https://www.prothomalony.com/
18543
north-america
শরৎ এসেছে। অর্থাৎ নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়। আর সেই পদক্ষেপটি হলো টিকা নেওয়া।
আমাদের অনেকের কাছে কোভিড-১৯, ফ্লু কিংবা আরএসভি (রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাস) আক্রান্ত হওয়ার অর্থ হলো জ্বর, ক্লান্তি ও শরীরব্যথায় কাবু হয়ে এক সপ্তাহের দুর্ভোগ। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে এসব সংক্রমণের পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির অন্যতম প্রধান কারণ আরএসভি সংক্রমণ। অন্যদিকে, প্রতি বছর ফ্লু ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ফ্লুর মারাত্মক জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া প্রায়ই দেখা দেয়।
নিউইয়র্ক সিটির চিকিৎসক হিসেবে নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করাকে আমি নিজের দায়িত্ব বলে মনে করি। এ কারণে ছয় মাস বা তার বেশি বয়সী সবাইকে প্রতিবছর ফ্লুর টিকা নেওয়ার এবং অধিকাংশ নিউইয়র্কবাসীকে হালনাগাদ কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার জোরালো পরামর্শ দিচ্ছি।
বিশেষ করে ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী এবং আগে থেকেই শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন—এমন ব্যক্তিদের জন্য টিকা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে যাঁদের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি, যেমন স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত ব্যক্তি কিংবা দলবদ্ধ পরিবেশে কাজ বা বসবাস করেন, তাঁদেরও টিকা নেওয়া উচিত।
আরএসভি থেকে সুরক্ষার বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রত্যেকের এবং ৫০ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের মধ্যে যাঁদের গুরুতর আরএসভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, তাঁদের আগে না নেওয়া থাকলে একটি আরএসভি টিকা নেওয়া উচিত।
নবজাতককে জীবনের প্রথম আরএসভি মৌসুমে সুরক্ষিত রাখার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। গর্ভবতী মা আরএসভি টিকা নিতে পারেন। বিকল্প হিসেবে জন্মের পর শিশুকে সুরক্ষামূলক অ্যান্টিবডি দেওয়া যেতে পারে। কোন পদ্ধতিটি আপনার পরিবারের জন্য উপযুক্ত, তা জানতে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস সারা বছরই ছড়াতে পারে। তবে শরৎ ও শীতকালে এসব সংক্রমণের প্রকোপ সাধারণত বেড়ে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি দিলে, হাঁচি দিলে, কথা বললে কিংবা শ্বাস ছাড়লে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র জলকণার মাধ্যমে মূলত এসব ভাইরাস অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হয়।
৮৫ লাখ মানুষের এই শহরে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ একই লিফট, শ্রেণিকক্ষ কিংবা পাতালরেলের কামরায় চলাচল করেন। ফলে একজনের শরীর থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস অতি সহজেই অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে।
টিকা নেওয়ার নির্দেশনা কখনো কখনো বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। তাই এ বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের অবস্থান পরিষ্কার করে বলতে চাই।
গত মাসে নিউইয়র্ক সিটি ও নিউইয়র্ক স্টেটের স্বাস্থ্য বিভাগ শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসের টিকাদান বিষয়ে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের সুপারিশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এসব সুপারিশ তৈরি করেছে আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, আমেরিকান একাডেমি অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানস, আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস এবং ইনফেকশাস ডিজিজেস সোসাইটি অব আমেরিকা। এ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ও ভ্যাকসিন ইন্টিগ্রিটি প্রজেক্ট।
সুরক্ষিত থাকার ব্যবস্থা সহজ এবং সাশ্রয়ী। যাঁরা যোগ্য, তাঁরা একই দিনে কোভিড-১৯, ফ্লু ও আরএসভির টিকা নিতে পারেন। শহরজুড়ে শত শত স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র ও ওষুধের দোকানে এসব টিকা দেওয়া হচ্ছে।
আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। কাছাকাছি টিকাকেন্দ্র খুঁজে পেতে nyc.gov/healthmap ওয়েবসাইট দেখতে পারেন অথবা ৩১১ নম্বরে ফোন করতে পারেন। এসব টিকার খরচ মেডিকেয়ার, নিউইয়র্ক স্টেট মেডিকেইডসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনার আওতায় পড়ে। যাঁদের স্বাস্থ্যবিমা নেই, তাঁদের জন্যও বিনা মূল্যে টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
যাঁরা এখনো এ মৌসুমের টিকা নেননি, তাঁদের অধিকাংশেরই শরৎকালে কোভিড-১৯ ও ফ্লুর টিকা নেওয়া উচিত। থ্যাংকসগিভিং, ছুটির দিনের অনুষ্ঠান কিংবা বড় কোনো সামাজিক সমাবেশের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে টিকা নেওয়ার পরিকল্পনা করুন। কারণ, টিকা নেওয়ার পর শরীরে পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগে।
তবে শুধু টিকা নিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। দৈনন্দিন কিছু সতর্কতামূলক অভ্যাসও সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- অসুস্থ বোধ করলে ঘরে থাকুন।
- হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখুন।
- নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
- সম্ভব হলে ঘরের জানালা খুলে রাখুন। খোলা জায়গায় দেখা-সাক্ষাৎ ও মিলিত হওয়ার চেষ্টা করুন।
- গণপরিবহনের মতো জনাকীর্ণ স্থানে, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে কিংবা অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের সংস্পর্শ এড়ানো সম্ভব না হলে সঠিক মাপের এন৯৫, কেএন৯৫ অথবা কেএফ৯৪ মাস্ক ব্যবহার করুন।
শরীরে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে পরীক্ষা করান। কোভিড-১৯ ও ফ্লুর চিকিৎসা রয়েছে। সংক্রমণের শুরুতেই চিকিৎসা নিলে তা সবচেয়ে ভালো কাজ করে। চিকিৎসার প্রয়োজন হলে expresscare.nyc ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এনওয়াইসি হেলথ + হসপিটালসের ভার্চ্যুয়াল এক্সপ্রেসকেয়ার সেবা থেকে সহায়তা নিতে পারেন।
এখনই টিকা নেওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট করার উপযুক্ত সময়। পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা বয়স্ক প্রতিবেশীকেও সঙ্গে নিয়ে আসুন।
নিজের জন্য, সন্তানের জন্য, পরিবারের জন্য এবং এই শহরের প্রতিটি মানুষের সুরক্ষার জন্য টিকা নিন। কারণ নিউইয়র্ক শুধু আমাদের বসবাসের শহর নয়, এ শহর আমাদের সবার ঘর। এই ঘরকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখার দায়িত্বও আমাদের সবার।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন