https://www.prothomalony.com/
18560
north-america
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ০১:৪৬
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯২৬ সালের ইউরোপ ভ্রমণের শতবর্ষ উপলক্ষে
লন্ডনে পরিবেশিত হয়েছে বিশেষ গীতি-আলেখ্য ‘গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে’।
রবিবার কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিন্টার স্টুডিওতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের
আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন গীতবীণা, স্বাধীনতা ট্রাস্ট ও কুইন মেরি
বিশ্ববিদ্যালয়। রবীন্দ্রনাথের ইউরোপ সফরকালে রচিত গান, সেই সময়ের
অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতার নানা দিক উঠে আসে এ আয়োজনে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন গীতবীণার প্রধান উপদেষ্টা বাতিরুল হক
সরদার। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন স্বাধীনতা ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ও কুইন
মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যালেস্টার ওয়েনস। অনুষ্ঠানটি বাংলা ও
ইংরেজিতে উপস্থাপনা করেন সুনীতা চৌধুরী ও রুমী হক। মূল সাংস্কৃতিক পর্বের
শুরুতে স্বাধীনতা ট্রাস্টের সহসভাপতি ভ্যালেন্টাইন হার্ডিং রবীন্দ্রনাথের
রচনা থেকে পাঠ করেন।
গীতবীণার বিশেষ নিবেদন ‘গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে’ গীতি-আলেখ্যের শুরুতে
ড. শ্যামল চৌধুরী গীতবীণার একান্ত শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরীর আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি প্রয়াত ব্যক্তির আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং গীতবীণার প্রতি তাঁর
অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রবীন্দ্র-গবেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব পীতম সেনগুপ্তের ধারাবর্ণনা এবং গীতবীণার সদস্য রুমী হকের ইংরেজি অনুবাদ পাঠের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় গীতি-আলেখ্যটি। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথের ইউরোপ ভ্রমণকালে রচিত বেশ কয়েকটি গান। সমবেত ও দ্বৈত কণ্ঠের পরিবেশনায় অংশ নেন রুমী হক, মিতালী বনোয়ারি ও সুনীতা চৌধুরী। রবীন্দ্রসংগীতভিত্তিক নির্বাচিত রাগাংশ পরিবেশন করেন স্বাধীনতা ট্রাস্টের সদস্য বুধাদিত্য ভট্টাচার্য। সব গানে তবলা সংগত করেন সন্দীপ চক্রবর্তী। শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও আলোক প্রক্ষেপণের দায়িত্বে ছিলেন কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলস।
গীতি-আলেখ্যটির মূল ভাবনা, গবেষণা ও ধারাবর্ণনায় ছিলেন ভারতের বিশিষ্ট
রবীন্দ্র-গবেষক, লেখক ও প্রাবন্ধিক পীতম সেনগুপ্ত। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯২৬ সালের ইউরোপ সফরে রবীন্দ্রনাথ যে বিপুলসংখ্যক গান রচনা করেছিলেন, তাঁর অন্য কোনো বিদেশ সফরে তেমনটি দেখা যায়নি।
তিনি জানান, ১৯২৬ সালের ১২ মে শান্তিনিকেতন থেকে সপরিবারে নবমবারের মতো বিদেশ সফরে যাত্রা করেন রবীন্দ্রনাথ। তখন তাঁর বয়স ৬৫ বছর। সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে কবি ইতালি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, জার্মানি, চেকোস্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি,
ক্রোয়েশিয়া, যুগোস্লাভিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া ও গ্রিসসহ ইউরোপের
বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন।
(11).png)
এই দীর্ঘ সফর রবীন্দ্রনাথের জীবনে শুধু ভৌগোলিক অভিজ্ঞতার বিস্তার ঘটায়নি,
তাঁর সৃজনশীল জীবনেও রেখেছিল বিশেষ প্রভাব। সফরকালে রচিত গানগুলোর মধ্য
দিয়ে কবির অনুভব, অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতার পরিচয় তুলে ধরাই ছিল
গীতি-আলেখ্যটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে স্বাধীনতা ট্রাস্টের পরিচালক ড. আনসার আহমেদ উল্লাহ আয়োজক, শিল্পী, কলাকুশলী, সাংবাদিক ও দর্শকদের ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনের পেছনে সবার সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গীতবীণার পক্ষ থেকে স্বাধীনতা ট্রাস্টের সভাপতি জামিল
ইকবাল, সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক ড. শ্যামল চৌধুরী এবং পীতম সেনগুপ্তকে বিশেষ
সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠান আয়োজন ও মিলনায়তন ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন সাদেক আহমেদ চৌধুরী, মৃন্ময় রায় চৌধুরী, মোজাম্মেল হোসেন ও আফরিন।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন