https://www.prothomalony.com/
18522
north-america
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। ৩ নভেম্বরের ভোট সামনে রেখে আমেরিকার রাজনীতির আকাশে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম জাতীয় পরীক্ষায় রিপাবলিকানরা কি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন? নাকি হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার পাশে কংগ্রেসেও বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন ঘটবে?
এ মুহূর্তে জরিপ ও নির্বাচনী পূর্বাভাসের সামগ্রিক ছবি ডেমোক্র্যাটদের জন্য আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তাদের পক্ষে প্রবল। কিন্তু সিনেটের হিসাবটি অনেক বেশি জটিল। সেখানে হাওয়া ডেমোক্র্যাটদের দিকে বইলেও শেষ মুহূর্তে ফল কোন দিকে গড়াবে, তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।
নির্বাচনী পূর্বাভাস বিশ্লেষক নেট সিলভারের সিলভার বুলেটিন থেকে শুরু করে ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ, কালশি ও পলিমার্কেটের মতো পূর্বাভাসব্যবস্থাগুলো হাউসে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে রাখছে। তবে সিনেটের ক্ষেত্রে তাদের হিসাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান এতটাই কম যে জরিপের স্বাভাবিক ত্রুটিও চূড়ান্ত ফল পাল্টে দিতে পারে।
অর্থাৎ, রাজনৈতিক বাতাসের দিক বোঝা যাচ্ছে, কিন্তু সেই বাতাস শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
নির্বাচনী লড়াইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি রাজ্যেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেশি তীব্র। মিশিগান ও টেক্সাসের সিনেট নির্বাচন সেই বাস্তবতার দুটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদ এবং রিপাবলিকান মাইক রজার্সের লড়াইয়ে এল-সাইদকে এগিয়ে রাখছে একাধিক জরিপ। তবে ব্যবধান নিয়ে জরিপগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর এগিয়ে থাকার ব্যবধান কখনো সামান্য, কখনো তুলনামূলক বড় দেখা যাচ্ছে। ফলে একটি জরিপের ফলকে সামগ্রিক জনমতের চূড়ান্ত প্রতিফলন বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
মিশিগানের নির্বাচনী গুরুত্ব শুধু সিনেটের একটি আসন নিয়ে নয়। এখানে ভোটারদের মনোভাব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন-অসন্তোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকও। ট্রাম্প প্রশাসনের কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষ যদি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোটে রূপ নেয়, তাহলে এই রাজ্যের ফল সিনেটের সামগ্রিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
গভর্নর নির্বাচনের লড়াইটিও তাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সিনেটের প্রার্থীর অবস্থান আর গভর্নর প্রার্থীর অবস্থানকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। একই রাজ্যে ভোটাররা ভিন্ন পদের জন্য ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আরও বিস্ময়কর পরিস্থিতি টেক্সাসে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যটি রিপাবলিকানদের নির্ভরযোগ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এবার সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো ও রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের লড়াই জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে তালারিকোকে সামান্য এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। আবার ফক্স নিউজ ও এমারসনের মতো প্রতিষ্ঠানের জরিপে ব্যবধান খুবই কম, কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায় সমানে-সমান। অর্থাৎ, টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার খবর যতটা আলোড়ন সৃষ্টি করছে, ততটাই সতর্কতার সঙ্গে ফলটি বিবেচনা করা দরকার।
টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য সাফল্য শুধু একটি সিনেট আসন জয়ের বিষয় হবে না। রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের মধ্যে এমন ফল পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিতে পারে। তবে সেই পরিবর্তন ঘটেছে বলে ঘোষণা করার সময় এখনো আসেনি। শেষ পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি, স্বতন্ত্র ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনের শেষ পর্যায়ের প্রচারণাই ব্যবধান নির্ধারণ করতে পারে।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে রয়েছে আসনসংখ্যার হিসাব। রিপাবলিকানদের হাতে বর্তমানে ৫৩টি আসন এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হলে অন্তত চারটি আসন বাড়াতে হবে।
এই লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে একাধিক কঠিন লড়াই। মেইনে সুসান কলিন্সের বিরুদ্ধে ট্রয় জ্যাকসন, ওহাইওতে শেরড ব্রাউনের লড়াই, আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মিশিগান ও টেক্সাসের প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সব মিলিয়ে কয়েকটি রাজ্যের ফলই সিনেটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
এই আসনগুলোর প্রতিটিতে স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা আলাদা। কোথাও প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ, কোথাও অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বড় বিষয়, আবার কোথাও প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা সরাসরি নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
এ কারণেই সিনেটের নির্বাচনকে শুধু জাতীয় জনমতের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাবে না। একটি রাজ্যে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকলেও অন্য রাজ্যে রিপাবলিকানরা প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করতে পারেন। আবার জাতীয়ভাবে ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে থাকা হাওয়া সব রাজ্যে সমানভাবে কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।
মেইন, ওহাইও, টেক্সাস ও আলাস্কার মতো রাজ্যে সামান্য ব্যবধানও বড় রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করতে পারে। আইওয়া ও কানসাসের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তাই গুরুত্ব হারাচ্ছে না। এসব রাজ্যে ভোটের ফল একত্রে হিসাব না করে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।
নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থন। বিভিন্ন জরিপে তাঁর কাজের প্রতি অসন্তোষের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
তবে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা কমলেই তাঁর দলের সব প্রার্থী নির্বাচনে পরাজিত হবেন, এমন সরল সমীকরণ আমেরিকার রাজনীতিতে সব সময় কার্যকর হয় না। স্থানীয় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাস, ভোটারদের উপস্থিতি এবং প্রতিপক্ষের প্রচারণাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তারপরও অর্থনীতির প্রশ্নটি এ নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, জ্বালানি ব্যয়, আবাসন খরচ এবং পরিবারের দৈনন্দিন বাজেটের ওপর চাপ—এসব বিষয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় রাজনীতিতে বড় বড় বক্তব্য যতই গুরুত্ব পাক, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় একজন ভোটার তাঁর নিজের সংসারের হিসাবও মাথায় রাখেন।
ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনীতি পরিচালনায় কেমন করছে, সে প্রশ্নের উত্তর ভোটাররা কীভাবে দিচ্ছেন, তা রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক অসন্তোষ যদি ব্যাপকভাবে বিরোধী দলের পক্ষে ভোটে পরিণত হয়, তাহলে তার প্রভাব শুধু কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
তবে অর্থনীতির মূল্যায়নও একরৈখিক নয়। কেউ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়কে অগ্রাধিকার দেন, কেউ কর্মসংস্থান, করনীতি বা বিনিয়োগের পরিবেশকে। তাই অর্থনৈতিক অসন্তোষের রাজনৈতিক পরিণতি বুঝতে হলে ভোটারদের বিভিন্ন শ্রেণি ও অঞ্চলের অবস্থান আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
অর্থনীতির পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতি ও যুদ্ধের প্রশ্নও নির্বাচনী আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে। ইরানকে ঘিরে সংঘাত, হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে এসে পড়লে তার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, আর তার প্রভাব পণ্য সরবরাহ ও দৈনন্দিন খরচেও পড়তে পারে। ফলে বিদেশের যুদ্ধ কখনো কখনো ঘরের রান্নাঘরের হিসাবের অংশ হয়ে ওঠে।
রিপাবলিকানদের জন্য সমস্যা হলো, এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের কাছে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি যুদ্ধের সম্ভাব্য ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।
তবে যুদ্ধের প্রভাব নির্বাচনে কতটা পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। ভোটারদের কাছে অর্থনীতি, অভিবাসন, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিষয়ের গুরুত্বও কম নয়। কোন বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ভোটের সিদ্ধান্তে প্রাধান্য পাবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের নিজস্ব অগ্রাধিকারের ওপর।
নির্বাচনী পূর্বাভাসে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকলেও রিপাবলিকানদের সম্ভাবনাকে একেবারে বাতিল করে দেওয়ার কারণ নেই।
রিপাবলিকান নেতাদের যুক্তি, জাতীয় জরিপের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচনী বাস্তবতা অনেক সময় আলাদা ফল তৈরি করে। মিশিগান বা মেইনের মতো রাজ্যে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, স্বতন্ত্র ভোটারদের সমর্থন এবং নির্বাচনের দিন নিজ নিজ দলের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রিপাবলিকানদের জন্য আরেকটি বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো তাঁদের দলের বড় একটি ভোটারগোষ্ঠীকে সক্রিয় করতে পারেন। তাঁর নীতির বিরোধিতা যেমন কিছু ভোটারকে ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঠেলে দিতে পারে, তেমনি তাঁর প্রতি সমর্থনও রিপাবলিকান ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে পারে।
এ ছাড়া জরিপের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নমুনা নির্বাচন, ভোটার উপস্থিতির অনুমান, অনিশ্চিত ভোটারদের আচরণ এবং নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন—সবকিছুই পূর্বাভাসের নির্ভুলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। অতীতের নির্বাচনে জরিপ ও বাস্তব ফলের মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে বলেই এবারও একই ঘটনা ঘটবে, এমন সিদ্ধান্ত টানা যাবে না। তবে সেই সম্ভাবনাকে একেবারে উপেক্ষা করাও যুক্তিসংগত নয়। অর্থাৎ, ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে থাকা পূর্বাভাসকে সম্ভাবনার হিসাব হিসেবে পড়তে হবে, নিশ্চিত ফল হিসেবে নয়।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে হাউস ও সিনেটের চিত্র এক নয়। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে বিভিন্ন পূর্বাভাসে ইঙ্গিত রয়েছে। সিনেটে পরিস্থিতি অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। হাউসে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়তে পারে। বাজেট, আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্নে হোয়াইট হাউসকে আরও কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।
সিনেটেও যদি ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন, তাহলে পরিস্থিতি আরও বদলে যাবে। গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ, আইন প্রণয়ন এবং কংগ্রেসের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে দুই দলের ক্ষমতার ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারিত হবে। তবে নির্বাচনের আগে পূর্বাভাসের সংখ্যাকে চূড়ান্ত ফলের বিকল্প ভাবা ঠিক হবে না। কোনো মডেল ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ বললে তার অর্থ এই নয় যে জয় নিশ্চিত। বরং ওই মডেলের হিসাব অনুযায়ী অনিশ্চয়তারও একটি অংশ রয়ে গেছে।
আমার মূল্যায়নে, হাউসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সিনেটের ক্ষেত্রে তাদের সামনে সুযোগ আছে, কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্যে প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে হবে। মিশিগান ও টেক্সাসের মতো রাজ্যে সামান্য ব্যবধান, আর মেইন, ওহাইও, আলাস্কা, আইওয়া ও কানসাসের ফল—সব মিলিয়েই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।
শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচন শুধু হাউস ও সিনেটের আসনসংখ্যার লড়াই নয়। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, অর্থনীতি পরিচালনা এবং ক্ষমতার ব্যবহারের বিষয়ে ভোটারদের মনোভাব বোঝারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তবে ভোটাররা ঠিক কী বার্তা দিতে চাইছেন, তা নির্বাচনের আগেই নিশ্চিত করে বলা যায় না। কেউ হয়তো প্রেসিডেন্টের কাজের জবাব দিতে চান, কেউ অর্থনৈতিক চাপ থেকে মুক্তির প্রত্যাশা করছেন, কেউ আবার স্থানীয় প্রার্থীর অবস্থান ও যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। একই ব্যালটে এসব বিবেচনা একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন তাই ক্ষমতাসীন দলের জন্য যেমন জবাবদিহির পরীক্ষা, তেমনি বিরোধী দলের জন্যও নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ। প্রশ্ন হলো, ভোটাররা কি সত্যিই একজন প্রেসিডেন্টের জবাবদিহি চাইছেন, নাকি তাঁদের পকেটের ক্ষত, বাড়তে থাকা ব্যয় আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের হিসাব মেলাতে চাইছেন? নাকি এই দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্যই তাঁরা আর দেখছেন না?
আর যে রাজনীতিতে এক নির্বাচনে এক পক্ষের দিকে হাওয়া বইলে অন্য পক্ষ পরবর্তী নির্বাচনের অপেক্ষায় দিন গোনে, সেখানে এই জয় কিংবা পরাজয়ের স্থায়িত্বই বা কতটুকু? আজকের বিজয় কি আগামী দিনের নতুন সংকটের সূচনা, নাকি পরাজিত পক্ষের জন্য প্রত্যাবর্তনের আরেকটি সিঁড়ি?
৩ নভেম্বরের ভোটের ফল এসব প্রশ্নের সব উত্তর দেবে না। তবে আমেরিকার রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায় কোন পথে এগোবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত অবশ্যই দেবে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন