https://www.prothomalony.com/

18544

north-america

উত্তর আমেরিকা

অবৈধ ভোটদানের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে আইস

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০১:২৩

যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে আরও কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়েছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সারা দেশে ভোটার জালিয়াতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আইস-এর তথ্য অনুযায়ী, নতুন মামলাগুলোয় যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল, রাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে কেউ বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী), কেউ আবার অবৈধভাবে অবস্থান করছেন।

ব্রেইটবার্ট নিউজের বরাতে জানা যায়, মেক্সিকোর নাগরিক ও গ্রিন কার্ডধারী জেসাস লোপেজের বিরুদ্ধে ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজ্য, প্রাইমারি ও পৌর নির্বাচনসহ মোট ১৫টি নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

হাইতির নাগরিক সিরেনা প্রসপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তিনি আগে দুবার ঘরে ঢুকে চুরির (বার্গলারি) মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। এ ছাড়া চুরি এবং কর্মকর্তাকে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।

এল সালভাদরের নাগরিক হোসে দিয়াজ গুয়ান্দিকের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অক্টোবরে তাঁকে আটক করা হয়। মেক্সিকোর আলবার্তো রুইজ রুইজকেও অক্টোবরে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি অবৈধভাবে অবস্থান করে ২০২৪ সালে ভোট দিয়েছেন।

কয়েকটি মামলা মিনেসোটা রাজ্যকেন্দ্রিক। ফেডারেল তদন্তকারীরা সেখানকার ভোটার তালিকা সংগ্রহ করে এমন কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের সন্ধান পেয়েছেন, যাঁরা নাগরিকত্ব না থাকা সত্ত্বেও ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ।

সোমালি নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা শেখনুর আবদো ২০২০ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে সশরীরে ভোট দিয়েছেন বলে মিনেসোটার সেক্রেটারি অব স্টেটের নথিতে উঠে এসেছে।

লিথুয়ানিয়ার নাগরিক ও গ্রিন কার্ডধারী এদভিলে এডমন্ডস ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে নথিতে ইঙ্গিত মেলায় আগস্টে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের এজেন্টদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রথমে তিনি ভোট দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন।

জার্মান নাগরিক পল ক্রাস সেপ্টেম্বরে গ্রেপ্তার হন। মিনেসোটার নির্বাচনী নথি অনুযায়ী, নাগরিক না হয়েও তিনি ২০২০ ও ২০২৪, দুই নির্বাচনেই ভোট দিয়েছেন।

মেক্সিকোর নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা মনিকা কারজোলি ক্যারিয়ো ২০২৪ সালে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এ ছাড়া গুয়াতেমালা, কেনিয়া, কানাডা, ভেনেজুয়েলা, জ্যামাইকা ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর নাগরিকদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

আইসি-এর জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মাইকা বক এক বিবৃতিতে বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের নির্বাচনী জালিয়াতির ব্যাপকতা প্রত্যেক আমেরিকানের উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, প্রতিটি অবৈধ ভোট একজন মার্কিন নাগরিকের ভোটকে বাতিল করে দেয়। যাঁরা অবৈধভাবে ভোট দিয়েছেন, আইনের সর্বোচ্চ ধারায় তাঁদের বিচার হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, আমেরিকার নির্বাচন কেবল আমেরিকার নাগরিকদের জন্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অভিযোগের অর্থ এই নয় যে শনাক্তকৃত প্রত্যেককে নির্বাচনী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) ও বিচার বিভাগের যৌথ অভিযানের লক্ষ্য হলো যেসব অনাগরিক অবৈধভাবে ভোটার নিবন্ধন করেছেন বা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা। রয়টার্স গত সপ্তাহে জানায়, অন্তত ১৩টি রাজ্যে ভোটার তথ্য চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ১০০টিরও বেশি সাবপিনা জারি করেছে। সন্দেহভাজন নির্বাচনী অনিয়ম তদন্তে শত শত ফেডারেল এজেন্টও মোতায়েন করা হয়েছে।

অক্টোবরে ক্যালিফোর্নিয়ায় রাজ্যব্যাপী এক অভিযানে অবৈধ ভোটার নিবন্ধন ও ভোটদানের সন্দেহে দুই ডজনেরও বেশি বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফেডারেল আইনে গ্রিন কার্ডধারীসহ সাধারণভাবে কোনো অনাগরিকেরই ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অনাগরিকদের ভোটদানের ঘটনা বিরল।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন