল না। তাঁর মতে, এটি শুধু নির্বাচনী রাজনীতির বিষয় নয়, বরং ঘৃণার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং মিশিগান ও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বার্তা। রজার্স আরও জানান, তাঁদের কথোপকথনের শেষে স্টিভেন্স তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এখনো একজন ডেমোক্র্যাট।

অন্যদিকে, স্টিভেন্সের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন আব্দুল এল-সায়েদ। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, হ্যালি স্টিভেন্সের বিষয়টি নিয়ে ভাবার চেয়ে তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ সেই বিপুলসংখ্যক মানুষ, যাঁরা এই দুই প্রার্থীর কেউ নন। রাজনৈতিক কূটকৌশলের চেয়ে নীতিগত বিষয়গুলোর প্রতিই তাঁর আগ্রহ বেশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে স্টিভেন্সের অবস্থান পরিবর্তনে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মারিও মরো। তিনি এর আগে স্টিভেন্সের সিনেট প্রাথমিক নির্বাচনের প্রচারণায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন। মরোর মতে, এল-সায়েদকে সমর্থনকারী ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি সহানুভূতিও রয়েছে। এই সহানুভূতির বড় একটি অংশ ইহুদি আমেরিকানদের কাছ থেকে আসছে বলেও তিনি মনে করেন।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ জেসন ক্যাবেল রো স্টিভেন্সের সমর্থনকে রাজনৈতিক ভূমিকম্পের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত কিছু ভোটারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ ৪৮ ঘণ্টায় এল-সায়েদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই বিতর্কের কারণে যেন তাঁর মূল নির্বাচনী বার্তা আড়ালে চলে না যায়।

মিশিগান রিপাবলিকান পার্টির মুখপাত্র গ্রেগ ম্যানজ স্টিভেন্সের সিদ্ধান্তকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে স্টিভেন্স এল-সায়েদকে অন্যদের তুলনায় ভালোভাবে চেনেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মাইক রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত আরও তাৎপর্যপূর্ণ।

অন্যদিকে, মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হারটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্টিভেন্সের অবস্থানের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসওম্যান স্টিভেন্স বর্তমানে মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য নন এবং ভবিষ্যতেও তিনি এই দলের সদস্য হবেন না।

নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে হ্যালি স্টিভেন্সের এই অবস্থান পরিবর্তন মিশিগানের সিনেট লড়াইয়ে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত একজন ডেমোক্র্যাট নেত্রীর প্রকাশ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন জানানোর ঘটনা নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে দুই দলের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন