https://www.prothomalony.com/

18561

north-america

উত্তর আমেরিকা

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যে সভা

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ০১:৪৯

বাংলাদেশের পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন নিয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাঁর বাড়িরসামনে বিক্ষোভের ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদ সভা করেছেন।

১ নভেম্বর পূর্ব লন্ডনের ক্যাফে গ্রিল রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ সভায় বক্তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাঁর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে শেষ বিদায়ের পথে বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান খান। সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন। সভার শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ ছাড়া সদ্যপ্রয়াত তিন বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ মোস্তফা উদ্দিন, সাঈদা কামাল (টুলু) ও মির্জা জামাল পাশাসহ প্রয়াত সব মুক্তিযোদ্ধার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান, ইঞ্জিনিয়ার মিফতাউল
ইসলাম, আবদুল মান্নান, সাদ উদ্দিন, মো. আমির খান, আলা উদ্দিন, সৈয়দ গোলাম
আলী, আফতাব উদ্দিন নাসির, ড. আব্দুল মুবিন, আব্দুর রহমান, দেওয়ান গৌস
সুলতান, হুমায়ুন কবির ও কবির আহমদ।

বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাস, আত্মপরিচয় ও গৌরবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, শহীদদের আত্মত্যাগ
এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। সেই স্বাধীন দেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদাপূর্ণ বিদায় ও দাফনে বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

তাঁরা আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের সম্পদ নন; তাঁরা পুরো জাতির গর্ব ও অহংকার। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে কোনো মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় সম্মান, মানবিক অধিকার ও ধর্মীয়
মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার সুযোগ নেই। মৃত্যুর পর একজন মানুষের সম্মানজনক দাফন
নিশ্চিত করা সামাজিক, মানবিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।

বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো বিশেষ দলের রাজনীতি করেন না। তবে বঙ্গবন্ধু ও জয়বাংলার প্রশ্নে কোনো আপস নেই। বঙ্গবন্ধু, জয়বাংলা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পরস্পরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এই ইতিহাস অস্বীকার করার অর্থ বাংলাদেশের জন্ম ও স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাস অস্বীকার করা।

সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু ও
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের
চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে যেন
এ ধরনের অসম্মানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য রাষ্ট্রীয়
উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা করা মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গৌরবময় ইতিহাসকে সম্মান করা। যে জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যথাযথ মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়, সে জাতিকে ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হয়।

সভা থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মানিক পশারীর প্রতি অবমাননাকর আচরণের তীব্র নিন্দা জানান। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ন
রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন