https://www.prothomalony.com/
18562
north-america
দেশে যখন গান, যাত্রা, নাটকসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রকাশমাধ্যমের চর্চা নানা বাধার মুখে পড়ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৮৫১ মাইল দূরের যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বাংলা কবিতার এক ব্যতিক্রমী আসর বসেছে। টানা তিন ঘণ্টা ধরে কবিতা শুনেছেন মিলনায়তনভর্তি দর্শক-শ্রোতা। প্রবাসের মাটিতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি এমন ভালোবাসার প্রকাশ উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেছে।
গত ১ নভেম্বর (রোববার) বিকেলে মিশিগানের ফার্মিংটন হিলস শহরের হাক কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় আবৃত্তিশিল্পী সাইফুল আজম সিদ্দিকীর একক কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান ‘মনের গহীনে বাংলা’। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর শুরু হয় কবিতার পরিবেশনা। একের পর এক কবিতার আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
অনুষ্ঠানে সাইফুল আজম সিদ্দিকী বাংলাদেশ ও কলকাতার খ্যাতিমান কবিদের কবিতা আবৃত্তি করেন। তাঁর পরিবেশনায় উঠে আসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সৈয়দ শামসুল হক, হেলাল হাফিজ, শুভ দাশগুপ্ত, নাজমুল আনোয়ার, মহাদেব সাহা, নির্মলেন্দু গুণ, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবু জাফর ওবায়দুল্লাহসহ দুই বাংলার বহু কবির সৃষ্টি। কবিতার বিষয়বৈচিত্র্য ও আবেগঘন পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে আবৃত্তি উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা।
সাইফুল আজম সিদ্দিকীর একক আবৃত্তি পর্ব শেষে মিশিগানে বসবাসরত আবৃত্তিশিল্পীরা কবিতা পরিবেশন করেন। পাশাপাশি ছিল গান ও নৃত্য পরিবেশনা। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
(5).png)
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, আবৃত্তিশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিকসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অনুরাগীরা। কবিতার প্রতি ভালোবাসা থেকে বিভিন্ন বয়সী মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির চর্চার একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কবি মিলটন বড়ুয়া বলেন, মিশিগানে কবিতাকে ঘিরে এমন আয়োজন সবার হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে গেছে। গোছানো ও সুন্দর আয়োজনের পাশাপাশি হলরুমের বাইরে বিভিন্ন বইয়ের প্রচ্ছদ দিয়ে সাজানো প্রদর্শনী ছিল ব্যতিক্রমী, যা সবার দৃষ্টি কেড়েছে।
আয়োজনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবৃত্তিশিল্পী সাইফুল আজম সিদ্দিকী বলেন, “একজন সাংস্কৃতিক আয়োজকের কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! ‘মনের গহীনে বাংলা’ আমার কাছে ঠিক তেমনি এক আবেগ, ভালোবাসা ও পরম তৃপ্তির নাম।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রত্যেক অতিথি, দর্শক, কবি, সাহিত্যিক, আবৃত্তিশিল্পী, সাংবাদিক ও বাংলা ভাষাপ্রেমী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
প্রবাসের হাজারো মাইল দূরত্ব পেরিয়েও বাংলা কবিতার প্রতি মানুষের এমন গভীর অনুরাগ ‘মনের গহীনে বাংলা’ আয়োজনকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। তিন ঘণ্টার এই কবিতার আসর যেন আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, ভাষা ও সংস্কৃতির শিকড় ভৌগোলিক দূরত্বে বিচ্ছিন্ন হয় না।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন