https://www.prothomalony.com/

18523

opinion

অভিমত

মধ্যবর্তী নির্বাচনে বদলে যেতে পারে আমেরিকার রাজনৈতিক সমীকরণ

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৫৭

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ সামনে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রায় দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই এই নির্বাচন তাঁর প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে আগামী দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এবং ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি কতটা স্বাধীনভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবেন। জীবনযাত্রার উচ্চব্যয়, ইরান যুদ্ধ, কঠোর অভিবাসননীতি এবং ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্কের কারণে এবারের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বিশ্বরাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
 
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী প্রতি দুই বছর অন্তর প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়। এবার সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩ এবং ডেমোক্র্যাট ও তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র সদস্যদের ৪৭টি আসন রয়েছে। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি অতিরিক্ত আসন জিততে হবে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। প্রেসিডেন্টের নাম ব্যালটে না থাকলেও তাঁর প্রশাসনের জনপ্রিয়তা ও নীতিই নির্বাচনের প্রধান আলোচ্য বিষয়।
 
নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে ৩২ শতাংশে। নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৩৬ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সম্ভাব্য পছন্দ বিবেচনায় ব্যবধান দাঁড়ায় ৫০ বনাম ৪১ শতাংশ। সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা ৫৩ বনাম ৪৪ শতাংশে এগিয়ে।
 
কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের ২৩ অক্টোবরের মূল্যায়নেও ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে প্রতিনিধি পরিষদের ২২০টি আসনে ডেমোক্র্যাট এবং ১৯৮টি আসনে রিপাবলিকানরা এগিয়ে রয়েছেন। বাকি ১৭টি আসন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। পূর্বাভাস অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটরা ১২ থেকে ২২টি অতিরিক্ত আসন পেতে পারেন। এমন ফল হলে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ তাঁদের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এগুলো পূর্বাভাস, নিশ্চিত ফলাফল নয়। শেষ মুহূর্তের প্রচারণা ও ভোটার উপস্থিতি নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে পারে।
 
সিনেটের লড়াই আরও জটিল। টেক্সাস, ওহাইও, আইওয়া, মেইন, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র। কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের ২১ অক্টোবরের জরিপে ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন, টেক্সাসে জেমস তালারিকো এবং আইওয়ায় জশ টুরেক তাঁদের রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তবে আইওয়ায় ব্যবধান ছিল মাত্র দুই শতাংশ, যা জরিপের ত্রুটিসীমার মধ্যে। অন্যদিকে মেইনে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
 
প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও পেনসিলভানিয়ার কয়েকটি আসন বিশেষ নজরে রয়েছে। নিউইয়র্কের ১৭তম ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান মাইক ললারের আসন, নিউজার্সির সপ্তম ডিস্ট্রিক্টে টম কিন জুনিয়রের আসন এবং পেনসিলভানিয়ার দশম ডিস্ট্রিক্টে স্কট পেরির আসন ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য। এসব এলাকায় কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানও জাতীয় ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। ফলে নিউইয়র্ক ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ভোটও গুরুত্বপূর্ণ।
 
এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, জ্বালানি, বাড়িভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন খরচ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। রয়টার্সের জরিপে ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় ভুল দিকে এগোচ্ছে। অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর ৩৭ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ওপর ৩৩ শতাংশ আস্থা প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। রিপাবলিকানরা করছাড়, ব্যবসায় বিনিয়োগ ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনীতি শক্তিশালী করার কথা বলছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের দাবি, বর্তমান প্রশাসনের নীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে।
 
ইরান যুদ্ধও নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দিলেও সমালোচকেরা বিদেশে সামরিক সংঘাতের বিপুল ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৬২টি নির্বাচনের মধ্যে ৪১টিতে রিপাবলিকান প্রার্থীরা ট্রাম্পের অবস্থান থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন অথবা তাঁর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক কম গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন।
 
এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টির বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম মনে করেন, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান শক্তিশালী হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইলেই যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন সহজে নিতে পারবেন না। সামরিক ব্যয় তখন আরও কঠোর পর্যালোচনার মুখে পড়বে। তিনি আশা করেন, বিদেশে যুদ্ধের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে সেই অর্থের একটি অংশ দেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে, যা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য মঙ্গলজনক। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালেই যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ হবে বা সেই অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশের উন্নয়নে ব্যয় হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
 
নির্বাচনী প্রচারণায় বিপুল অর্থের প্রভাবও আলোচনায় রয়েছে। ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলো সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে প্রায় ২৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার ব্যয়ের তথ্য দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষেও বড় দাতা ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোও প্রায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার খরচ করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এসব অর্থ সরকারি করের অর্থ নয়। তবে বড় দাতাদের আর্থিক প্রভাব ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
 
ভোটাধিকার ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়েও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভোটার তালিকা যাচাই এবং অনাগরিকদের ভোটদান প্রতিরোধের ওপর জোর দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে অনাগরিকদের ভোট দেওয়া বেআইনি। তবে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই চালালে বৈধ ভোটাররাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজারের বেশি ভোটারকে সম্ভাব্য অনাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের ব্যালট আলাদা রাখার প্রশাসনিক আবেদন ফেডারেল আপিল আদালতে বাধার মুখে পড়েছে। এই বিরোধ নির্বাচনী ব্যবস্থায় অঙ্গরাজ্যের কর্তৃত্ব ও ফেডারেল সরকারের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
 
ভোটকেন্দ্রে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসের সদস্যদের উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রে ব্যাপকভাবে এজেন্ট মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে অভিবাসন অভিযান নিয়ে আতঙ্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে বৈধ ভোটারদের একটি অংশ ভোটদানে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় ভোটারদের জন্য সত্য-মিথ্যা যাচাই করাও কঠিন হয়ে উঠছে।
 
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় টেক্সাসে আগাম ভোট ৭৪ শতাংশ এবং কানসাসে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইয়োতেও আগাম ভোটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আগাম ভোটের সংখ্যা বৃদ্ধি কোনো দলের নিশ্চিত জয়ের প্রমাণ নয়। প্রকৃত ফলাফল নির্ভর করবে মোট ভোটার উপস্থিতি, স্বতন্ত্র ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার ভোট গণনার ওপর।
 
বাংলাদেশি-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর জন্যও নির্বাচনটি গুরুত্বপূর্ণ। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পরিচয়দানকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় তিন লাখ। তাঁদের বড় অংশ নিউইয়র্ক, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউজার্সিতে বসবাস করেন। প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশি অভিবাসী স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। তবে এই জনগোষ্ঠীর সবাই ভোটার নন; ভোট দিতে নাগরিকত্ব, বয়স ও অন্যান্য আইনগত শর্ত পূরণ করতে হয়।
 
প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন এবং বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, অভিবাসন অভিযান এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নাসাউ কাউন্টির বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অনেকেই আশা করছেন, নির্বাচনের পর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান শক্তিশালী হলে অভিবাসনসংক্রান্ত কিছু জটিলতা নিরসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক মতামত এক নয়। রিপাবলিকানদের মধ্যেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সমর্থক রয়েছেন, যাঁরা করনীতি, ব্যবসা ও সীমান্ত নিরাপত্তার মতো বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেন। একইভাবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের শক্তি বাড়লেও অভিবাসননীতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন নিশ্চিত নয়।
 
বাংলাদেশের জন্যও নির্বাচনের পরোক্ষ গুরুত্ব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভারসাম্য বাণিজ্যনীতি, শুল্ক, বৈদেশিক সহায়তা, অভিবাসন আইন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ওয়াশিংটনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্বাচনের ফল বদলালেই এসব নীতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে না।
 
নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের আগামী দুই বছরের রাজনৈতিক পথও নির্ধারণ করবে। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ধরে রাখতে পারলে প্রশাসনের আইন ও বাজেটসংক্রান্ত উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে সরকারি ব্যয়, সামরিক অর্থায়ন, অভিবাসননীতি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত ও নজরদারি বাড়াতে পারবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলালে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও নতুন রাজনৈতিক বাধা তৈরি হতে পারে।
 
 ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি, অভিবাসনব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির এক বড় পরীক্ষা। সর্বশেষ জরিপে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ভোটাররাই। আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন জনগণ শুধু কংগ্রেসের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন না, ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাও অনেকাংশে নির্ধারণ করবেন। এখন দেখার বিষয়, ভোটাররা বর্তমান প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখবেন, নাকি কংগ্রেসে নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেবেন।

অভিমত থেকে আরো পড়ুন